তাহিরপুরে ভূয়া এনজিও কর্মী সন্ধেহে ৩ প্রতারককে পুলিশে দিল চেয়ারম্যান। 

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২১
সোহেল আহমদ সাজু -তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।

তাহিরপুরে ভূয়া এনজিও কর্মী সন্ধেহে ৩ প্রতারককে পুলিশে দিল চেয়ারম্যান। 

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের এক এনজিও’র ৩ এনজিও কর্মীকে ভূয়া সন্ধেহে পুলিশে দিল বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন।
পুলিশের হাতে আটক চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ৩ এনজিওকর্মী হলো,  বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আবু হোসেনের ছেলে এস এম মনিরুউজ্জামান, গাজীপুর জেলার গোদা উপজেলার দক্ষিণ খাইলকুর গ্রামের রমেশ চন্দ্রের ছেলে সুজন সিকদার ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা কাজলা হাঠি গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে মাসুদ মিয়া।
চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের এনজিও ভূয়া সন্ধেহ হলে মাঠকর্মী ও ভুক্তভোগী প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন কে সাথে নিয়ে আজ (১২ ডিসেম্বর রবিবার)  বিকাল ৫ টার সময় তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামে তাদের অফিসে যায়। পরে চেয়ারম্যান এনজিও  কর্মকর্তাদের কথাবার্তায় সন্ধেহ হলে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে ওই ৩ ভূয়া এনজিও কর্মকর্তাকে আটক করে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
পুলিশ ভুক্তভোগী সূত্রে জানাযায়,  প্রধান কার্যালয় ঠুলঠুলিয়া,ডেমরা-ঢাকা ও গভঃ রেজিঃ নং-৬০৫৭(৩০১)/ ২০০৫ ইং এর চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের একটি এনজিও ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের কয়েল মিয়া বাড়িতে অফিস ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।
এনজিও চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি প্রথম তাদের মাঠকর্মী নিয়োগের কথা বলে ৯৫০০ টাকা বেতনের লোভ দেখিয়ে ২২ জনের কাছ থেকে ২২০০ টাকা করে নিয়োগ দিয়ে ৪৮ হাজার ৪ শত টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে তাদের নিয়োগ দেয়া মাঠকর্মীদের দিয়ে বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ, বাদাঘাট, মোল্লাপাড়া ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শিমুলতলা, গুঠিলা, বারহাল সহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রায় অর্ধসহস্রাধিক পরিবারের দরিদ্র পুরুষ ও মহিলাদেকে বিনামূল্যে রেশন, ঋণ দেয়া সহ বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে প্রথমে সদস্য ভর্তী ফরম বাবদ ৪১৪ জনের কাছ থেকে ১৩০ টাকা করে ৫৩ হাজার ৮২০ টাকা এবং ২০ কেজি, ২ কেজি আটা ও ২ কেজি তেল দেয়ার কথা বলে আরও ২৮ জনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে ২৮ হাজার টাকা সহ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। কিন্তু স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ টাকার পরিমাণ ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা এই এনজিওকর্মীরা।
পরে গত বেশ কয়েকদিন ধরে চলনবিল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তাদের আচার আচরণ ও গতিবিধি সন্ধেহে মাঠকর্মী ও ভুক্তভোগী প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিনকে জানালে আজ (১২ ডিসেম্বর রবিবার)  বিকাল ৫ টার সময় চেয়ারম্যান ও তাহিরপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনতা সহ ভুক্তভোগীদের সাতগে ওই ৩ ভূয়া এনজিও কর্মকর্তাকে আটক করে পুলিশে হাতে তুলে দেন।
এ ব্যাপারে বাদাঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন,  ভুক্তভোগী সহ স্থানীয় এলাকাবাসী আমাকে জানালে আমি প্রথমে ইউএনও ও ওসি কে বিষয়টি অবিহিত করি।  পরে আজ পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে তাদের আটক করে পুলিশে দেই।
বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই জয়নাল আবেদীন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুয়া সন্ধেহে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগীরা  তাদের আটক করে পুলিশে দেয়।
এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।  প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দেখাতে না পারলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Categories