১০% কর্তন বন্ধ ও অন্যান্য দাবী এবং আমাদের করনীয়।

প্রকাশিত: ১:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

 

১৯৯০ সালের ২৮ নং আইনে এবং ১৯৯৯ ইং সালের প্রবিধানমালায় কল্যাণ ট্রাস্ট  এবং ২০০২ সালের ২৭ নং আইনে ও ২০০৫ সালেন প্রবিধানমালায় অবসর সুবিধা বোর্ড  গঠন করা হয়। এই দুটি সংস্থার আর্থিক যোগান দাতা শিক্ষক কর্মচারী গণের মাসিক চাদা এবং সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান যাহার মাধ্যমে অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকগনকে অবসর ও কল্যাণ সুবিধা প্রদান করা হবে। এবং এই চাদার পরিমান (২% + ৪%) = ৬%। দীর্ঘ দিন ধরে তাই চলে আসল। কিন্তু হঠাৎ কি এমন অসুবিধা হলো যে শিক্ষক কর্মচারীদের ১০% কর্তন করতে হবে। সরকারী কর্মচারী গন কি তাদের পেনশন নিতে কোন কর্তন করেন না সরকারকে কোন টাকা দেন। বরং তাদের জি এফ ফান্ড এ তারা যে টাকা রাখেন, সেখানে সরকার ১২% সুদ দেন।

 

আমরা দীর্ঘ ১২/১৩ বছর থেকে দেখে আসছি, আমাদের পাওয়ার মধ্যে শুধুমাত্র ইনক্রিমেন্ট দিয়েছে, নাম মাত্র বাড়ী ভাড়া, ও নাম মাত্র চিকিৎসা ভাতা। কেন এই বৈষম্য্? এর অবসান হওয়া দরকার।

 

এক্ষেত্রে আমার কিছু মতামত, যারা বিভিন্ন দলে/উপদলে বিভক্ত হয়ে অনেক সংসঠন দাড় করিয়েছেন, তাদের কাছে, আশা করি অনুধাবন করবেন, এবং সকলে এক সাথে হয়ে এক প্লাটফর্ম এ এসে যুগপৎ কর্মসুচী দিবেন।

 

অবসর ও সুবিধা বোর্ডের জন্য ঃ

 

১. যদি বাংলাদেশের কোন সরকারী, বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, আধা সরকারী কোন সংস্থাই অবসর কালীন সুবিধার জন্য চাদা না দেয়, তাহলে আমরা দিব কেন? অতএব আমরা কোন চাদা দিব না। যেহেতু রাষ্ট্রের দায়িত্ব মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষন করা, এবং শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, সেহেতু এর দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হতে হবে।

কোন কর্তন নয়, প্রতিবছর বাজেটে ই আই আই এম সেল হতে তথ্য নিয়ে কত টাকা লাগতে পারে, সেই অনুযায়ী থোক বরাদ্দ থাকবে।

২. ই আই আই এম সেল হতে যেহেতু ৬০ বছর পূর্ণ হলে, আপনা আপনি একজন শিক্ষকের নাম কর্তন হয়ে যায়, সেহেতু ই আই আই এম সেল, জুলাই টু জুন হিসেব করে সরকারকে জানাবে এত জন শিক্ষক এই অর্থ বছরে অবসরে যাবেন, এবঙ তাদের জন্য এই পরিমান টাকা লাগবে।

৩. সফট ওয়ার আপডেট করে, অনলাইনে শিক্ষকগন তাদের তথ্য পূরণ করবেন, বর্তমানে যে ভাবে বৃত্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে, সেভাবেই তথ্য দিয়ে একজন শিক্ষক বাসায় বসে থেকে তার হিসেব নম্বরে টাকা পাবেন। অতএব, অবসর গ্রহন করার পর, এক গাদা কাগজ পাঠানো এবং তারপর বছরের বছরের পর অপেক্ষা কেন?

৪. একজন শিক্ষক যখন চাকুরি করেন, তিনি মিনিস্টারি অডিট এর মুখোমুখি হন। তিনি দীর্ঘদিন একই পদে চাকুরি করে আবার তাকে যাচাই করতে হবে, তিনি চাকুরি করেছেন, কোথায় কোথায় করেছেন, এ কেমন হয়রানি। এটার আদ্যে দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।

৫. অটোমেশন পদ্ধতি অনুসরন করতে হবে। এখানে অবসর সুবিধা  ও কল্যাণ নামের এই দুটি অফিসের আর কোন দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।

৬. এ পর্য্ন্ত যারা কল্যান ও অবসরে বোর্ডেচাদা দিয়েছেন, তাদের টাকা সুদ সহ ফেরত দিতে হবে।

 

এখন আসি অন্যান্য দাবী নিয়ে ঃ

১. বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন পিয়ন থেকে শুরু করে উচু স্তরের একজন (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, প্রধানশিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহাকরী শিক্ষক, অফিস সহকারী) সকলের বাড়ী ভাড়া ১০০০/= টাকা।এই বাড়ী ভাড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সরকার যদি এখন ৪৫% বাড়ী ভাড়া দিতে না পারে, তাহলে তিন অর্থবছরে ( অর্থাৎ প্রথম অর্থবছরে ২০%, পরের অর্থ বছরে ১৫%, এবং তারপরের অর্থ বছরে ১০% ) দিয়ে সমম্নয় করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকার বা রাষ্টের সদইচ্ছা থাকতে হবে। মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এর বিকল্প ভাবা আর অন্ধকারে বাস করা একই কথা বা অলীক স্বপ্ন দেখা। এটা কোন নিয়মের মধ্যে পড়ে, আমার জানা নেই। এর আশু সমাধান জরুরী। এই ব্যাপারে আমাদের আর এখন চুপ থাকা যাবে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে অনেক সভা, মিটিং, স্বারকলিপি দিয়েছে, তার কোন কাজ হয়নি। এখনও কি আমরা স্বারক লিপি দিব, না অন্য কিছু করব? এটা ভেবে দেখা দরকার।

২. সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীগন ১৫০০/= চিকিৎসা ভাতা পান, বেসরকারী শিক্ষকগন ৫০০/= টাকা পান। এটা একটি স্বাধীনদেশে কি করে সম্ভব। অতএব বেসরকারী শিক্ষকগন ও ১৫০০/= টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।

৩.সরকারী শিক্ষকগণ যে ভাবে বা যে ফিকসেশনে উচ্চতর গ্রেড পাবেন, বেসরকারী শিক্ষকগণ ও একই ফিকছেশনে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত হবেন। এখানে কোন আইন বা নীতিমালার দরকার নেই। নীতিমালা হবে, সরকারীরাও যে ভাবে পাবেন, বেসরকারীরাও সেভাবে পাবেন। দুই রকম নীতিমালা হলে, আমরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৎ সন্তান। আমাদের কোন মুল্যায়ন নেই।

৪. সরকারী হাই স্কুল তথা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী গন যে ভাবে তিন বছর (৩) পর পর রিক্রিয়েশন ভাতা বা শ্রান্তিবিনোদন ভাতা পান, আমাদের ও সেভাবে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদান করতে হবে।

৫. সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীগনের মত শতভাগ বোনাস দিতে হবে।

 

আমাদের করণীয় ঃ

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিস স্যার আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্বাধীনতা স্বপক্ষ শক্তি দাড় করিয়ে অনেক সংগঠন দাড় করিয়েছেন। আমার তো মনে এত বেশী সংগঠন হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।  তাই দাবী যদি এই গুলি হয়, তাহলে আসুন না আমরা একই ছায়াতলে এসে সৎ, যোগ্য, সাহসী, ত্যাগী, অকুতোভয় একজন নেতার ছায়াতলে সমবেত হয়ে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলি। সিদ্ধান্ত গ্রহন করে, তার অধীনে থাকব। তার কিছু হলে আমরা পিছ পা দিব না। একজন শিক্ষক আক্রান্ত হলে সকল শিক্ষক আক্রান্ত হবে। এই নীতি অবলম্বন করে আমরা কি আসতে পারি না।

এই করোনা ক্রান্তিকালে, কার কাছে যাবেন। সকল শিক্ষক সংগঠন, আভ্যান্তরীন মিটিং করে সিদ্ধান্তে আসেন। তার পর কর্মসুচি ঘোষনা করেন। একা একা কোন সংগঠন আসলে কাজ হবে না। শিক্ষক আর কাউকে বিশ্বাস করে না।

সকল সংগঠন এক কাতারে আসেন। আগামী এস এস সি ও জে এস সি পরীক্ষার সকল দায়িত্ব বর্জন করন, দরকার হলে ২০২১ সালে ক্লাস বর্জন, ইত্যাদি করতে পারলে দাবী আদায় ১৫ দিনে হবে। আর যদি করতে না পারেন, তাহলে শিক্ষকদের নিয়ে এই চল চাতুরি খেলা বন্ধ করেন।

মোঃ আখতারুজ্জামান,

সহকারী প্রধান শিক্ষক,

গজঘন্টা হাই স্কুর ও কলেজ,

গংগাচড়া, রংপুর।

মতামতের জন্য কতৃপক্ষ দায়ী নহে।এখানে লেখক একান্তই নিজের মতামত উপস্হাপন করেছেন।