শিবপুরে ইউএনওর ইনোভেটিভ কাজে উপজেলা চেয়ারম্যান অসন্তুষ্ট।ক্ষোভে কথিত ঠিকাদারদের দিয়ে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দক্ষ,সৎ, নির্ভীক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: হুমায়ুন কবীর এর বিরুদ্ধে ভূয়া, অসত্য ও মিথ্যা অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করার অভিযোগ উঠেছে ।জানা যায় হাট বাজার ব্যবস্থাপনা হিসাব পরিচালনা, উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন না করে জুন মাসের শেষে বিল উত্তোলন, পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিধিমালা, উপজেলা পরিষদ আইনসহ অন্যান্য বিধিমালা না মানা, উপজেলা পরিষদ সভার কার্যবিবরণী উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় হতে নিজের মত করে প্রস্তুত করাসহ ইত্যাদি বিভিন্ন অনৈতিক কাজে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসম্মতি প্রদানের কারণে শিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশীদ খান শিবপুর উপজেলার ইউএনও এর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে কথিত ৮/১০ জন ঠিকাদার দিয়ে ১৫ জুলাই বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। ইউএনও এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকে উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তবায়নের হার যাচাই বাছাই করে কাজের গুনগত মান নিশ্চিত সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বিল প্রদান করে থাকেন। আরও জানা যায় পৌরসভার ভিতরের কিছু উন্নয়নমূলক কাজ, এডিপির বিভিন্ন প্রকল্প এবং ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দকৃত কিছু ব্রীজের কাজের টেন্ডার প্রদান না করে উপজেলা চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোকদের দিয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে ইউএনওকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ইউএনও এই অনৈতিক চাপে নতি স্বীকার না করে বিধি মোতাবেক টেন্ডার প্রদানসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করেন। যার ফলে উপজেলা চেয়ারম্যান ব্যাক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে শিবপুরের দক্ষ ইউএনও এর বিরুদ্ধে অসত্য ও মিথ্যা অভিযোগ এনে ঠিকাদার নন এমন ব্যাক্তিদের দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করিয়েছেন। স্থানীয় অফিস হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় শিবপুর উপজেলায় প্রায় ৩/৪শত ঠিকাদার রয়েছেন।

কিন্তু উল্লিখিত মানব বন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনে ৮/১০ জন প্রকৃত ঠিকাদার (রাব্বি এবং নিপুন খানসহ কয়েকজন) উপস্থিত ছিলেন যারা উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা এবং আত্বীয় স্বজন। এ সকল বিষয়ে চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান । স্থানীয়ভাবে খোজ নিয়ে জানা যায় শিবপুর পৌরসভার IUIDP প্রকল্পের কাজসমূহ egp টেন্ডারের মাধ্যমে, পৌরসভার অন্যান্য সকল কাজ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ব্রীজ ও হেরিং বন্ড রাস্তার কাজসহ অন্যান্য সকল কাজ যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদারগণের উপস্থিতিতে স্বচ্ছতার সাথে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।অপরদিকে বুধবার সকালে কতিপয় ঠিকাদার বহিরাগত ভাড়াটিয়া সাধারণ লোক দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউএনওর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে এলাকাবাসী জানায়। তাদের অভিযোগ ঠিকাদারদের অভিযোগ তাদের কাজের বিল ও জামানতের টাকা ইউএনও অন্যায় চাহিদা পুরন না করায় তাদের বিল দিচ্ছেন না।এ সকল বিষয়ে ইউএনও মো: হুমায়ুন কবীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান “ আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট”। খোজ খবর নিয়ে জানা যায় ইউএনও হুমায়ুন কবীর শিবপুর উপজেলায় যোগদানের পর আলীয়াবাদ গুচ্ছ গ্রামে মাটি ভরাট করে ঘর নির্মাণ, স্থানীয় পর্যায়ে আড়ালী আবাসন প্রকল্প নির্মাণ, জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ, কলেজ গেইট এলাকায় দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ব্রীজের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ সকল বরাদ্দ হতে গৃহীত উন্নয়নমূলক কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, কাজ না করে ঠিকাদারগণ কর্তৃক বিল উত্তোলণ বন্ধ করা, গনশুনানীর মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা সমাধান করা, বাল্য বিবাহ ও মাদক নির্মূলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কাজ করা, করোনা মোকাবিলায় সরকারী নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়ন করা, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করা, গরীব দুখী মানুষদের সাহায্য সহায়তা প্রদান করা, বালু উত্তোলন ও টিলা কাটা বন্ধ করাসহ বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুমায়ুন কবীর এই উপজেলায় যোগদানের পর হতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন এবং লাল মাটির টিলা কাটা বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এই সকল অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়ার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ইউএনও অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে অটল থাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি ইউএনওর বিরুদ্ধে লেগে আছেন।শিবপুর উপজেলায় বিগত সময়ে দীর্ঘদিন যাবত বিএনপির সংসদ সদস্য থাকায় উপজেলাটি বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। এই উপজেলার বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ, সাবেক সাংসদ এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ বিরাজমান। যার ফলে সৎ ও নির্ভীক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রায় সময়ই তাদের ত্রিমুখী রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। উল্লেখ্য যে উক্ত মানব বন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনে কথিত ঠিকাদারগণ যে অভিযোগসমূহ উপস্থাপন করেছেন তার স্বপক্ষে কোন প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।


Categories