সিলেটে ৭০ কোটি টাকার পাথর নিলামে ওঠছে

প্রকাশিত: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

সিলেটে অবৈধভাবে নদী থেকে পাথর উত্তোলন করে মজুদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কানাইঘাটের লোভা নদী থেকে উত্তোলনকৃত প্রায় এক কোটি ঘনফুট পাথর জব্দ করে তা নিলামে বিক্রির গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। জব্দকৃত পাথরের মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে জব্দকৃত পাথরগুলো ইজারাকালীন সময়ে নদী থেকে বৈধভাবে উত্তোলন করে পরিবহনের জন্য মজুদ করে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করছেন স্থানীয় মুলাগুল ও লোভাছড়া পাথর ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৩ এপ্রিল কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারির ইজারার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর উচ্চ আদালতের ধারস্থ হলে ইজারার মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়। কিন্তু এরপরও ইজারাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আদালত পাথর উত্তোলন ও পরিবহনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু বন্ধ হয়নি পাথর উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহন।

এই অবস্থায় গত ১৫ ও ১৬ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালায় লোভাছড়া পাথর কোয়ারি ও আশপাশ এলাকায়। এসময় নদীর তীরে মজুদ করে রাখা প্রায় এক কোটি ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। অভিযানকালে মজুদকৃত পাথরের কোন মালিকও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। জব্দকৃত সেই পাথর নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করে গতকাল রবিবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। দরপত্র জমার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামীকাল মঙ্গলবার। এছাড়া গতকাল রবিবার ও আগের দিন শনিবার লোভাছড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন অভিযান চালায়। এসময় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্টোন ক্রাসার মেশিন, ৫৫টি শ্যালো ইঞ্জিন ও ৬৭টি বাল্কহেড নৌকা বিকল করা হয়। এগুলোর মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. এমরান হোসেন জানান, লোভা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। যে কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানকালে জব্দকৃত পাথরের মালিকানাও কেউ দাবি করেনি। জব্দকৃত পাথর নিলামে বিক্রির লক্ষ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় পাথর কোয়ারিগুলোতে এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, কানাইঘাটের মুলাগুল পাথর ব্যবসায়ী সমিতি ও লোভাছড়া আদর্শ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ গতকাল রবিবার যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে জব্দকৃত পাথর নিলামে না তুলার দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তর যে পাথর জব্দ করেছে সেগুলোর মালিক রয়েছেন। গত শুষ্ক মৌসুমে সরকারকে রাজস্ব দিয়েই স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা এই পাথর উত্তোলন করে মজুদ করেছেন। সড়ক যোগাযোগ ভালো না থাকায় বর্ষা মৌসুমে মজুদকৃত পাথরগুলো নদীপথে পরিবহনের জন্য মজুদ করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর অবৈধ মজুদ দাবি করে পাথরগুলো জব্দ করে নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। জব্দকৃত পাথর নিলামে বিক্রি করে দিলে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসতে হবে বলে দাবি করেন দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।