৫০ শতাংশ প্রভাষককে পদোন্নতি নিয়ে আলোচনা, শিক্ষক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত: ১:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২০

সোমবার (১০ আগস্ট) এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনী চূড়ান্তকরণের ভার্চুয়াল সভা শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত  সভায় প্রভাষকদের পদোন্নতিতে প্রচলিত  অনুপাত প্রথা(৫:২) বাতিল করে অর্ধেক প্রভাষককে পদোন্নতি দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ অনুপাত ২ বা প্রতি ৭জন প্রভাষকের মধ্য থেকে ২ জনকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়ার বিধান বাতিল করা হচ্ছে। এর বদলে  অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ (১:১) প্রভাষককে পদোন্নতি দেয়া হবে। নীতিমালা সংশোধনী চূড়ান্তকরণের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে নীতিমালা সংশোধন কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সূত্র  আরও জানায়, শুধু চাকরির সময়কাল নয়, এর সাথে অন্যান্য দক্ষতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করে অর্ধেক প্রভাষকরা পদোন্নতি পাবেন এ বিষয়টি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

এ ভার্চুয়াল সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেনসহ এমপিও নীতিমালা সংশোধন চূড়ান্তকরণ কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় এমপিও নীতিমালা সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং নীতিমালা সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক মোমিনুর রশিদ আমিন।

কলেজের প্রভাষকরা দীর্ঘদিন যাবত অনুপাত প্রথা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অনুপাত প্রথা বাতিলের দাবিতে ভার্চুয়াল সভা ও বিভিন্ন লাইভ প্রোগ্রাম করে যাচ্ছে অনেক শিক্ষক সংগঠন।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল ইসলাম মাসুদ বলেন, কোন ধরণের অনুপাত নয়  ; বেসরকারি প্রভাষকদের নির্দিষ্ট সময় পরে সরকারি নিয়মে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে হবে এবং সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃজন করে বেসরকারি শিক্ষকদের যোগ্য মর্যাদা প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব জি.এম.শাওন বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুপাত বাতিল সহ দশ দফা দাবি সম্বলিত সুপারিশমালা অনেক আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনুপাত কিংবা শতাংশ নয় বরং অনুপাত প্রথা বিলুপ্ত করে সকল প্রভাষককে চাকুরির ৮ বছর পূর্তিতে নিঃশর্ত পদোন্নতি দিতে হবে। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় উৎসাহিত করতে এবং  শিক্ষাক্ষেত্রে  সকল বৈষম্য দূর করতে শিক্ষাব্যাবস্থা জাতীয়করণ করতে হবে।

কলেজ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি জ্যোতিষ মজুমদার বলেন, অনুপাত প্রথা নিয়ে আলোচনা করায় মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অশেষ ধন্যবাদ। এমপিও নীতিমালা ২০১৮ প্রকাশিত হওয়ার পর সর্বপ্রথম শাহজালাল ও শ্রীচৈতন্যের পূণ্যভূমি সিলেট থেকে আন্দোলন শুরু করি। আমরাএ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, মন্ত্রণালযয়ে যোগাযোগ সহ বিভিন্ন  কর্মসূচী পালন করেছি। তবে আমাদের দাবি হচ্ছে অনুপাত প্রথা সম্পুর্ন রুপে বাতিল করে সকল প্রভাষককে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিতে হবে। তিনি বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মুজাম্মিল আলী  বলেন, অনুপাত থেকে শতাংশ এ যেন পুরাতন বোতলে নতুন মদ। তিনি বলেন, প্রভাষকদের পদোন্নতিতে কোনরুপ বৈষম্য থাকা উচিত নয় ।

পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের প্রধান সমন্বয়কারী জহিরুল ইসলাম বলেন, ৫:২ হোক আর ৫০% ই হোক দুটোই অনুপাত। এতে ৫০% সৌভাগ্যবান প্রভাষক লাভবান হলেও অবশিষ্ট ৫০% প্রভাষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।  আমরা দীর্ঘদিন যাবত অনুপাত প্রথা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। করোনা কালে আমরা ভার্চুয়াল সভা, ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন সহ নিয়মিত লাইভ প্রোগ্রাম করে যাচ্ছি। আমাদের  দাবি হলো সকল প্রভাষককে পদোন্নতি দিতে হবে।অন্যথায় পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের মুখপাত্র এম.এ.মতিন বলেন, বর্তমান নীতিমালায় প্রভাষকদের ১০ বছরে ৮ম গ্রেড তথা মাত্র এক হাজার টাকা বৃদ্ধি অত্যন্ত অযৌক্তিক ও অমানবিক। অবিলম্বে এ বিধান বাতিল করতে হবে।  যোগ্যতা , অভিজ্ঞতা, গবেষণা কিংবা বিভাগীয় পরীক্ষা গ্রহণ সাপেক্ষে প্রভাষকদের ধাপে ধাপে সহকারী অধ্যাপক,সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে হবে।


Categories