সিন্ডিকেটের কাছে জিস্মি কালিহাতীর বিদ্যুত গ্রাহকরা

প্রকাশিত: ২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

আবু সামা টাংগাইলঃ     টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সিংনা গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা একটি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ঘুষ না দিলে বিদ্যুতের কোনো কাজ তো হয়ই না উল্টো সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মিটার খুলে নেয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয় গ্রাহকদের। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি কালিহাতী পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, সম্প্রতি দালালদের মাধ্যমে সিংনা গ্রামের প্রায় চারশ গ্রাহকের কাছ থেকে সংযোগ মেরামত ও খুঁটি দেয়ার নামে ৪-৫ হাজার টাকা করে নিয়েছে সিন্ডিকেটটি। দালাল হিসেবে কাজ করছেন ওই গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। কোনো গ্রাহক টাকা না দিলে তার বাড়ি পর্যন্ত বিদ্যুতের খুঁটি পৌঁছায় না। এমনকি মিটারও খুলে নেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দালাল জানান, এ সিন্ডিকেটে ঠিকাদার ও পল্লী বিদ্যুতের কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি যুক্ত। তারাই গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিতে বলেন।কালিহাতী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, সিংনা গ্রামে বিদ্যুতের ৩৮টি এলটি খুঁটি, ১৮টি এসটি খুঁটি ও তার মেরামতের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। পরে সাড়ে চার লাখ টাকায় কাজ পায় নিউ বাদশা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকেই টাকার জন্য গ্রাহকদের হয়রানি করতে শুরু করে ঠিকাদারের কর্মী ও দালালরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিংনা গ্রামে চার শতাধিক বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। প্রভাবশালীদের বাদ দিয়ে প্রতি মিটারে এক হাজার থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিচ্ছে দালালরা। কারো কারো কাছ থেকে আরো বেশি নেয়া হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঠিকাদার ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের পক্ষে গ্রামে দালাল হিসেবে কাজ করছে জাহাঙ্গীর, ফারুক, জাহিদ, নাহিদসহ কয়েকজন।ভুক্তভোগী শিবলু মিয়া জানান, তার একটি বাণিজ্যিক ও একটি আবাসিক মিটার রয়েছে। সংযোগ মেরামতের জন্য ঠিকাদারকে তার বাসার সামনে একটি খুঁটি দিতে বললে বিনিময়ে তার কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ চান ঠিকাদার। সরকারি কাজে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় শিবলু মিয়াকে খুুঁটি দেয়নি ঠিকাদার। বিষয়টি কালিহাতী বিদ্যুত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানালে তিনি কোনো গুরত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান।
শিবলু মিয়া আরো জানান, ঠিকাদার ও বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গ্রামের মানুষের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দালালদের মাধ্যমে মিটার প্রতি এক হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছে। তিন মাস আগে টাকা নিলেও এখন পর্যন্ত খুঁটি লাগানো হয়নি।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিউ বাদশা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু বক্কর জানান, তিনি রুহুল আমিন নামে আরেক ঠিকাদারের কাছে কাজটি বিক্রি করেছেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না৷ঠিকারদার রুহুল আমিন জানান, এসব অভিযোগ মনগড়া। তিনি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি।কালিহাতী পল্লী বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করবেন না।