“১৯৯৯’ র দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রহস্য লুকিয়ে ছিল আলমারিতেই”

প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

ভালবাসা একেই বলে।  প্রেম মানে না কোন বাধা, মানে না  কোন শাসন। থাক না নিষেধাজ্ঞা, থাক না ধরা পড়ার ঝুঁকি। তবু ভালবাসার স্ত্রী’কে কাছছাড়া করা যাবে না।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে (World Cup)  আসরে স্ত্রীকে নিয়ে এক অজানা কথা শেয়ার করলেন সাকলাইন। ক্রিকইনফোর সাংবাদিক রওনক কাপুরের ‘বিঅন্ড দ্য ফিল্ড’-এ সাক্ষাৎকারের সময় তা তুলে ধরেন সাবেক

তারকা এই অফস্পিনার।

কথা হচ্ছে প্রাক্তন পাকিস্তানি স্পিনার সাকলাইন মুসতাককে  নিয়ে। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে (World Cup) তিনি নাকি নিজের স্ত্রী’কে হোটেল রুমের আলমারিতে লুকিয়ে রাখতেন। আসলে সেসময় পাকিস্তানী ক্রিকেটাররা স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের বিদেশ সফরের সময় সঙ্গে রাখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু সাকলাইন মুসতাক সদ্য বিয়ে করেছেন। তাই তিনি স্ত্রীকে এক মুহূর্তের জন্যও দূরে রাখতে চাইতেন না। তাই বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে লুকিয়ে রাখতে হত আলমারির ভিতরে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি স্পিনার বলছিলেন, “১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আমি বিয়ে করেছি। আর ১৯৯৯ সালের শুরুর দিকেই বিশ্বকাপ খেলতে যেতে হয়। তার কিছুদিন আগেই আমি স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে শুরু করি। কারণ আমার স্ত্রী তার আগে লন্ডনে থাকত। দিনের বেলা কঠোর অনুশীলন করতাম। আর সন্ধ্যায় স্ত্রী’র সঙ্গে সময় কাটাতাম। এটাই অভ্যাস হয়ে উঠেছিল। বিশ্বকাপের মাঝপথে আমাদের জানানো হল, স্ত্রী বা পরিবারের কাউকে আর সঙ্গে রাখা যাবে না। এর ফলে নাকি মনঃসংযোগে সমস্যা হচ্ছে।  আমি এর প্রতিবাদ করেছিলাম। কোচ রিচার্ড পাইবাসকে বললাম, সব তো ঠিকঠাকই চলছিল। তাহলে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। বোর্ডের নির্দেশ প্রত্যাহার হয়নি।”

কিন্তু সেই নির্দেশ মানেননি সাকলাইন মুসতাক। লুকিয়ে স্ত্রীকে নিজের সঙ্গেই রেখে দেন তিনি। সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফদের নজর এড়াতে মাঝে মাঝেই স্ত্রীকে লুকিয়ে রাখতেন আলমারির ভিতর। পাকিস্তানের এই প্রাক্তন স্পিনার বলছিলেন, ”টিমের ম্যানেজার, কোচ ও অন্যান্য অফিশিয়ালদের স্ত্রীকে দেখে ফেলার ভয় ছিল। তাছাড়া ক্রিকেটাররাও আড্ডা দিতে আসত রুমে। আমার রুমের দরজায় টোকা পড়লেই স্ত্রীকে আলমারিতে লুকিয়ে ফেলতাম। এভাবে অনেকদিন আমার স্ত্রী আলমারিতে লুকিয়ে থেকেছে। পরে অবশ্য ধরা পড়ে যান সাকলাইন মুসতাক। আজহার মেহমুদ, মহম্মদ ইউসুফের  মতো সতীর্থরা দেখে ফেলেন সাকলাইন মুসতাকের স্ত্রী’কে। যদিও তাঁরা টিম ম্যানেজমেন্টকে এসব নিয়ে কিছুই বলেননি। উল্লেখ্য, ৯৯-এর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও গোটা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন সাকলাইন মুসতাককে নিজে।

তাই মজা করে অনেকেই  বলেন, আসলে সাকলাইন মুসতাকের ৯৯;র এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রহস্য লুকিয়ে ছিল আলমারিতেই।


Categories