*সেকাল আর একাল* মোঃ তরিকুল আলম তারেক

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০
আমাদের শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের শুরুটা বলতে গেলে কেটেছে অনেক টা খেলাধুলা আর লেখাপড়া নিয়েই। বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে দুপুরে ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকতাম। যখন দেখতাম তারা ঘুমিয়েছে তখন ছুটে যেতাম মাঠে।
খেলাধুলার মাঝে এতোটাই মগ্ন থাকতাম যে, সন্ধ্যার সময় পড়ার টেবিলে বসে ঘুমে টুপতাম। এই কারনে জীবনে কম বকাবকি খেতে হয়নি।
আমাদের সময় আমরা আসলেই অনেক কম বুঝতাম। বিশেষ করে প্রেম ঘটিত ব্যাপার গুলো। স্কুল পর্যন্ত ভালবাসা কি জিনিস তেমন ভাবে বুঝতাম না। খেলা আর লেখাপড়া আমাদের মস্তিস্কের ৭০ আর ৩০ পার্সেন্ট দখল করে রাখতো। এটা আমার মতো এভারেজ স্টুডেন্টদের কথা বলছি।
আমাদের মধ্যে অনেকে ছিল যারা বিকালেও পড়ালেখা করতো। খেলাধুলা খুব একটা করতোনা। অবশ্য এদের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা।
আর এখন দেখা যায় ক্লাশ ফোর ফাইভের ছেলেমেয়েরা অনেক কিছু বুঝে। অনেক কিছু জানে। বিজ্ঞানের ছোঁয়া তাদের মস্তিষ্ক অনেকটাই উর্বর করে দিয়েছে। বিজ্ঞানের যেমন এডভান্টেজ আছে তেমনি ডিসএডভান্টেজও আছে। কম বয়সে ছেলেমেয়েদের যে জিনিসটা করতে নিষেধ করা হয়। সেই জিনিসটার প্রতিই তাদের প্রবল আগ্রহ জন্ম দেয়। তাইতো সেই লুকিয়ে থাকা আগ্রহে তারা  লুকিয়ে লুকিয়ে অনেক কিছু জেনে ফেলে।
তাদের মস্তিস্কে খেলার পরিবর্তে ৬০ পার্সেন্ট দখল করে রাখে বিজ্ঞানের টেকনোলজি আর বাকী ৪০% পার্সেন্ট লেখাপড়া এবং অন্যান্য জিনিস।
বিশেষ করে মোবাইল,  ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইউটিউব, গুগোল আরও কত কি? হাত বাড়ালেই বিশাল আকাশ। কিন্তু বয়সের কারনে তারা নীল আকাশ আর মেঘলা আকাশের পার্থক্যটা অনেক সময় বুঝতে পারে না। অবাধে বিচরণ করতে চায় আকাশ জুড়ে। মেঘলা আকাশ থেকে যে বৃষ্টি নামতে পারে তা বুঝতে পারে না। বৃষ্টিতে ভিজতে ভালই লাগে তবে অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই সত্যটা আজকালকার ছেলেমেয়েরা বুঝতেই চায়না। তারা ভাবে তারা অনেক বেশী জানে। অনেক বেশী আপডেটেড।
তাদের চোখে বাবা-মা’রা হচ্ছে অনেকটাই ব্যাকডেটেড। কিন্তু তারা ভুলে যায় বাবা-মা ও এই বয়সটা একসময় অতিক্রম করে এসেছে ।।