২৫ হাজার পাটকল শ্রমিককে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে’ পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ১:১২ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০
সরকার  ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে’ (স্বেচ্ছা অবসরে) পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর প্রায় পঁচিশ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে ।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী রোববার ২৮ জুন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, পাটকলগুলোতে লোকসান হচ্ছে, এ জন্য সরকার চিন্তা করেছে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিয়ে এই খাতকে এগিয়ে নিতে।

বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, পাটকলগুলোতে ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের চাকরির অবসান করতে।
পাটমন্ত্রী বলেন, পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়ার পর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে পাটকলগুলোকে আধুনিকায়ন করে উৎপাদনমুখী করা হবে। তখন এসব শ্রমিক সেখানে চাকরি করার সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রী জানান, ২০১৪ সাল হতে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের (৮,৯৫৪ জন) প্রাপ্য সব বকেয়া, বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের (২৪ হাজার ৮৮৬ জন) প্রাপ্য বকেয়া মজুরি, শ্রমিকদের পিএফ জমা, গ্র্যাচুইটি এবং সে সাথে গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ হারে অবসায়ন সুবিধা একসাথে শতভাগ পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারি বাজেট হতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হবে।

অবসায়নের পর মিলগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে পিপিপি বা যৌথ উদ্যোগ বা জি টু জি বা লীজ মডেলে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে। নতুন মডেলে পুনঃচালুকৃত মিলে অবসায়নকৃত বর্তমান শ্রমিকেরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবে। একই সাথে এসব মিলে নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে বিজেএমসির আওতায় পাটকল রয়েছে ২৬টি। এর মধ্যে একটি (মনোয়ার জুট মিল) বন্ধ রয়েছে। পাটকলগুলোতে বর্তমানে স্থায়ী শ্রমিক আছেন ২৪ হাজার ৮৬৬ জন। এছাড়া তালিকাভুক্ত বদলি ও দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। বেসরকারি খাতের পাটকলগুলো লাভ করলেও নানা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে বছরের পর বছর লোকসান গুনছে সরকারি পাটকলগুলো।

লোকসানে থাকা পাটকলগুলোর অর্থায়নের বিষয়ে গত বছরের ১৪ মে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে গত ১০ বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। পাটকলে আর কতদিন অর্থায়ন করব? গত ১০ বছরে তো আমরা ৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। এটা অনেক বড় টাকা।

মন্ত্রণালয়ের সবশেষ এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরণ অনশনের হুমকি দিয়েছেন খুলনা অঞ্চলের পাটকল শ্রমিকরা। এর আগে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন শ্রমিকরা।


Categories