“সরাইল-অরুয়াইল রাস্তা বন্যার পানিতে গায়েব! বিচ্ছিন্ন প্রায় যোগাযোগ ব্যবস্থা”

প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলের ভাটি এলাকা নামে খ্যাত চুন্টা, পাকশিমুল, অরুয়াইল তিন ইউনিয়নসহ নাসিরনগর ইউনিয়নের চাতলপার ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্ন সরাইল-অরুয়াইল রাস্তাটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় বন্যার পানির তোড়ে সড়কটি হাওড়ে বিলীন হওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের কাজ চলছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সরাইল-অরুয়াইল সড়কের। একদিকে মেরামত অপরদিকে ভাঙন, এ খেলায় বছরের পর বছর পার হচ্ছিল। অবশেষে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেল সড়কটি।

বৃহস্পতিবার থেকে ওই সড়কে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত বুধবার থেকে পানি বাড়তে থাকায় সড়কে ফেঁসে যাচ্ছিল বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।

বেশ কয়েকদিন  ধরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে চুন্টা এলাকা থেকেই সড়কটির কিছু জায়গা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আর ভূঁইশ্বর বাজার থেকে কালিশিমুল পর্যন্ত এক দেড় কিলোমিটার সড়কের উপর প্রায় আধা/এক  ফুট পানি।

সড়কের উপরে পানির স্রোত এবং ঢেউয়ের কারণে হাওর ও সড়ক চেনা দায়। বাড়িঘরের সীমানা অনুমান করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মোটরবাইকসহ অন্যান্য যানবাহন গত বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলেছে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে।

ব্রাহ্মনবারিয়া-২ আসনের (সরাইল-আশুগঞ্জ) মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব উকিল আবদুস সাত্তার ভুঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করলে উনি বলেন উনি এলাকার মানুষের সাথে রাস্তা সম্পর্কে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন ও সড়ক সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলছেন। শুধু তাই নয়, বন্যা পরবর্তী সময়ে দ্রততার সাথে  ক্ষতিগ্রস্থ রাস্থা যেন মেরামত করা হয় এ ব্যাপারেও কথা বলেন।

রাতে পানি আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বানের পানির তোড়ে এখন সড়কের পাশের বাড়িঘরও পড়েছে ঝুঁকির মুখে। কারণ সড়কটি যান চলাচলের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাঁধের মতো ভাটি এলাকার মানুষের বাড়িঘর বন্যার ভাঙন থেকে রক্ষা করতো।

সড়কটি নির্মাণের ফলে ওই এলাকার জনগণ অনেকটা স্বস্তিতে ছিল। বন্যার সময় রাত জেগে গরু, ছাগল ও ঘরের মালামাল পাহারা দিতে হতো না তাদের। ডাকাতের কোনো ভয়ও ছিল না।

পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের এলাকা বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখন সড়ক ভেঙে হাওরের পানির সঙ্গে মিশে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়কের মাটি, ব্লক কোনো কিছুই ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, সড়কের পাশে বসবাসকারী সহস্রাধিক পরিবারের দুঃখ কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। ১০ বছর আগের  অবস্থায় ফিরে যাবে অরূয়াইল পাকশিমুলের মানুষ।

অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাটি অঞ্চল এখন প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রাস্তার অবস্থাও মারাত্মক ঝুকির মধ্যে। তবে মেরামতের সময় যদি শিডিউল অনুসারে  ভাল মালামাল দিতো তবে রাস্তাটি এত তাড়াতাড়ি হুমকির মুখে পরত না।

সরাইল উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, সড়কের বর্তমান অবস্থা আমাদের জানা আছে। আমাদের কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছি। জেলা অফিস থেকে লোকজন এসে পরিদর্শন করে গেছেন। ইতমধ্যে আমরা সড়ক ঠিক রাখার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি সামনে আমরা সেখানে বস্তা ফেলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ভাটি অঞ্চল নামে খ্যাত সরাইল উপজেলার চুন্টা, পাকশিমুল, অরূয়াইল ও নাসিরনগর উপজেলার চাতলপার ইউনিয়নসহ বেশ কতগুলো এলাকার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের/ প্রাণের সরাইল-অরুয়াইল সড়কটি নির্মিত হয়েছে  ২০১০ সালে তখনকার মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এড জিয়াউল হক মৃধার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও তত্ত্বাবধানে।  হাওরবেষ্টিত  অরূয়াইল-পাকশিমুল ও চুন্টা ইউনিয়নের  স্বপ্নের সরাইল-অরুয়াইল রাস্তাটি  সরাইল হাসপতালের মোড় থেকে  দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৪ কিলোমিটারেরও বেশি।

নির্মাণের পর একাধিকবার সংস্কার কাজও হয়েছে। কাজে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় অনিয়মের প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। সড়কটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন শঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা।


Categories