শিশু শিক্ষার্থী ও তার পরিবেশ

প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০
নূরুল ইসলাম, বগুড়া :
শিশুর জীবনে পরিবেশের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পরিবেশের উপর নির্ভর করে শিশুর সার্বিক তথা যথাযথ বিকাশ। শিশুর পরিবেশ বলতে বুঝায় তার গৃহাঙ্গন বা পারিবারিক পরিবেশ এবং বাইরের পরিবেশ, যে পরিবেশে শিশুরা বিচরণ করে থাকে। পারিবারিক বা ঘরোয়া পরিবেশের উৎকর্ষ সাধন নির্ভর করে পরিবারের প্রধান বা গৃহকর্তার উপর। গৃহকর্তার জ্ঞান, উন্নত রুচি, প্রগতিশীল মন ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে উন্নত পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চয়তা ।শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে শিক্ষকের কাজ আবর্তিত হয়। শিক্ষকের কাজের সার্থকতা নির্ভর করে শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু মনোনিবেশের উপর। বর্তমানে শিক্ষাকে আধুনিক সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে ।শিশুর কার্য এখন সম্পন্ন হয় শিক্ষক-ছাত্রের সহযোগিতায় ।পূর্বে এর বিপরীত অবস্থা বিরাজমান ছিল। শিখণে শিক্ষকের প্রাধান্য বেশি ছিল । শিক্ষার্থীদের নিরব স্রোতার ভূমিকা পালন করতে হতো। এ অবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষার্থীর প্রতিভা বিকাশে যে সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে তাতে শিক্ষক সমাজ সহজে তাদের কাজকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিতে পারেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক দাতা গ্রহীতার সম্পর্ক নয়। শিক্ষক শিক্ষার্থীর পথ প্রদর্শক অথবা সহযোগী ব্যক্তিত্ব। আগামী দিনের বংশধর আমাদের এ শিশুর উত্তম পরিচর্যার উপর নির্ভর করতে তাদের স্বার্থক জীবন। শিশুর পরিচর্যার দায়িত্ব শুধু পিতা মাতার উপর নির্ভর করে না। এ দায়িত্ব পরিবারের প্রত্যেকের তথা সমাজকেও গ্রহণ করতে হয় ।কোন কাজের সুষ্ঠু সম্পাদন যেমন একজনের দ্বারা সম্ভব নয়, তেমনি শিশুর সুষ্ঠু বিকাশ নির্ভর করে দায়িত্ববান প্রত্যেকের সচেতনতার উপর।তাদেরকেই ঘিরেই পিতা মাতার ভবিষ্যৎ স্বপ্নজাল নির্মিত হয়। আবার এ শিশুরাই পিতা -মাতার চলার পথকে বন্ধুর করে তোলে সমাজের সমস্যা হয়ে ওঠে যদি তাদেরকে বিকাশের সুযোগ না দেওয়া হয় ।যার হাসিতে পৃথিবীর রঙ্গিন হয়, যার স্পর্শে জননী বাঁচার প্রেরণা পায়, যাদের অনুপস্থিতিতে পরিবেশ নীরস, নিরেট ,আনন্দহীন হয় সেই শিশুদেরকে সুন্দরভাবে তোলার জন্য পরিবেশের প্রভাব কম নয়। তাই আমাদের বাস্তব সম্পন্ন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পরিবেশকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। গৃহ, বিদ্যালয় এবং সমাজ। গৃহ বলতে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, তাদের স্নেহ-ভালবাসা ,নিষ্ঠুরতা ও ঈর্ষা-বিদ্বেষ ইত্যাদির সমষ্টিকেই বুঝায়। ঘরের গঠন, আলো-বাতাস ও খাদ্য এসব গৃহ পরিবেশের উন্নতি সাধন করে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নীড় রচনা করা প্রত্যেক পিতা-মাতার পবিত্র দায়িত্ব । সন্তানের মাতাকে এক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হয়। শিশুরা সাধারণত ভাষাগত সমস্যায় ভোগে সে ক্ষেত্রে তার পরিবেশর অর্থাৎ পিতা-মাতার মুখের ভাষাকে অনুসরণ করে । সুতরাং এক্ষেত্রে পিতামাতাকে সতর্ক হতে হবে। শিশুর মুখের ভাষা যাতে সুন্দর হয় এবং সাবলীল ভাবে কথা বলতে পারে তার জন্য পিতা-মাতার ভূমিকা বেশি ।শিশুর সুষ্ঠু শব্দ ভান্ডার গড়ে তুলতে হবে তাদের মনের ভাব সুন্দর ভাবে প্রকাশ এর সাহায্য করতে হবে। কথা বলার সুষ্ঠু পরিবেশ শিশুর শিক্ষার সহজ করে তোলার ব্যাপারে বাবা-মাকে ভূমিকা রাখতে হবে। শিশুর ভাষাগত সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিক্ষক সমাজ শিশুর ভাষাগত সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তাদের ভূমিকা ও দায়িত্ব কম নয়। অধিকাংশ শিশু স্কুলত্যাগী হওয়ার কারণ হচ্ছে পঠিতব্য বিষয়ের বোধগম্যতার অভাব। যখন পাঠ্যবিষয় তার কাছে নীরস এবং কঠিন মনে হয়, তখন পিতা-মাতার শত কথা এবং শিক্ষকের বেত্রাঘাতেও তাকে পঠনে মনযোগী করানো যায় না। কাজেই পরিবেশের সাথে সাথে বিদ্যালয়ের পরিবেশ জড়িত। শিক্ষকের আদর, যত্ন উপদেশ-নির্দেশ, বন্ধু-বান্ধবের ভালোবাসা এবং খেলাধুলার জয়-পরাজয় ইত্যাদি সবকিছু মিলে একত্রে বিদ্যালয়ের পরিবেশ। বিদ্যালয়ের এমন ভাবে সমাজের ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজন মোতাবেক শিক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে ,যাতে করে শিক্ষা শেষে শিশুরা জীবন সংগ্রামে সফলকাম হতে পারে ।”বংশগতি ‘থেকে যেসব সম্ভাবনা শিশুকে দান করে তা উত্তম পরিবেশে বিকশিত হয়। শিশুর উত্তম পরিবেশ প্রদানে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। এই ব্যাপারে অবহেলায় বহু সম্ভাবনাময় শিশু অকালের নষ্ট হয়ে যায় ।অর্থাৎ তাদের প্রতিভার সম্ভাবনার ছাপ বাস্তবে ধরে রাখতে পারে না। অতএব শিশুর পারিবারিক এবং সামাজিক উভয় পরিবেশের উন্নয়নে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। শুধু ঘরোয়া বা গৃহ পরিবেশে শিশু সুষ্ঠুভাবে বিকশিত হতে পারেনা। গৃহ, বিদ্যালয় এবং সমাজ পরিবেশ যত উন্নত ও সুন্দর হবে শিশুর বিকাশও তত সহজ ও সুন্দর হবে। সুতরাং আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধর প্রাণপ্রিয় শিশুদের সার্বিক বিকাশের তাদের পরিবেশ উন্নয়নের সকলের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা অত্যাবশ্যক।