স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিব শতবর্ষের উপহার হোক শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমরা যথার্থভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপন করতে পারিনি। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ১৭ মার্চ ২০২০ সকল অনুষ্ঠান স্থগিত করেন। এমনি বিরূপ পরিস্থিতিতেও বাঙালি জাতি অন্তরের সবটুকু শ্রদ্ধা দিয়ে স্মরণ করেছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।এরচেয়ে বড় দুর্যোগ অতিক্রমের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। ৭১’ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী একটি বিধ্বস্ত দেশ সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা করোনা মহামারীর প্রতিকুল পরিস্থিতির মোকাবিলাও করবো- ইনশাআল্লাহ আমরা এখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে।

প্রকৃত পক্ষে যেকোনো জাতির উন্নয়ন অগ্রগতি নিরুপন হয় শিক্ষার গুণগত মানের সূচকে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। শিক্ষা যে কোনো জাতির উন্নয়ন অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। আর শিক্ষা আদান-প্রদান একটি জটিল প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকরা জাতি গঠনে এবং সমাজ বিনির্মাণের নিপুণ কারিগর। দেশের বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে বিদ্যমান সকল বৈষম্য দূরীকরণ করা জরুরি। অভাব অনটন বঞ্চনা বৈষম্যে থেকে জাতির শিক্ষার দায় শুধু শিক্ষকদের বহন করতে হবে কেন? শিক্ষকরা কেন বৈষম্যের শিকার হয়ে অনাহারে অর্ধাহারে থাকবেন? শিক্ষকরা যদি বৈষম্য দেশপ্রেম, মানবতাবোধ, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে বাধাগ্রস্ত হন, তবে শিক্ষার্থীদের তাঁরা কি শিখাবেন?

শিক্ষকদের নানাবিধ প্রতিকুলতা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাই দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন সফল ভাবে। শিক্ষকদের চাওয়া সমাজে মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থান, শিক্ষকদের এই চাওয়া কোন দোষের নয়। শুধুমাত্র সামাজিক বাস্তবতায় খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার অধিকারের দাবি তাদের। শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষের বাহিরে গিয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে রাজপথে দাঁড়াবে এটি কোন জাতির জন্য গর্বের বিষয় হতে পারে না। নানাবিধ অভাব অনটন বঞ্চনা বৈষম্যের কারণে শিক্ষকেদের পীঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের সমস্যার সমাধানে লেখালেখি সহ বিভিন্ন উপায়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের বারংবার চেষ্টা করছেন। এতদসত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে যদি শিক্ষকদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে শিক্ষকদের সামনে রাজপথে আন্দোলনে নামা ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা থাকবে না। এমনকি শিক্ষার মানের গুণগত পরিবর্তনে শিক্ষাবিদ মন্ত্রী মাননীয় সাংসদরাও বিভিন্ন অধিবেশনে জাতীয়করণের গুরুত্ব মহান সংসদে উত্থাপন করেছেন। এই সব কারণেই দেশের বিদ্যমান শিক্ষার মানের গুণগত পরিবর্তনে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা অতিব আবশ্যক হয়ে পড়েছে। অপরদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় স্থাবর অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা অতীব সহজতর।

২০২১ সালের ২৬ শে মার্চ পর্যন্ত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হবে। সরকারের ভিশন- ২০২১ এর অর্জন এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। এ সমস্ত কারণেই দেশের পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী এবং সকল স্তরের মানুষের প্রত্যাশা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মুজিব জম্মশতবার্ষিকীকে স্বরণীয় করে রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষণা করবেন- ইনশাআল্লাহ। এতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের শুভ সূচনা তৈরি হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন- ইনশাআল্লাহ।

মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম


Categories