সিলেটের নতুন পর্যটক আকর্ষণ আনারস বাগান, সংযোজন হচ্ছে ঝুলন্ত সেতু

প্রকাশিত: ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২১

শহীদুল ইসলাম, সিলেট থেকে: উঁচু-নিচু বন্ধুর টিলার সমারোহ চারিদিকে মৌ মৌ সু‌মিষ্ট বাতাস। সমস্ত টিলাজুড়ে শুধু আনারসের গাছই নয় আছে লেবু কাঁঠাল আর কলাগাছ। প্রতি গাছের মাথায় উঁচু হয়ে আছে কাচাঁ পাকা আনারস। সবুজ আর হলুদ আনারসের মিষ্টি গন্ধে সব সময় মাতোয়ারা বাতাস এবং পু‌রো এলাকা। ‌পে‌য়ে মি‌ষ্টি গ‌ন্ধ আপ‌নি হ‌য়ে যে‌তে পা‌রেন সাম‌য়িক অন্ধ।

 

 

বল‌ছিলাম বর্তমা‌নের জন‌প্রিয় ভাইরাল হওয়া সিলেটের ঢাকাদক্ষিণ দত্তরাইলের আবদুল মতিন চান মিয়া আনারস বাগানের কথা। এখানে প্রতিদিন হাজারো দর্শক ভিড় করছেন। সব মিলে শখের আনারস বাগানটি এখন পরিচিতি পেয়েছে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে। এ বছর বাগানের আনারস বিক্রি করে ৫০/৬০ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা আ‌ছে ব‌লে সংশ্লিষ্টরা জা‌নি‌য়ে‌ছে জালালাবাদ২৪.ক‌মের উপ সম্পাদক‌কে।।

 

২০১৮ সা‌লের ‌কোন এক সময় ব্যাংক কর্মকর্তা রইছ উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে গিয়েছিলেন দত্তরাইলের আবদুল মতিন চান মিয়ার ছেলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রাসেল আহমদ। শ্রীমঙ্গলে সারি সারি আনারস বাগান দেখে তার শখ জাগে বাগান করার।

 

 

ভালবাসায় শিক্ত ক‌রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন রইছ উ‌দ্দিন। ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেন বাগান সৃজনের। উত্তরাধিকারসূত্রে বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক আবদুল মতিন চান মিয়ার আট ছেলে। বাড়ির পাশে ছয়টি টিলার ৬০ বিঘা জমি নিয়ে শুরু হয় আনারস লাগানোর কাজ। শ্রীমঙ্গল থেকে রইছ উদ্দিন সরবরাহ করেন চারা। একে একে টিলাগুলো আচ্ছাদিত হতে থাকে আনারস গাছে। প্রথম বছর খুব বেশি আনারস পে‌লেও যেটুকু পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো বিতরণ করে দেওয়া হয় এলাকার লোকজন, আত্মীয়স্বজন, মসজিদ, মাদরাসা আর এতিমখানায়। গেল বছর পূর্ণতা পায় বাগান। আনারসে আনারসে ভরে ওঠে বাগান।

প্রায় ৬৫ হাজার আনারস বিক্রি করে আয় হয় ৩০ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে আবদুল মতিন চান মিয়ার আনারস বাগানের সুনামও ছড়িয়ে পড়ে সিলেটজুড়ে। ভালো ফলন হওয়ায় আরও ১০ বিঘা জায়গায় রোপণ করা হয় আনারসের চারা। এবারও বাগানে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগানের পরিচালক রাসেল আহমদ ও রইছ উদ্দিন আশা করছেন এবার ১ লাখের বেশি আনারস বিক্রির। আনারস বিক্রি থেকে আসবে প্রায় ৫০/৬০ লাখ টাকা।

 

 

এ আনারসবাগানে সারা দিনই লেগে থাকে পর্যটকের ভিড় ত‌বে ছু‌টির দি‌নে বে‌শি।। বিকাল হলে ঢল নামে তাদের। গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে হাজারো দর্শনার্থী আসেন বাগানে। বিশাল বাগানের টিলাভর্তি আনারস দেখে মুগ্ধ হন তারা। চান মিয়া আনারসবাগান শুধু পর্যটকের মধ্যেই সাড়া ফেলেনি। বাগানের সফলতা এলাকার মানুষকেও প্রভাবিত করছে। পড়ালেখা করে চাকরির পেছনে না ঘুরে উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী করছে এলাকার তরুণদের। ঢাকা দক্ষিণ এলাকাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য টিলা। তাই আবদুল মতিন চান মিয়া আনারসবাগানের সফলতা দেখে এখন অনেকেই ভাবছেন নিজেদের টিলায় বাগান করার। এর দ্বারা এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন স্থানীয়রা। সং‌শ্লিষ্টরা বল‌ছেন কেউ আমা‌দের কাছ থে‌কে বু‌দ্ধি, পরামর্শ ও চারা নি‌য়ে বাগান কর‌তে চাই‌লে অবশ‌্যই আমরা ফ্রি প্রদান করব। অামরা চাই নতুন নতুন উ‌দ্যোক্তা সু‌ষ্টি হোক। দেশ হোক বেকার মুক্ত ।

 

জালালাবাদ২৪.কম এর উপসম্পাদ‌ক শহীদুল ইসলা‌মের সা‌থে একান্ত আলাপ কা‌লে বাগা‌নের অং‌শীদার ব‌্যাংকার ও উ‌দ্যোক্তা রইছ উ‌দ্দিন ব‌লেন আগামী‌তে আ‌রো ব‌ড়স‌রে সাজা‌নোর প‌রিকল্পনা আ‌ছে। ত‌বে তি‌নি দুঃখ প্রকাশ ক‌রে ব‌লেন মানুষ আসুক দেখুক কিন্তু নষ্ট কর‌লে আমরা বাগা‌নে বিচরণ সী‌মিত ক‌রে দেব। তি‌নি আ‌রো ব‌লেন আমা‌দের প‌রিকল্পনায় আ‌ছে আগামী‌তে আমরা বড় দু‌টি টিলার উপর সং‌যোজক হি‌সে‌বে দর্শনীয় ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ কর‌ব।


Categories