বাইশ কোটি টাকায় কক্সবাজার হাসপাতালে এনেক্স ভবন নিমার্ণ করবে UNHCR

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০
আবদুল মান্নান, কক্সবাজার।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বর্ধিত ভবন (এনেক্স ভবন) নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ উদ্বাস্তু বিষয়ক হাই কমিশন (UNHCR)। জেলা সদর হাসপাতালের উত্তর পার্শ্বের খালি জমিতে দশ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বহুমুখী অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত এই এনেক্স ভবনটি স্থাপন করা হবে।
 প্রায় ২২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে আপাতত ১০তলা ফাউন্ডেশনের ৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করে দেবে UNHCR। তবে ভূমির মালিকানা জটিলতায় ১০তলা বিশিষ্ট প্রস্তাবিত ভবনটির ভূমি ব্যবহার, নকসা, ডিজাইন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন না হওয়ায় প্রস্তাবিত ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্ভরযোগ্য সুত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালে ক্রমবর্ধমান রোগি বৃদ্ধির কথা চিন্তা করে প্রায় ২বছর আগে থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ও কক্সবাজার আরআরআরসি অফিস কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের বর্তমান মূল ভবনের পাশে একটি নতুন ভবণ নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসাবে সরকারি সংস্থা গুলো কক্সবাজার UNHCR কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালের পরিত্যক্ত খোলা জায়গায় আরেকটি বর্ধিত ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার অনুরোধ জানায়।
কক্সবাজার UNHCR কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ইতিবাচক হিসাবে গ্রহণ করে ১০তলা বিশিষ্ট একটি বর্ধিত ভবনের ডিজাইন করে অনুমোদনের জন্য কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(কউক) কাছে আরআরআরসি অফিসের মাধ্যমে জমা দেন। কিন্তু ডিজাইনের সাথে উক্ত জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র কউকে জমা দিতে পারে নি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে কউক ভূমি ব্যবহার করার কোন অনুমতি দিতে পারছেনা।
কউক চেয়ারম্যান লে:কর্নেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ আহমেদ বলেন, হাসপাতালের উন্নয়ন হল সর্বোচ্চ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন।ভবনের ডিজাইন ড্রইং এর সাথে জমির মালিকানার কোন কাগজপত্র সাবমিট করা হয়নি। নূন্যতম জমির মালিকানা সাবমিট করা হলে দেড় বছর আগে ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া যেত‌। এটি অনুমোদন দেওয়ার জন্য কউক অপেক্ষায় আছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নতুন তত্বাবধায়ক ডা. জাকির হোসেন খান বলেন, হাসপাতালে রোগী সংকুলান হচ্ছেনা। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় রোগির কারণে হাসপাতালের ত্রাহি অবস্থা। ৬১ জন চিকিৎসকের পদে এখন মাত্র ৪১ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের সকলের হাসপাতালে বসার ঠিকমতো জায়গা নেই।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে এখন প্রতিদিন ৪ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। এমতাবস্থায় একটি নতুন ভবন খুবই দরকার।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র তিনি অনেক খুঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে তিনি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্রের সংকটের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন খুবই আন্তরিক। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানে কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানান ঐ কর্মকর্তা।
সুত্রে জানা যায়,ভূমি ব্যবহারের অনুমতি ও ডিজাইন ড্রইং কউক থেকে অনুমোদন পেলেই মানসম্পন্ন অত্যাধুনিক বহুমুখি সুবিধা সম্বলিত প্রস্তাবিত বর্ধিত ভবনটি নির্মাণ কাজ শুরু হবে। প্রায় ২২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে প্রস্তাবিত এনেক্স ভবনটিতে একাধিক লিফট, র‍্যাম সহ জাতীয় মানের সকল সুবিধাদি রাখা হয়েছে। এনেক্স ভবনটি নির্মাণের পর UNHCR নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সহ সবকিছু সরবরাহ দেবে বলে সুত্রগুলো নিশ্চিত করেন। বর্তমান মসজিদ ও পার্কিং ব্যবস্থা সহ সুবিধাদি বহাল রেখে প্রস্তাবিত এনেক্স ভবনটি নির্মাণ করা হবে জানান সুত্রটি।
ইতিপূর্বে, প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয় করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে UNHCR কর্তৃপক্ষ ১০বেডের ICU এবং ৮বেডের HDU নির্মাণ করে দেয়। প্রতিমাসে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এগুলোর চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় সহ জনবল ও ব্যবস্থাপনার খরচ নিয়মিত বহন করছে UNHCR। তাছাড়া ইউনিসেফ (জাতিসংঘ শিশু বিষয়ক সংস্থা) ৫৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট নির্মাণ করে দিয়েছে।

Categories