স্থূলতা কি ভাবে সৃষ্টি হয় ?

প্রকাশিত: ১১:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

নূরুল ইসলাম, বগুড়া:
মানুষের শরীর এমন একটি মেশিন বা গাড়ির সমতুল্য, যার ইঞ্জিল কখনোই বন্ধ হয় না।হৃদপিণ্ড ধুকধুক করবে, ফুসফুস অনবরত সংকুচিত – প্রসারিত হবে, রক্ত অনবরত প্রবাহিত হতে থাকবে,কিডনি অনবরত পরিশোধনের কাজ করে যাবে। যদি আপনি হাত- পা নাড়াতে চান,তবে সেগুলোর মাংসপেশীর সাথে সাথে অন্যান্য মাংসপেশীগুলির কোষও নড়তে শুরু করবে।এই সমস্ত কাজের জন্য শক্তির প্রয়োজন ,ঠিক যেমনটা গাড়ি চলার জন্য পেট্রোল প্রয়োজন হয়।তাই শক্তি আমরা খাদ্য থেকে প্রাপ্ত করি।একদিনে আমাদের শরীরের কতটা শক্তির প্রয়োজন হয়? যদি আমরা নিজেদের শরীরের মাংসপেশিগুলিকে না নাড়াই শুধুমাত্র উঠি এবং বসি তবে আমাদের শরীরের ২৪ ঘন্টায় ১০০০ – ১২০০ ক্যালোরির প্রয়োজন। যদি জীবন যাপনের প্রণালী আরামদায়ক হয় তবে ১৬০০ ক্যালোরির প্রয়োজন । বিশ্বের একজন মজুরের সর্বোচ্চ ৩০০০ ক্যালোরির প্রয়োজন।এই শক্তি প্রাপ্ত করার জন্য আমাদের খাদ্যের প্রয়োজন।আমরা আমাদের পেটে অর্থাৎ তন্ত্রের মধ্যে এই সমস্ত খাদ্য হজম করি। হজম হয়ে যাওয়া খাদ্যের থেকে যে রস নিঃসৃত হয়, সেটা রক্ত মিশে যায়। শরীরের প্রতিটি কোষ রক্ত থেকে তা গ্রহণ করে এবং মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে শক্তি উৎপন্নকরে। সম্পূর্ণ দিনে ১৬০০ ক্যালোরি খাদ্য গ্রহণ করলে আমাদের শরীরের অসংখ্য কোষগুলির পেট ভরে। যদি আমরা অতিরিক্ত গ্রহণ করি,তবে সেটা ফ্যাটে পরিণত হয়।যদি আমরা সারাদিন কিছুই না খাই, তবে এই সঞ্চিত ফ্যাট শরীরকে শক্তি প্রদান করে থাকে ।যেমন আমরা গাড়ি চালানোর জন্য পেট্রোল ভরি,তেমনি এটি হলো শরীরের ওজন বাড়া-কমার জন্য পরিপাদ্য বিষয়।যদি কোন গাড়িতে ১০ লিটার পেট্রোল ধরে তবে আমরা তাতে ১০লিটার পেট্রোলই ঢালবো। কারণ ট্যাঙ্কের আকার বা ধারণ ক্ষমতা ১০ লিটার। যদি আমরা প্রতিদিন ১৫ লিটার করে তেল ঢালি, তবে অতিরিক্ত ৫ লিটার তেল বাহিরে উপচে পড়বে।অনুরূপ ভাবে এই ব্যাপারটি আমাদের শরীরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যদি আমাদের ১৬০০ ক্যালরির প্রয়োজন হয় আর আমরা ততটুকুই খাদ্য গ্রহণ করি, তবে আমাদের শরীরের ওজন একই থাকবে। কিন্তু আমরা যদি প্রতিদিন ২০০০ ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করি.. তবে বাড়তি ক্যালোরি ফ্যাটে পরিবর্তিত হবে এবং আমাদের শরীরের স্থূলতা বৃদ্ধি করবে। যদি এই ভাবে লাগাতার অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করা হয় ,তবে অধিক পরিমাণে ফ্যাট শরীরের জমতে শুরু করবে এবং সেটা স্থূলতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াবে। স্থূলতা একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। আমাদের দেশে ইদানিং স্থূলতা মারাত্মক সমস্যায় রূপ নিচ্ছে ।স্থূলতা একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা ।স্থূলতা থেকে মুক্তি পেতে হলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের প্রতিদিন কায়িক পরিশ্রম ও বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করা অতীব জরুরী।


Categories