কবিতা: আসতো যদি ফিরে

প্রকাশিত: ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০২২

আসতো যদি ফিরে

—মোঃ হারুনুর রশীদ

 

ইচ্ছে করে শহর ছাড়ি-যাই ফিরে মোর গাঁয়,

চড়বো আবার গরুর গাড়ি-উঠবো আবার নায়।

কলা গাছের ভেলা বানাই -ইচ্ছে জাগে আজ,

বিলের মাঝে বরশি দিয়ে –ধরি পুঁটি মাছ।

 

প্রখর রোদে আকাশ পানে-উড়াই রঙিন ঘুড়ি,

এ মাঠ ও মাঠ ছুড়ে বেড়াই- ঘুড়ির লাটাই ধরি।

ভোর না হতেই যাই ছুটিয়া-গরুর রশি ধরি,

সবুজ মাঠে চড়াই গরু- কুয়াশা ভেদ করি।

 

গাঁয়ের সকল ছেলে মেয়ে- বিকেল হলে পরে,

আসতো সবাই খেলার মাঠে- থাকতো না কেউ ঘরে।

ছেলে মেয়ে নেই ভেদাভেদ-সবাই মিলে মিশে,

গোল্লাছুট আর দাড়িয়াবান্দা-খেলছি বাড়ির পিছে।

 

ইচ্ছে করে ঝড় আসিলে- সবাই মজা করি,

দৌড়ে গিয়ে সবার আগে- পাকা আমটি ধরি।

হঠাৎ যদি মোর পাড়াতে-আসতো ইটের গাড়ী,

বন্ধুরা সব ঝুলতাম সেথা- গাড়ির পিছন ধরি।

 

খাওয়ার বেলায় ভাই বোনেরা-জেদাজেদি করি,

মাছের লেজটি পাওয়ার তরে-করতাম মারামারি।

এই না দেখে রেগে মায়ে- আমাদের হাব-ভাব,

সবার গালে সোহাগ করে- দিত ধাপাধাপ।

 

কারো গাছে আম পাকিলে- চুপটি করে উঠে,

পাকা আমটি খেতাম পেরে- যেন তৃপ্তি মিটে।

কারো আবার বড়ই গাছে- উঠে দিতাম নাড়া,

কাঁচা-পাকা বড়ই পড়ে- হইতো যেন সাড়া।

 

কেউ বা আবার ভয় দেখিয়ে- বলতো বিচার হবে,

মুরুব্বীরা বলতো হেসে- ছোটরাইতো খাবে।

গাঁয়ের সকল মুরুব্বীরা- আজকে মাটির তলে,

দোয়া করি তাদের ভাগ্যে- যেন বেহেস্ত মিলে।

 

স্কুল মাঠে বসতো মেলা- নানান খেলার পরে,

টাকার আশায় গুন-গুনাইতাম-মায়ের আঁচল ধরে।

দু-চার টাকা দিলে পরে- আনন্দ না ধরে,

পঞ্চাশ পয়সায় খাইতাম শরবত-তৃপ্তি সহকারে।

 

গাঁয়ের সে সব খেলার সাথি- আজকে কোথায় তারা?

যাদের সাথে মিলে মিশে- জাগিয়া রাখিতাম পাড়া।

যাদের সাথে খেলেছি খেলা- সারা দিনমান ধরে,

হয়তো তারা ভুলেছে আজ- আমায় চিরতরে।

 

এমন রঙিন দিনগুলো মোর- আসতো যদি ফিরে,

সব ছাড়িয়া যাইতাম আবার- গাঁয়ের পথটি ধরে।

খালি পায়ে হাটবো আবার- সেই সে দূরের গাঁয়,

সবুজ আঁচল ছড়িয়ে যেথা-স্নেহ মায়া মমতায়।

 


Categories