শ্রীনগরের পশ্চিমাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত 

প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

 

প্রদীপ কুমার সাহা, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ।।

শ্রীনগরের পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে । এলাকার অনেক বাড়িঘর এমনকি প্রধান সড়ক ও বন্যায় তলিয়ে গেছে । বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার ।

সরজমিনে দেখা যায়, ভাগ্যকুল ও বাঘড়া ইউনিয়ন নদী তীরবর্তী হওয়ায় অনায়াসেই বন্যার পানি জনবসতিপূর্ন এলাকায় ঢুকছে । আর এতেই প্লাবিত হয়েছে ভাগ্যকুল বাজারসহ তৎসংলগ্ন এলাকা, রাঢ়ীখাল এলাকার কবুতরখোলা, বাঘড়া এলাকার মধ্য বাঘড়া, মাঘঢাল, কাঁঠালবাড়ী, নয়াবাড়ী, কামারগাঁও এলাকার কেদারপুর, জগন্নাথপট্টিসহ অন্যান্য বিস্তীর্ন জনপদ ।

কামারগাঁও হয়ে জগন্নাথপট্টি যাওয়ার সকল পথ ঘাট এখন বন্যার পানিতে প্লাবিত । এলাকার কলেজ ছাত্র হামিদুল্লাহ রাহাত জানায়, বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করায় অনেকে বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে । দুর্যোগ থেকে পরিত্রানের আশায় অনেকেই রাস্তার পাশে উঁচু জায়গায় আবার কেউবা প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদে গরু ছাগলসহ আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে ।

কামারগাঁও আলহাজ্ব কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আশরাফুল আলম জানায়, করোনার কারণে গৃহবন্দি মানুষ এমনিতেই বিষিয়ে উঠেছে, তাই তাঁরা আসন্ন ঈদ উৎসবে একটু বৈচিত্র্যের আশায় ব্যাকুল ছিল । কিন্তু হঠাৎ বন্যা তাঁদেরকে ক্রমশ অমানিশার অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে । অনেকের সামর্থ থাকা সত্বেও পর্যাপ্ত উঁচু জায়গার অভাবে এবার ঈদুল আযহায় কোরবানী দিতে পারবে না । তিনি বলেন, কামারগাঁওয়ের কেদারপুর এবং দোহার শ্রীনগর মূল সড়কের দক্ষিন পার্শ্বের অধিকাংশ মানুষের বসত ঘরেই পানি উঠেছে । আকস্মিক বন্যায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে । তাঁদের আশংকা, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের অভাবে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ যেমনি বাড়বে, তেমনি গবাদিপুশু হাঁস মুরগী নিয়ে এলাকাবাসি অসহনীয় দুর্ভোগে পড়বে । এব্যাপারে এলাকাবাসি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।

শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসন বন্যার্তদের মাঝে ত্রান তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন । ইতিমধ্যেই বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান মামুন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি)কেয়া দেবনাথ সহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ।