“স্কুল শিক্ষিকার ব্যাংক চেক চুরি করে জালিয়াতি করার দায়ে প্রতারক স্বামী শ্রীঘরে!”

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০
স্টাফ রিপোর্টারঃ

স্কুল শিক্ষিকার ব্যাংক চেক চুরি করে জালিয়াতি করার দায়ে প্রতারক স্বামী শ্রীঘরে! 

স্ত্রীর ব্যাংক চেক চুরি করে জালিয়াতির ঘটনায় প্রতারক স্বামী শ্রীঘরে।
স্ত্রীর ব্যাংক চেক চুরি করে জালিয়াতির দায়ে প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী কর্তৃক মামলা দায়ের করার ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটে।
ভুক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার বিনইল গ্রামের আজগর আলীর মেয়ে খাইরুন নেছা (৩০) এর সাথে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার রান্ডিলা-বাহাদুর এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ জুবায়ের রহমান (৩২) এর ২০১৪ সালে নোটারী পাবলিক বগুড়ার মাধ্যমে বিবাহ হয়।
উল্লেখ্য যে, জুবায়ের রহমান বর্তমানে জনতা ব্যাংক জামতৈল বাজার শাখা, সিরাজগঞ্জের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং খাইরুন নেছা জয়পুরহাটের কালাই বিনইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন।
ঘর-সংসার করে আসাকালিন গত ১৮ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে জুবায়ের রহমান শশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে তার স্ত্রী খাইরুন নেছার নিজ নামীয় স্বাক্ষরিত ৬ টি ব্যাংক চেক যাহার নং- ৫৩৮৯৭৭২, ৭৬৮০৭২৫, ৭৬৮০৭৩০, ৯৫২৬৪৬৫, ৯৫২৬৪৬৪, ৯৫২৬৪৬৬ চুরি করে নিয়ে যায়। যাহার সোনালী ব্যাংক কালাই শাখার হিসাব নং- ০৭০৫১০০০৪৪।
পরবর্তীতে চেক নং- ৯৫২৬৪৬৪ এই পাতা দিয়ে ব্যাংক কতৃক ১ লক্ষ্য ৪০ হাজার টাকা জুবায়ের রহমান সিরাজগঞ্জ হাটিমুকুমুরুল সোনালী  ব্যাংক শাখা থেকে ১০ আগস্ট ২০২০ ইং তারিখে উত্তোলন করে। এ ব্যাপারে ব্যাংক কতৃপক্ষ খাইরুন নেছাকে অবগত করেনি।
পরে ১০ আগস্ট ২০২০ইং তারিখে টাকা উত্তলোনের মেসেজ মোবাইলে আসলে খাইরুন নেছা সোনালী ব্যাংক কালাই শাখায় ১২ আগস্ট  ২০২০ইং  তারিখে তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করেন এবং সেখানে তাকে মৌখিক ভাবে জানানো হয় গত ০৯ আগস্ট ২০২০ইং তারিখে চেক নং- ৯৫২৬৪৬৫, যাহাতে ১২ লক্ষ্য টাকা উল্লেখ পূর্বক ডিজঅনার করা হয়েছে। চেক ডিজঅনার করার পূর্বেও ব্যাংক কতৃপক্ষ খাইরুন নেছাকে কোন প্রকার অবগত করেনি।
এ ব্যাপারে খাইরুন নাহার জানান, উপরোল্লেখিত বিষয়ে তিনি পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে পরামর্শ করে তার বিশ্বাস ভংঙ্গ করে প্রতারণার ফাঁদ তৈরী করে চেক জালীয়াতি করায় তার স্বামী জুবায়েল রহমানের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
খাইরুন নেছা আরো সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী একজন প্রতারক, এই প্রতারকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তি দেওয়া হোক বলেও দাবী জানান স্ত্রী।
জয়পুরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব সরোয়ার সাংবাদিকদের জানান, বাদীনির অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাদী জুবায়ের রহমানকে গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Categories