সিনহা হত্যা : এপিবিএনের সেই ৩ সদস্য রিমান্ডে

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২০
আবদুল মান্নান;কক্সবাজার
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
সোমবার রাত ১০টার দিকে তাদেরকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ (র‌্যাব) এর কক্সবাজার কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের এ হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে তাদের মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র্যাব ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয় টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম।
গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়া তিনজন হলেন- এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আব্দুল্লাহ। ৩১ জুলাই ঘটনার দিন এই তিনজনই এপিবিএনের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করেছেন।র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়ার শামলাপুর চেকপোস্টে ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে অভিমান চালায় পুলিশ। পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হন। শামলাপুরের সেই চেকপোস্ট পুলিশের চেকপোস্ট ছিলনা বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে আসে। প্রকৃতপক্ষে সেটি এবিপিএন এর চেকপোস্ট ছিল। পুলিশ সে রাতে সিভিল পোশাকে অভিযান চালায়। যা আইনত বেআইনী বলে জানান র্যাব।
পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।
এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের
প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক।
এর মধ্যে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া পুলিশের চার সদস্য এবং এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গত শুক্রবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যাব।
যাদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তারা হলেন- এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াছ।
এ দিকে মামলার প্রধান তিন আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ,ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত কে আজ সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য র্যাব-১৫ এর হেফাজতে নিয়ে আসা হয় বলে জানান র্যাবের মুখপাত্র লে কর্ণেল আশিক বিল্লাহ। তারা প্রত্যেকের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।  এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন কে আসামি হিসেবে দেখানো হয় এবং তাদের সবার সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

 


Categories