সেতু সংস্কারে ১০ গুণ বেশী টাকা লুটপাটের অভিযোগে দুদকে চিঠি

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০
এম. ইউছুফ | চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে কালুরঘাট সেতু সংস্কারের নামে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ লুটপাট হচ্ছে বলে রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক বরাবরে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সেলিম চৌধুরী নামে একজন আইনজীবী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তিনি অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দেন দুর্নীতি দমন কমিশন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ে।চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কালুরঘাট সেতু। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মেরামতের নামে ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ করে। দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘এবি কনস্ট্রাকশন’ কাজটি পাওয়ার পর কার্যাদেশ অনুযায়ী সেতুটি মেরামতের জন্য ১৩-২৩ জুলাই ১০ দিন যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।সে অনুযায়ী সেতুটি মেরামতের জন্য ১৩-২৩ জুলাই যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ
কিন্তু গণমাধ্যমে খবর বের হয় ১৩-১৯ জুলাই কোনো কাজই হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থ লুটে খাওয়ার জন্য সেতু বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ২০ জুলাই থেকে লোক দেখানো কিছু কাজ হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে ৫-৭ লাখ টাকা খরচ হবে। বাকি টাকা রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে আত্মসাৎ করার প্রচেষ্টা চলছে।
সেলিম চৌধুরী বলেন, “মাত্র ৫ লাখ টাকা খরচ করে বাকি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ আত্মসাৎ করার চেষ্টায় লিপ্ত। আমি এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে বলেছি। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলেছেন।”
তিনি আরো বলেন, “চিঠির অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। প্রয়োজনে এ বিষয়ে আমি আদালতেও যাবো কারণ কালুরঘাট সেতুর সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সবুক্তগীন গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরাতো পুরো ব্রিজের কাজ করতে পারব না। কালুরঘাট সেতুতে যেখানে সংস্কার প্রয়োজন সেখানে মেরামত করা হচ্ছে। ১০ বছর আগে এ সেতুর কাজ করেছিল ১০ কোটি টাকা দিয়ে।৫২ লাখ টাকা  তো অনেক কম। এরপরও যেহেতু অভিযোগ আসছে, এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। একচুল পরিমাণও ছাড় দেওয়া হবে না।”
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সেতুর বিষয়ে সুরাহা না হলে সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছিলেন প্রয়াত সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল।
এ বিষয়ে এবি কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

 


Categories