“সিনহা হত্যা: স্বীকারোক্তি শেষে নন্দদুলাল কারাগারে, প্রদীপ এক দিনের রিমান্ডে”

প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২০
আবদুল মান্নান কক্সবাজার।

সিনহা হত্যা: স্বীকারোক্তি শেষে নন্দদুলাল কারাগারে, প্রদীপ এক দিনের রিমান্ডে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যায় নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বরখাস্ত এসআই নন্দ দুলাল। কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির হয়ে তিনি এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নিজের জবানবন্দি দেন নন্দদুলাল। বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালতে হাজির করার পূর্বে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে বিধি অনুযায়ী তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গত রোববার সিনহা হত্যায় নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামী ইন্সপেক্টর (বরখাস্ত) লিয়াকত আলী। সিনহা হত্যা মামলা এ নিয়ে শীর্ষ দুই পুলিশ আসামি ও এপিবিএন তিন সদস্যসহ মোট পাঁচজন স্বাকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অন্যদিকে আজ তৃতীয় দফার তিন দিনের রিমান্ড শেষে টেকনাফের সাবেক ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কে বেলা দুইটার দিকে আদালতে হাজির করে নতুন করে রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম। শুনানি শেষে বিচারক তামান্না ফারাহ প্রদীপের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার তৃতীয় দফায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আজ সোমবার ছিলো রিমান্ডের শেষ দিন। এর মধ্যেই প্রধান আসামী লিয়াকত আলী এবং নন্দদুলাল রক্ষিত জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু ওসি প্রদীপ এখনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে।
উল্লেখ্য যে, আত্মসমর্পণের পর গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দ দুলালসহ সাত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সাত দিনের রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আরো সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল র‌্যাব। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ওই চার দিন রিমান্ড শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় দফায় আরো চার দিনের আবেদন করা হলে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আদালত তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে।
গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহত সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯  জন পুলিশ কে  আসামি করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা মোট ১৩ জন কে আসামি দেখিয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তন্মধ্যে  চেকপোস্টে দায়িত্বরত তিনজন এপিবিএন সদস্য , পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী ও আত্মসমর্পণ করা ৭ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য।
অপরদিকে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওসি প্রদীপের জামিনের জন্য চট্টগ্রাম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এহেছানুল হক হেনার নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল কক্সবাজার আদালতে হাজির হয়ে রিমান্ডের বিরোধিতা ও  জামিনের আবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

Categories