সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

করোনার কারণে গত আড়াই মাস ধরে পুরো দেশে ছিল অঘোষিত লকডাউন। এরই মধ্যে মানুষ যখন গৃহবন্দি তখন প্রকৃতি উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে। এ সুযোগে কমেছে পরিবেশ দূষণের মাত্রা। নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছে প্রকৃতি। এতে পাল্টে গেছে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়ের প্রকৃতিও। যেন অচেনা রূপ ধারণ করেছে দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থক্ষেত্র ও পর্যটন এলাকা চন্দ্রনাথ ধাম।

উপজেলার পর্যটন স্পটগুলো একেবারেই ফাঁকা। চিরচেনা দৃশ্যের কিছুই নেই এখন। থেমে গেছে প্রাণের কোলাহল। পাহাড় যেন আগের রূপ ফিরে পাচ্ছে। এখানেই রয়েছে দেশের অন্যতম সুন্দর প্রাকৃতিক নৈসর্গ। এ পাহাড়কে ঘিরে রয়েছে এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক। দেশের সবচেয়ে বড় পশুপাখির অভয়ারণ্য ও প্রদর্শনী বন এখানে। এছাড়া রয়েছে পৃথিবীর একমাত্র গরম পানির ঝরনা। শুধু ঝরনা নয়, রয়েছে অন্যতম সুন্দর ও বৃহত্তম প্রাকৃতিক লেক ‘ভাটিয়ারী লেক’।

পরিবেশবিদ, সচেতন নাগরিক এবং শিক্ষাবিদদের মতে, মানুষের আগ্রাসনের কারণে পাহাড়ের পশু-পাখি বাঁচার পরিবেশ হারিয়ে ফেলেছিল। এই স্থানে তীর্থক্ষেত্র ও পর্যটন এলাকা হওয়ায় পাহাড়ে এত বেশি মানুষের ঢল ছিল যে কারণে বণ্যপ্রাণী অনিরাপদ বোধ করে। যখনই কোলাহল থেমে গেল পাহাড়ে যেন আগের রূপ ফিরে পাচ্ছে।

ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান বলেন, করোনা ঝুঁকি এড়াতে পর্যটক নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। এতে পরিবেশ প্রকৃতি যেন নিজের রূপে ফিরে এসেছে। কোথাও দূষণ ও মানুষের সমাগম নেই, ঝরনা ও লেকের পানি স্বচ্ছ হয়েছে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুনিল বন্ধু নাথ বলেন, পাহাড়ে অবাধ বিচরণের কারণে সেখানকার প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে থাকলেও এখন আর সেই দৃশ্য নেই। আশার কথা হলো অন্তত এ দুর্যোগ মুহূর্তে প্রকৃতি তার নিজের পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। সীতাকুন্ড প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিটন কুমার চৌধুরী বলেন, প্রকৃতিতে এখন পশু-পাখির কোলাহল শোনা যাচ্ছে।

সীতাকুন্ড ইউএনও মিল্টন রায় বলেন, লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের পুরোদমে সঞ্জীবিত করে এখন অন্যরকম এক আবেশ ছড়াচ্ছে প্রকৃতি। এখানে তীর্থযাত্রী ও টু্যরিস্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপে অনেক সুফল পাওয়া গেছে।