সেই শিক্ষক শামিম হাসানের বিরুদ্ধে শিক্ষকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টারঃ নওগাঁর মহাদেবপুরের পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামিম হাসানের বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। আল-হেরা মডেল একাডেমির শিক্ষক সুবোধ চন্দ্রের সাথে ঘটানো এঘটনায় বিচার দাবী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন।

অভিযোগে তিনি বলেন, বুধবার সকাল ৯ টার দিকে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক তার বিদ্যালয়ে আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে কোভিড-১৯ টিকা দানের জন্য আমার প্রতিনিধি হিসাবে শিক্ষক সুবোধ চন্দ্র মন্ডলকে পাঠিয়েছিলাম। যেখানে আমার শিক্ষককে তার সাহায্য করা কথা সেখানে সাহায্য তো দুরের কথা সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের সামনে আমার ওই শিক্ষকের সাথে অত্যন্ত অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন। যাহা একজন বিদ্যালয় প্রধানের নিকট থেকে কখনোই কাম্য নয়। আমি ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সভাপতি সাহেবকে অবহিত করার পরও তারা এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

উল্লেখ্য যে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে করোনায় শিক্ষা মন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিষ্ঠান ছুটির সময় “নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই সংবাদ আমলে নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইউসুফ রেজা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে নিজ প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্যের সত্যতা পেয়েছেন বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত পরবর্তীতে ওই শিক্ষককে সতর্কতা মূলক চিঠি দেন বলে নিশ্চিত করেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।

অভিযোগকারী অধ্যক্ষ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশ মোতাবেক আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ এর টিকা দেওয়ার জন্য পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার প্রতিনিধি হিসেবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মোঃ নাজমুল ইসলাম, সুবোধ চন্দ্র মন্ডল ও মনোয়ারা বেগমকে পাঠিয়েছিলাম। টিকা শেষে সুবোধ চন্দ্র আমাদের বিদ্যালয়ের অফিসে এসে অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে টিকা দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছি। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী টিকা দেওয়ার পর শামীম হাসানের শিক্ষার্থীরা হই হাল্লা করে বিশৃঙ্খভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের লাইনে ভেঙে দিয়ে জোরপূর্বক টিকা দেওয়ার চেষ্টা করে। আবার, এই একই পরিস্থিতিতে সে আমাদের শিক্ষার্থীদের বাহিরে রেখে জোরপূর্বক গ্রীল গেট বন্ধ করে দেন। আমি উনাকে বললাম, এতোক্ষণ তো সুশৃঙ্খলভাবে টিকা দিচ্ছিলাম। আমার আর মাত্র কয়েক জন শিক্ষার্থী টিকা দিলেই শেষ হয়ে যাবে। তখন উনি উপস্থিত সকল অভিভাবক ও শিক্ষকদের সামনে আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। “আরে মিয়া আপনি কে? আপনি কি আমাকে নিয়ম শেখান? আমাকে নিয়ম শেখানোর আপনি কে?” আমি উনাকে শান্ত হওয়ার জন্য বলি। উনি আরো রেগে যান। আমি উনাকে বললাম, টিকা শেষ করে আপনার সঙ্গে বসে কথা বলবো। শিক্ষার্থীদের সামনে আমাকে ছোট করবেন না। এক পর্যায়ে উনি আমাকে অকথ্য ভাষায় বলেন, আপনার হইচে হইচে? আপনার হইচে? আপনি বের হয়ে যান। এই অবস্থায় আমি বের হয়ে চলে আসি। এখনও অনেক শিক্ষার্থী টিকা দিতে পারে নি।” আমার শিক্ষার্থীরা বলে এই শিক্ষক সকল মানুষের সঙ্গেই এমন খারাপ আচরণ করে থাকে। মনোষত্ববোধ বলতে তার মধ্যে কিছুই নেই। এমন শিক্ষকের কাছে আমাদের সন্তানদের কীভাবে বিদ্যালয়ে পাঠাব? কি শিখবে উনার কাছ থেকে? উনাকে দ্রুত বদলি করা হোক অথবা বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হোক।

তিনি আরও বলেন, আমি বিষয়টি মিমাংশার জন্য ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি ইদ্রিস আলিকে ফোন দিলে উনি বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি। অভিযোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেন নি। তাই বাধ্য হয়েই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আশাকরি, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক এস এম শামিম হাসান বলেন, যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি সঠিক অভিযোগ দেননি বলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।

অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসান বলেন, এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের কথা বলবো।


Categories