Face App নিয়ে কিছু কথা……

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০
বর্তমানে একটি বিষয় লক্ষ করা যাচ্ছে যে, ফটোল্যাব দিয়ে নিজের সুন্দর চেহারাকে সাপের মতো পেঁচানো অদ্ভুত আকার বানিয়ে আল্লাহ দেওয়া সুন্দর চেহারা পরিবর্তন করে ফেইসবুকে অনেকে পোস্ট দিচ্ছে। কিন্তু সকলের জানা উচিত সাপের মতো চেহারা ধারন করা শয়তান বেশি পছন্দ করে।
মহান স্রষ্টার দেওয়া সৌন্দর্যের পরিবর্তন করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয় না বরং স্রষ্টার প্রতি অবজ্ঞা অকৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
এবং আপনার চিন্তা চেতনা মানবিক বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মানবিক হীনমন্যতা আর বিজ্ঞতা দারুণ ভাবে প্রশ্নবিদ্ব হয়।
কিছুদিন ধরেই প্রযুক্তির নামে এক নতুন ফিতনাহের আবির্ভাব হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জগতে। এই ফিতনাহটির নাম হচ্ছে Face App! এই অ্যাপ এর মাধ্যমে আজকাল মানুষ নাকি ৫০/৬০ বছর পর তাদের চেহারা সুরত কেমন হবে তা দেখতে পাচ্ছে। এডিট করে নিজেদের সুন্দর চেহারাগুলিকে বুড়োদের চেহারা বানিয়ে দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ।
মুলত তাদের এ কাজটি মূর্খতার শামীল এবং এর মাধ্যমে তারা দুটি জিনিসের চর্চা করছে।
১. জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা। জোতিষী যেমন ধোকা এবং কৌশলের আশ্র‍য় নিয়ে আপনার মিথ্যা ভবিষ্যতবাণী করে থাকে। সেরকমভাবে এই অ্যাপটিও একটি যান্ত্রিক কৌশলের আশ্র‍য় নিয়ে আপনার ভবিষ্যত রুপ প্রদর্শন করছে। নাউযুবিল্লাহ। আপনি কি জানেন ভবিষ্যতে আপনার চেহারাটি দেখতে কেমন হবে? তারচেয়ে বড় কথা আপনি কিভাবে সিউর হচ্ছেন যে আপনি ৫০/৬০ বছর বাঁঁচবেন!? বা আপনি কিভাবে সিউর হচ্ছেন যে আপনি বুড়ো হয়েই মারা যাবেন?! আপনি কি গায়েবের খবর রাখেন?! কখনোই না। ফেস অ্যাপের আবিষ্কারক কখনোই গায়েবের খবর রাখেনা। আল্লাহর বাণী অস্বিকারকারীদের আল্লাহ তায়ালা বলছেন, “নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে তারা তা লিপিবদ্ধ করছে!?” – [তুর ৪১]
কখনোই না! অদৃশ্যের জ্ঞান বা গায়েবের খবর একমাত্র আমার আপনার প্রতিপালক আল্লাহ জানেন। একমাত্র তিনিই জানেন আপনার আজকের এই সুন্দর সুরত কাল কেমন হবে! একমাত্র তিনিই জানেন আপনি বুড়ো হয়ে মারা যাবেন নাকি যুবক অবস্থাতেই মারা যাবেন। একমাত্র তিনিই নির্ধারণ করেন আপনার জন্ম-মৃত্যু! আল্লাহ তায়ালা বলেন,
» ﻗﻞ ﻻ ﻳﻌﻠﻢ ﻣﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤٰﻮٰﺕ ﻭﺍﻷﺭﺽ ﺍﻟﻐﻴﺐ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ «
“বলুন, আসমান এবং যমীনে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না (এক) আল্লাহ ছাড়া” – [নামল ৬৫]
২. মৃত্যুর স্বরণ থেকে উদাসীন হওয়ার চর্চা। নিঃসন্দেহে এই অ্যাপটির মুল উদ্দেশ্য গুলোর একটি হচ্ছে মানুষকে মৃত্যুর স্বরণ থেকে গাফেল বা উদাসীন রাখা। একটা মানুষ কিভাবে নিশ্চিন্তে নিজেরে চেহারা সুরত এডিট করে বুড়ো বানিয়ে দিচ্ছে আর কল্পনা করছে আহা আমি কত দীর্ঘ দিন বাঁঁচবো! আমাকে বুড়ো অবস্থায় কেমন দেখাবে! আহা কি তার পরিকল্পনা! দুনিয়ার মায়াই সে এতটাই জড়িয়ে পড়েছে যে মৃত্যুকেই সে ভুলে বসেছে। অথচ মৃত্যু তার আজও হতে পারে সে ব্যাপারে সে পুরাপুরি উদাসীন। সে স্বপ্ন দেখছে ৫০/৬০ বছর বাঁচার। নিঃসন্দেহে এটি দুনিয়াকে অতিরিক্ত ভালবাসারই একটি সুস্পষ্ট নমুনা। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
» ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﺴﺘﺤﺒﻮﻥ ﺍﻟﺤﻴﺎﺓ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻵﺧﺮﺓ ﻭﻳﺼﺪﻭﻥ ﻋﻦ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻳﺒﻐﻮﻧﻬﺎ ﻋﻮﺟﺎ ﺍﻭﻟٰﺌﻚ ﻓﻲ ﺿﻼﻝ ﺑﻌﻴﺪ «
“যারা আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জিন্দিগীকে বেশি ভালবাসে, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বিরত রাখে আর তাতে বক্রতা আনার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। এরা গোমরাহীতে বহু দূরে চলে গেছে।”
আল্লাহ আমাদেরকে গোমরাহী থেকে ফিরিয়ে আনুন এবং সঠিক পথ দেখান। আমিন।
⁦ ⁩ আসুন সতর্ক হই। Face App বা এযাতীয় অ্যাপ ব্যবহার করে নিজেদের সুন্দর চেহারাগুলিকে বিকৃত করা কিংবা বুড়ো বানানো থেকে বিরত থাকি। ভবিষ্যতের জ্ঞান এক আল্লাহর কাছেই তা বিশ্বাস করি। এক আল্লাহকে ভয় করি। এবং মৃত্যুর কথা স্বরণ করি। মৃত্যুর কথা স্বরণ করে আখেরাতের জন্য বেশি বেশি আমল করি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
আমিন।
জিয়া উদ্দিন ইমন, ঢাকা