“সংবাদ প্রকাশের পর ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন জাহিদুল”

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০

জহিরুল হক, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

সংবাদ প্রকাশের পর ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন জাহিদুল।

বরগুনায় জেলা পরিষদ কর্মচারীর ঘুষ বাণিজ্যের খবর দেশের জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল দৈনিক আমাদের ফোরামে ‘বরগুনা জেলা পরিষদ কর্মচারী জাহিদুল’র রমরমা নলকূপ বানিজ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে ভুক্তভোগী মোঃ মজিবর খানের কাছে ৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত অনুমান ১১.৩০ টায় ঘুষের ৩০,০০০ টাকা ফেরত দিলেন বরগুনা জেলা পরিষদে কর্মরত দারোয়ান কাম-কেয়ারটেকর জাহিদুল ইসলাম @ মাইদুল।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মজিবর খান বলেন করোনার শুরুতে জেলা পরিষদ কর্মচারী জাহিদুলের কাছে একটি গভীর নলকূপ পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করি। তিনি আমার বাড়ির পাশের লোক ও চাচাত ভাই। আত্মীয় সুবাদে আমার কাছে গভীর নলকূপ বাবদ ৩০,০০০ টাকা দাবি করে বলে টাকা অফিসে না দিলে কর্তৃপক্ষ নলকূপ দেয় না। তাই বিশুদ্ধ পানির জন্য বাবার রেখে যাওয়া ডিপিএসটি ভেঙে জাহিদুলকে টাকা দেই।

৫-৬ মাস পেরিয়ে গেলেও নলকূপ না পেয়ে জেলা পরিষদে যোগাযোগ করিলে তালিকায় আমার নাম না আসায় আমি জাহিদুলের কাছে নলকূপ চাইলে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে ঘুরাতে থাকে এবং আরও ৬ মাস অপেক্ষা করতে বলে। এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ন্যায় বিচারের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর আবেদন করি। আবেদন ও সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে জাহিদুল আমাকে রোববার দিবাগত রাত অনুমান ১১.৩০টায় ৩০,০০০ টাকা ফেরত দেয়। সকালে আমার নিকট এসে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে যায় এবং বলে জেলা পরিষদে গিয়ে কর্মকর্তাদের নিকট বলতে বলে আমি নলকূপের জন্য টাকা দেইনি আমার আত্মীয় বিধায় ধার বাবদ টাকা দিয়েছি। কিন্তু সত্য এটাই যে আমি নলকূপ পাওয়ার জন্য জাহিদুলকে ৩০,০০০ টাকা দিয়েছি।

জাহিদুল ইসলাম @ মাইদুল ২০১৭ সালে বরগুনা জেলা পরিষদে দারোয়ান কাম-কেয়ারটেকার পদে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বেতাগী ডাকবাংলোতে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একাধিকবার অভিযুক্ত জাহিদুলকে মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেনি।
উল্লেখ্য সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের মাইঠা (কড়ইতলা) গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী নান্না মীরের পুত্র মামুন মীর গভীর নলকূপ পাওয়ার জন্য ২৭,০০০ টাকা দিয়েও নলকূপ ও টাকা কোনটাই না পেয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বরাবর ১৪/০৭/২০২০ইং তারিখ ডাকযোগে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বরগুনার জেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ০৬/০৮/২০২০ তারিখে ২৮নং স্মারকে তদন্ত প্রতিবেদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহেদুর রহমান, জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল আলমকে আহবায়ক করে ০৩ সদস্য কমিটি গঠন করে আগামী ০৮/০৯/২০২০ তারিখে অভিযোগের তদন্ত করবেন বলে জানা গেছে।

 


Categories