সখীপুরে নৌকা ঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০

আবু সামা, টাংগাইল।।

সখীপুরের বহেড়াতৈল নৌকা ঘাটে আওয়ামী লীগ নেতার চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই সরকার, চাঁন মামুদ আলী, সবুজ মিয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন। 
বক্তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।
বক্তারা বলেন, বহেড়াতৈল ঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন ভিড় জমাচ্ছে। তাঁরা ওই ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি করে অবকাশকালীন সময় কাটাচ্ছেন। বহেড়াতৈল নৌকা ঘাটে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি ছোট-বড় নৌকা রয়েছে। প্রতিটি নৌকা থেকে কোন প্রকার রশিদ ছাড়াই ভর্তি বাবদ এক হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেকটি নৌকা থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবুর নেতৃত্বে এ চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। 
এছাড়া বহেড়াতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল সরকার, উপজেলা যুবলীগের সদস্য আলহাজ ও যুবলীগ নেতা মামুন সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা এলাকায় নজরুল ইসলাম নবু স্থানীয় সাংসদ জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের এর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।ওই ঘাটের একজন নৌকা চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ঘাটে সিরিয়াল পেতে হলে আওয়ামী লীগ নেতা নবুর লোকজনকে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদার টাকা না দিলে নৌকা চালাতে দেওয়া হয়না। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, সোলার সহ নানা সরকারি সহায়তা কে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবু অনেকের নিকট থেকে অর্থ আদায় করে থাকে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবু তাঁর বিরুদ্ধে আনীত চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত দাবি করে বলেন, বহেড়াতৈল বাজার ও নৌকা ঘাটের ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। যারা মানববন্ধন করেছে এরা একই পরিবারের লোক। উপজেলা ও থানা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ওই ঘাটে একটি কমিটির মাধ্যমে নৌকা প্রতি ৫০ টাকা আদায় করা হয়। ওই টাকা দিয়ে ঘাটের খরচ মিটিয়ে বাকি টাকা স্থানীয় মসজিদে দেওয়া হচ্ছে। এখানে আমি ও আমার লোকজন কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমাস বলেন, চাঁদাবাজির সাথে যুবলীগের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে যুবলীগের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা আ’লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমার জানার নেই, তবে চাঁদাবাজির বিষয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন  বলেন, বহেড়াতৈলের ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধে মানববন্ধন হয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। ওই নৌকা ঘাটে চাঁদাবাজির বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Categories