সুনামগঞ্জে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

আজিজুর রহমান সুনামগঞ্জ :
গত ৫দিনের টানা অবিরাম বৃষ্টিপাত অব্যাহত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২য় দফা সুনামগঞ্জ জেলা শহরের এলাকা,জেলার বিভিন্ন উপজেলাসমূহ
ছাতক,দোয়ারাবাজার,তাহিরপুর,বিশ্বম্ভরপুর,
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ,দিরাই ও শাল্লার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লক্ষাধিক মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়,গত ২৪ ঘন্টায় রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গতকালের
চেয়ে ১২ সে. মিটার কম হলে শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানির নীচে তলিয়ে গেছে,রাস্তায় যান চলাচল কম।এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ১৫০ মি.মি.
বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ পৌরসভা ও ছাতক পৌর শহরের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়ি এখনো পানির নীচে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরের কাজির পয়েন্ট,উকিলপাড়া,
নতুনপাড়া,বড়পাড়া সাহেব বাড়ি ঘাট,ষোলঘর হাজিপাড়া,জামতলাসহ অধিকাংশ এলাকার বাসাবাড়ি রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় খাদ্য সংকটে মানুষজন চরম বিপাকে রয়েছেন।
জেলা শহরের সাথে বিশ্বম্ভর পুর,তাহির পুর,
দিরাই ও শাল্লার একমাত্র সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি এবং আশ্রয়
কেন্দ্র পরিদর্শন ও আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনা খাবার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সদর
উপজেলার আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া আলিম
মাদ্রাসা,ব্রাহ্মণগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নেয়া বন্যার্ত দুইশতাদিক লোকজনের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান বিপিএম,পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ সবিবুর রহমান,সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা প্রমুখ।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান,জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং গতকাল বিকেল থেকে জেলা শহরের সরকারী কলেজে ও কুরবান নগর ইউনিয়নে বন্যার্তরা আশ্রয় নিয়েছেন।জেলা প্রশাসন বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের জন্য খাদ্য সহায়তা
হিসেবে জি আর ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৮ লাখ টাকা,শিশু খাদ্য বাবত ৩ লাখ,গবাদি পশু খাদ্য বাবত ২লাখ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে পৌছে দেয়া হয়েছে।


Categories