স্কাউটিং মানুষ গড়ার আসল কারিগর

প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

 নূরুল ইসলাম, বগুড়া :

নৈতিক অধঃপতন নিয়ে প্রায়শই আমরা হা-পিতেশ করি। সভা, সেমিনারে, সিম্পোজিয়ামও এ বিষয়ে নেহাত কম হয় না। “দেশ ও জাতির প্রাণশক্তি ও ভবিষ্যৎ কর্ণধার”খ্যাত যুবসমাজের ঘাড়েই চেপে বসেছে নৈতিক অধঃপতনের এই কালো বোঝা। আমাদের দেশের যুব সমাজের হিংসভাগ না হলেও,উল্লেখযোগ্য অংশ আজ ধ্বংস হয়ে যেতে বসেছে।সামাজিক ও পার্শ্বিক পরিবেশ, অভাবও দরিদ্র, প্রতিকূল পারিবারিক অবস্থা, বেকারত্ব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ ক্রমশঃ এগিয়ে যাচ্ছে এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার গহবরের দিকে ।অথচ সত্যিকার অর্থে অন্য কারো জন্য না হলেও ,যুব সমাজের অধঃপতন রোধ করার বাস্তবসম্মত দাওয়াই আমাদের আয়ত্বের মধ্যে রয়েছে ।শিশু কিশোর ও যুবক বা তরুণ,সর্বোপরি ৬ বছর থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী বর্তমান প্রজন্মকে শিক্ষা-দীক্ষায়,আচার-আচরণে, সৎ ও যোগ্য নাগরিক রূপে গড়ে তুলতে পারে একমাত্র স্কাউটিং। তাই মানুষ গড়ার দাওয়াই হিসেবে “স্কাউটিং”কে আখ্যায়িত করলে অত্যুক্তি হয় না। আজ বিশ্ববাসীর স্কাউটিং একটি পরীক্ষিত ও প্রমাণিত এমন একটি বিজ্ঞানসম্মত ও অরাজনৈতিক ও শিক্ষামূলক আন্দোলনে রূপ পরিগ্রহ করেছে, যা শিশু- কিশোর ও যুব সম্প্রদায়ের শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে তাদেরকে সৎও চৌকস নাগরিক রূপে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আর তাই জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্যই বিশ্বব্যাপী স্কাউটিং স্বীকৃত ও পরিব্যপ্ত ।আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে স্বনির্ভর করে নিজেকে গড়ে তোলার লাগসই প্রক্রিয়া স্কাউটিং ছাড়া অন্য কোথাও তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়নি। তিনটি গ্রুপে বয়স অনুপাতে বিভক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট সিলেবাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে একজন শিশু পরিপূর্ণ স্কাউট তথা যোগ্য নাগরিক হয়ে সমাজ ও দেশের কাজে লাগতে পারে। মূলতঃ সমাজ ও দেশে উপকারার্থে স্কাউট প্রভৃত ভূমিকা পালন করে থাকে এবং এ শিক্ষা তারা স্কাউটিং এর মাধ্যমে অর্জন করে থাকে বা করতে পারে ।একজন সাধারন শিশু- কিশোর বা যুবক সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের দ্বারা তথা দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল স্কাউট অঙ্গনে প্রবেশ তথা বিশ্বস্কাউটস এর সদস্য হিসেবে পরিগণিত হতে পারে ।প্রত্যেক স্কাউটকেই স্কাউট প্রতিজ্ঞা ও আইন মেনে চলতে হয়। এর মাধ্যমেই একজন স্কাউট পরিপূর্ণরূপে হয়ে ওঠে আত্মসচেতন । সে বুঝতে শেখে মানুষের মত মানুষ হওয়ার জন্য তার নিজের প্রতি এবং দেশ ও জাতির প্রতি তার কি করণীয়। তাই স্কাউটিং আজ বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে ।স্কাউটিং এর জন্মদাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল (বি,পি) ১৯০৭ সালে গুটিকয় বালক নিয়ে স্কাউটিং এর সূত্রপাত করেছিলেন। মোটকথা নাগরিক তৈরিতে যথেষ্ট সহায়ক হবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ,নৈতিক অধঃপতন যুবক সম্প্রদায়ের অবক্ষয় রোধ করে স্কাউটিং এর মাধ্যমেই সম্ভব সঠিক দিক নির্দেশনার দ্বারা তাদেরকে সৎ ও যোগ্য নাগরিকরূপে গড়ে তোলা, যা আগামী সুন্দর পৃথিবীতে গড়তে একান্ত অপরিহার্য।


Categories