ঢাকা, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ, একটা বিপদ

নিউজ

ডেস্ক


প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২১

যে পদের নাই কোনো প্রাণ
সেটার নাম সহকারী প্রধান৷
প্রতিষ্ঠানে সর্বদা বন্ধ থাকতে হয় যার চোখ-কান
তিনি আর কেউ নন, সহকারী প্রধান৷
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ একটা মেরুদন্ডহীন প্রাণীর মত৷ এ পদে যেমনি নেই তেমন উচ্চ বেতন স্কেল তেমনি নেই কোনো দাপ্তরিক ক্ষমতা৷ এ পদের ব্যক্তিকে মাঝে মাঝে সালাম দিতে দেখলে মনে হয় যেন তাঁর সাথে ঠাট্রামি করছে! ০৮নং গ্রেডে বেতনভুক্ত এ পদের জন্য বরাদ্ধ আছে ০৯নং গ্রেডে বেতনভুক্ত সিনিয়র শিক্ষক অপেক্ষা মাত্র এক হাজার টাকা বেশি বেতন অথচ সহকারী প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ০৭নং গ্রেডে বেতনভুক্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল সহকারী প্রধান শিক্ষক অপেক্ষা ৬ হাজার টাকা বেশি৷ আবার ১০নং গ্রেডে বেতনভুক্ত একজন সহকারী শিক্ষক(বিএডসহ) থেকে একজন সিনিয়র শিক্ষকের বেতন স্কেলও ৬ হাজার টাকা বেশি৷ মনে হয় যেন সর্বদিক থেকে বিবেচনায় এটি একটা তামাশার পদ! বেতন যাই হোক, যদি স্কুলটিকে একটি বিশাল উৎপাদনশীল একটি বনের সাথে তুলনা করা হয় তাহলে সে বনের রাজা হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক৷ অন্যদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন সে বনের নখ ও দন্তহীন অস্থচর্মসার একটি বাঘ৷ যে বাঘের থাবা দেয়া শক্তিও নেই, যেন নখ দন্ত না থাকায় নিজ খাবারও সংগ্রহ করতে অক্ষম৷

এ পদের দায়িত্ব বিশাল, কিন্তু সে দায়িত্বের বেতন নেই৷ চেয়ার আছে তবে চেয়ারের দুটি পা নেই৷
একজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের মেরুদন্ড যে কত বাঁকা ও অকেজো নিচের কতিপয় আলোচনার পয়েন্টে ফুটে উঠবে৷
এমপিওভুক্ত স্কুল পরিচালিত হয় ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক৷ এ সেক্টরে কমিটি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী৷ একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির মোট ১৩জন সদস্যের মধ্যে চারজনই থাকেন স্কুলের শিক্ষক৷ তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও একজন সদস্য সচিব তিনি প্রধান শিক্ষক; কিন্তু সহকারী প্রধান শিক্ষক সহকারী সচিব নন এবং শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটারও নন৷ তিনি যেন শিক্ষকদের সাথেও নন প্রধানের সাথে নন! তিনি বিশাল সাগরের মধ্য হাবুডুবু খান৷ কমিটি কর্তৃক নীতি নির্ধারণসহ সকল আলোচনা পর্যালোচনায় সহকারী শিক্ষকদের অংশ গ্রহণের সুযোগ আছে শিক্ষক প্রতিনিধির মাধ্যমে, কিন্তু সহকারী প্রধান মিটিং উকিঁ দিয়ে দেখারও সুযোগ নাই!
এটা একটা বড় ধরনের চাপ সহ্য করার পদও বটে৷ অপ্রিয় হলেও সত্য যে প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে যতটা ইচ্ছুক ও করতে হয় সহকারী প্রধান চোখের সামনে থাকলেও তাঁর দিকে না তাকালে কাজের তেমন অপূর্ণতা থাকে না! প্রায় সকল বিদ্যালয়েই শিক্ষকদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় বছরের শুরুতে রুটিন প্রনয়ণকে কেন্দ্র করে৷ এখানে কাউকেই পূর্ণ সন্তুষ্ট করা যায় না৷ সপ্তাহখানেক ব্রেইন খাটিয়ে সহকারী প্রধান রুটিন সৃষ্টি করলেও ছোটোখাটো একটা অসন্তুষ্টিতেই তিনি তাঁর সৃষ্ট কর্ম থেকে সরে এসে নিচের চাপে উপরের কথামত চলতে বাধ্য৷ এখানে তাঁর পদের যেমন কোনো কর্তৃত্ব বা মূল্যায়ণ নেই তেমনি নিজের প্রেস্টিজ নিয়ে একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকারও সুযোগ নেই৷ একটা উদারণ যদি দেই তাহলে বলতে হয় যে, শীতের দিনে প্রধান শিক্ষক কুয়াশা ভেজা রাস্তা দিয়ে হাটতে সহকারী প্রধান শিক্ষককে দিয়ে শিশির পরিস্কার করে সকল শিক্ষক নিয়ে পেছনে পেছনে হেটে যান৷ সহকারী প্রধান সামনে থাকলেও বুঝতে হয় যে এ সামনে থাকা সম্মানের নয়, শিশির পরিস্কার করার!

প্রতিদিন ক্লাশ পরিচালনা করা ও পরীক্ষার সময় পরীক্ষা পরিচালনায় সহকারী প্রধানের সামনে একটি বিরূপ পরিবেশ ঘুরতে থাকে৷ কোনো ধরনের ব্যালেন্সের ঘাটতি দেখা দিলে সে ক্ষেত্রে প্রধানকে সহকারী প্রধানের সাথে পাওয়ার আশা করা দিবা কল্পণা স্বরূপ৷ কারণ স্বভাবতই পাওয়ার থাকে অতি সংখ্যার দিকে! পাহাড় যতই হাহাকার করুক পানি নিচের দিকেই গড়ায়৷

দু’জন শিক্ষক ছুটিতে থাকলে প্রক্সি ক্লাশে পাঠানোর সময় উপলব্ধি করা যায় একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক কতটা অসহায়! কিন্তু ক্লাশের কোনো রকম হ্যাম্পার হলে সহকারী প্রধানই সকল কিছু হজম করতে হয়৷ বলা যায় সব দিক থেকে গরম হওয়া সহ্য করার জন্য সহকারী প্রধান একটা উত্তম স্থান৷

সর্বপরি বলতে হয়, যেহেতু সহকারী প্রধান শিক্ষক শিক্ষক প্রতিনিধি হতে পারেন না তাই এ পদটির জন্য ম্যানেজিং কমিটিতে সহকারী সচিব পদ সৃষ্ট করা জরুরি এবং বেতন গ্রেডে অর্থ বৃদ্ধি করাও সমতার অধিকার৷

লেখক- মোহাম্মদ মহসিন মিয়া৷