**শূন্য** ছন্দা দাশ

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০
স্মৃতিরাও এখন লুকোচুরি খেলে
সিঁড়ি ভাঙা পথে। যেতে যেতে যাবতীয়
সঞ্চয়গুলো আঁকড়ে ধরার ব্যর্থ প্রয়াসে
ক্ষতবিক্ষত হই।
তবুও কখনও মনে পড়ে পেছনের
কোন মুখ ঈশ্বরের মতো দামি। তখন হাসি।
হাসতেও এখন বড় বেশি দাম দিতে হয়।
হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো সেদিন
আকাশ এলো মনের জানালা দিয়ে।
আকাশ কে চেন তো?
যে আজীবন শূন্য পেত অংকে।
অংকের স্যার তাকে মারতে মারতে
বলতেন আমার বেতও ক্লান্ত হলো রে
তবুও তোকে মানুষ করতে পারলাম না।
জীবনটাই তোর শূন্য।
সেদিন ভেবেছিলাম অংক না পারলে কি
জীবন শূন্য হয়ে যায়?
তবে বীণাপানি যে প্রতি পরীক্ষায় পূর্ণ
নাম্বার নিয়ে প্রথম হয় তার জীবন বুঝি
পরিপূর্ণ হবে!
আমিও চেষ্টা করতাম বীণাপানির মতো
জীবনকে পূর্ণ করবার আশায়।
মাস্টারমশাই আজ আর নেই। থাকলে
বলতাম আমাদের মধ্যে বীণাপানির
সবচেয়ে বেশি শূন্য জীবন।
জীবনে ঘা খেতে খেতে এখন সে
মেন্টাল এসাইলামে বিড়বিড় করে
কাকে যেন ডেকে বলে কখনো
অংক মেলাতে যেও না। ঠকে যাবে।
আমি ভাবি জীবন সবারই বেলা শেষে
শূন্যের মধ্যেই আবর্তিত হতে থাকে।
আমাদের মাস্টারমশাইও জীবনের
শেষভাগে বৃদ্ধাবাসে বসে অংক মেলাতেন।
কবি ও গল্পকার
আমার প্রিয় কবি রেজা রহমানের অনুরোধে
আমি কবিতাখানি তাঁর জন্যই ভাবনা ছাড়াই লিখেছি।
লেখা নয়, বন্ধুত্বের দাবি, ভালোবাসাই এখানে মূখ্য।