শুধুমাত্র বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের চাঁদায় অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তা কী?

প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২০

আলহাজ্ব এয়াকুব আলী স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক জনাব ফরিদা বানু ২০১৭ সালে অবসর গ্রহণ করেও অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা না পেয়েই গত ৩০ জুলাই মারা গেছেন। অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট আইনে বলা হয়েছে শিক্ষক কর্মচারীদের নির্ধারিত ৬% চাঁদা পরিশোধের পর ঘাটতি পূরণ করবে সরকার। এতদসত্ত্বেও শিক্ষক কর্মচারীদের বাড়তি সুবিধা না দিয়ে আইন অমান্য করে অতিরিক্ত ৪% কর্তন করা হচ্ছে। অবসর কল্যাণ ট্রাস্ট ফান্ডে কোটি কোটি টাকা জমা আছে অথচ শিক্ষকরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে। শুনা যাচ্ছে অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা সরকারি ব্যাংকে না রেখে তফসিলি ব্যাংকে জমা রেখে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে। শুনা যাচ্ছে ইতিপূর্বে অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের সচিবদ্বয় খোড়াযুক্তি উপস্থাপন করে একইভাবে শিক্ষকদের অর্থ তছরূপ করেছেন। যুগ যুগ ধরে এই দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়ব্যায়ের কোন হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করেনি। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের আয়ব্যায়ের স্বচ্ছতার জন্য দূর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ৯৭ শতাংশ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এছাড়াও দেশের স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন সহ বিভিন্ন জাতীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। জাতীয় উন্নয়ন অগ্রগতিতে এবং সমাজ বিনির্মাণের নিপুণ কারিগর শিক্ষকদের অবসর পরবর্তীতে দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তায়। তা সত্ত্বেও শিক্ষক কর্মচারীরা সারা চাকরি জীবনে চাঁদা প্রদান করেও অবসর পরবর্তী তাদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত না পেয়ে মৃত্যুবরণ সত্যি অমানবিক। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবসর প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে সকল শিক্ষক কর্মচারীদের সরকারি চাকরিজীবীদের মতো অবসর সুবিধার ভাতা প্রদান করতে হবে। অতিরিক্ত চাঁদার বিষয়ে বলতে চাই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের চাঁদার অর্থায়নে যদি অবসর সুবিধার অর্থ দিতে হবে, তবে এই অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তা কী? অনতিবিলম্বে অবসর কল্যাণ ট্রাস্ট ব্যবস্থা বাতিল করে সরকারি নিয়মে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পেনশন সুবিধা প্রদানের অনুরোধ করছি। শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে জাতীয়করণের ঘোষণা দিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী চিরস্বরণীয় করতে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হোক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার শ্রেষ্ঠ উপহার।


Categories