সিঙ্গাপুরে করোনা টিকার হিউম্যান ট্রায়াল আগস্টে

প্রকাশিত: ১২:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনে দুনিয়াজুড়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্য ও চীনে এ টিকার হিউম্যান ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। অক্সফোর্ডের ৪০ লাখ টিকা পেতে চুক্তিও করেছে ইউরোপের দেশগুলো। এর মধ্যেই সিঙ্গাপুরের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী আগস্ট নাগাদ তারা করোনাভাইরাসের একটি টিকার হিউম্যান ট্রায়ালের পরিকল্পনা করছেন। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্কটারাস থেরাপিউটিক্স (এআরসিটি.ও)-এর জন্য এ টিকাটি নিয়ে কাজ করছেন সিঙ্গাপুরের বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর আগস্টে মানব দেহে টিকাটির ট্রায়াল সম্পন্ন করা হবে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটার-এর হিসাব অনুযায়ী দুনিয়াজুড়ে এখন পর্যন্ত ৮২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চার লাখ ৪৫ হাজার ৯৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে শতাধিক প্রতিষ্ঠান করোনার টিকা উদ্ভাবনে কাজ করছে। ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধনে সক্ষম হয়েছেন অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা।

সিঙ্গাপুরের ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুল কর্তৃক মূল্যায়িত টিকাটি এমআরএনএ প্রযুক্তিতে কাজ করে। এটি মানব কোষকে নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয় যা করোনা মোকাবিলায় ভাইরাস বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

ডিউক-এনইউএস মেডিক্যাল স্কুলের উদীয়মান সংক্রামক রোগ প্রোগ্রামের উপপরিচালক ওয়ই ইঞ্জি ইওং। রয়টার্স-কে তিনি বলেন, অ্যান্টিবডিগুলো ভাইরাসের সঙ্গে লেগে থাকে। এটি সংক্রমিত কোষগুলোকে শনাক্ত করে তাদের ধ্বংস করে দেয়।

এদিকে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ইম্পেরিয়াল কলেজ কম দামের করোনাভাইরাসে টিকারও হিউম্যান ট্রায়ালের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে পশুদের শরীরে এর পরীক্ষায় সফলতা মিলেছে। এখন মানবদেহেও সফলতার প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মোট ৩০০ জন সুস্বাস্থ্যবান ব্যক্তিকে এই টিকার দুইটি করে ডোজ দেওয়া হবে। এতে টিকাটি নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হলে অক্টোবরে আরও ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এটি পরীক্ষা করা হতে পারে।

প্রথম ধাপের ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ৩০০ স্বেচ্ছাসেবীর সবার বয়স ১৮ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

ইম্পেরিয়াল কলেজের এই গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক রবিন শ্যাটক। ব্লুমবার্গ-কে তিনি বলেন, প্রারম্ভিক প্রতিরক্ষামূলক ভ্যাকসিনগুলো হয়তো ভাইরাস সংক্রমণ থেকে কোনও ব্যক্তিকে শতভাগ সুরক্ষা দেবে না। তবে এটি মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় যথেষ্ট কার্যকর।

ইম্পেরিয়াল কলেজের এই গবেষণার উন্নয়নে ৪১ মিলিয়ন পাউন্ডের তহবিল যোগান দিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। এর বাইরে আরও পাঁচ মিলিয়ন ডলারের অনুদান পেয়েছে এই গবেষণা। প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে।