স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চাই

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে দেশে সবচেয়ে বেসামাল স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি সামাল দিতে প্রয়োজন স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে নিয়ে নেয়া। যদি তা সম্ভব না হয় তবে একজন চিকিৎসক বা একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া এবং একজন শিক্ষাবিদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া। একজন ডাক্তার যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং / শিক্ষা বিভাগ বুঝেননা তেমনি একজন ইঞ্জিনিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় বুঝবেননা। করোনা পরিস্থিতিতে একজন ডাক্তারকে হাসপাতালে চিকিৎসার দায়িত্বে পাঠালেই ভালো হয়। একইভাবে একজন সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যাক্তি কখনোই টেকনিক্যাল বিষয়ের জটিল পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন সুষ্ঠুভাবে করতে পারেননা পারার কথাও নয়। আমলারা তাদের যেমনে বুঝান তারা তেমনি বুঝেন। যিনি পিপিই আর ভেন্টিলেটর বুঝেননা তার কথা আর কি বলবো!
করোনায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একেরপর এক বেসরকারি স্কুল। স্কুল বিক্রি হয় এর আগে কখনো শুনি নাই যা এখন হচ্ছে।

এমপিওভূক্ত ৫ লক্ষ শিক্ষক আগে অনুদান প্রাপ্তির পাশাপাশি বাড়তি কিছু করে তাদের বাড়িভাড়া, চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতেন, যেহেতু তাদের সরকারিদের ন্যায় পূর্ণ বেতন দেয়া হয়না। এখন করোনা পরিস্থিতিতে তাও বন্ধ ফলে এমপিওভূক্ত শিক্ষকগণও অসহায়। এদিকে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল, পদোন্নতি নিয়ে হচ্ছে তুঘলকি কারবার। ফলে এমপিওভূক্ত শিক্ষকগণও হতাশ। করোনা পরিস্থিতিতে ৫ লক্ষ বেসরকারি এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের সাথে করা হচ্ছে অনিয়ম পর অনিয়ম। দিন দিন তাদের বৈষম্য আরও বাড়ানো হচ্ছে। তাদের কথা কেউ আমলেই নিচ্ছেননা। নন এমপিও শিক্ষকদের অবস্থা তো খুবই করুণ, তাদের দিকে তাকানোই যায়না । অনেক শিক্ষক বাধ্য হচ্ছেন জীবন বাঁচাতে পেশা বদলে দিন মজুরির কাজ করতে। জাতি গড়ার কারিগরদের সাথে কি নির্মম উপহাস! মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা আছে বলে মনে হয়না যে কিভাবে এসকল স্কুল এবং অভুক্ত / অর্ধভুক্ত শিক্ষকদের বাঁচানো যায়। সার্বিক কারণে শিক্ষা খাত আজ ধ্বংসের পথে। শিক্ষায় যথাযথ পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন হলে দেশে আজ ডাক্তার এবং টেকনোলজিস্টদের এত অভাব হতোনা। করোনার মত খারাপ পরিস্থিতি এখনই শেষ নয় ভবিষ্যতে আরও আসতে পারে।

কই দেশে আইন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়েতো কখনো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা অভিজ্ঞ ছাড়া কখনোই কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়না। তাহলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য এবং শিক্ষায় কেনো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ / অভিজ্ঞ দের দায়িত্ব দেয়া হবেনা? দুই একজন মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন করলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়?
এখন সামান্য সমালোচনার চাইতে জনগণের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই দুর্যোগে জনগণের আশা ভরসার স্থল একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনিই পারেন সকল সমস্যার সমাধান করতে। আশাকরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
দেশের সকল সফলতার মুকুট যার
সকল ব্যার্থতার দায়ভারও তার।
দেবাশীষ পাল
সিনিয়র প্রভাষক ( জীব বিজ্ঞান )
সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা
কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।।


Categories