শিক্ষা ব্যবস্থা সংকট –সমাধানে করণীয় কতিপয় প্রস্তাব

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সংকটকালে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিডিউল লণ্ডভণ্ড হয়ে সরকারের বিভিন্ন রুপরেখা অনিশ্চিত হয়ে পরছে। তাই শিক্ষার্থীদের এই অপুরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ টিভি চ্যানেলে ক্লাস পরিচালনা হচ্ছে। সেজন্য শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি। অভিনন্দন জানাচ্ছি মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষা উপ-মন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষা সচিবসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদে।সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ আপনারা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অনলাইন ক্লাস উপভোগ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক মেসেঞ্জারে আলোচনা করে তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও সংকট নিরসনে ভূমিকা পালন করবেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রান জাতির ভবিষ্যৎ।তারাই আগামীদিনের বাংলাদেশ তাই তাদের সুস্থ জীবন এবং আদর্শ জীবন গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয়গুলো খোঁজখবর রাখতে হবে পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি নীতিমালা করোনা সংকটকালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করা,হ্যান্ড সেনিটাইজেশন ব্যবহার করা, গরম পানি দিয়ে গড়গড়া গুলি করা এবং সবসময় বাসায় অবস্থান করছে জানাতে হবে। শিক্ষকদের উচিত সরকারি সকল নিয়ম নীতি মেনে চলা পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণীর লোক সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এমতাবস্থায় নিম্নবিত্ত পরিবার ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের যারা আর্থিক সংকটে ভুগছেন তাদেরকে সাধ্যমত সহযোগিতা, সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী দান করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা গতিশীল ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে মুজিববর্ষে বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি বদলি বাস্তবায়ন করতে হবে। দূরদূরান্ত শিক্ষক যাতায়াতে সমস্যা, আর্থিক টানাপোড়েন, পরিবারের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সামাজিক নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পাশাপাশি সকল শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা চালু গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বিষয়।
মুজিব বর্ষ স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখতে সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি প্রজ্ঞাপন জারি করার জন্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ করছি। বদলি না থাকার ফলে মহিলা শিক্ষকদের দূর-দূরান্তে চাকরি করার ফলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও নানা সংকট দেখা দেয়। আমরা চাই সরকারের দেওয়া বিদ্যমান সুবিধার মধ্যে বদলি ব্যবস্থা চালু করা হোক। বদলি ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষক, ছাত্র অভিভাবক খুবই উপকৃত হবেন। শিক্ষকরা বিভিন্ন অঞ্চলে বদলি হয়ে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মেধা বিকাশ ঘটাতে সর্বোচ্চ জ্ঞান প্রদান করতে সক্ষম হবেন।

প্রভাষকদের অনুপাত প্রথা ৫ঃ২ একটি কালো প্রথা বা কালো আইন যার ফলে প্রভাষকদের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।০৭ জন প্রতিযোগীর মধ্যে মাত্র দুইজন প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক হিসেবে প্রমোশন হওয়ার পরে বাকি পাঁচজন আজীবন প্রভাষক হিসেবে থেকে অবসরপ্রাপ্ত হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান কোন প্রার্থী, ছাত্র কিংবা সন্তান পরে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পাচ্ছেন যার ফলে পরে যোগদান করেও জুনিয়ররা সিনিয়র হচ্ছেন আর সিনিয়ররা জুনিয়র হয়ে আত্ম সম্মান ও মান-সম্মান নষ্ট হচ্ছেন। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অনুপাত প্রথা বাতিল করে প্রয়োজনে পরিক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ একটি প্রতিষ্ঠান সার্বিক বিষয় দেখভাল করার জন্য এই পদটির গুরুত্ব অপরিসীম।এমপিও নীতিমালা ২০১০ অনুসারে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকের যৌথ সমন্বয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে একজন অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নির্বাচিত হতেন। বর্তমান ২০১৮ নীতিমালা অনুসারে শুধু সহকারী অধ্যাপকের সুযোগ দেওয়ায় অধ্যক্ষ পদে প্রার্থী সংকট দেখা দিবে কারণ অনুপাত প্রথা বাতিল না করে শুধু সহকারী অধ্যাপক সুযোগ দেওয়ায় একটি জেলায় হাতেগোনা কয়েকজন সহকারী অধ্যাপক থাকেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই প্রশাসনিক পদে আগ্রহী নয়। সেক্ষেত্রে অধ্যক্ষ পদ পূরণ করার জন্য প্রয়োজনে আগ্রহ নন বা প্রশাসনিক কাজে দক্ষ কম প্রার্থীদেরকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে দায়িত্ব দিতে হবে। আর যদি প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক সমন্বয় হয় তাহলে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীদের মধ্য থেকে দক্ষ,যোগ্য অধ্যক্ষ নির্বাচন করলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সাধিত হবে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও শুধু সহকারী প্রধান শিক্ষকদের সুযোগ দেওয়ায় সেখানে প্রার্থী সংকট দেখা দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে ছাত্র-ছাত্রী প্লাস শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এমতাবস্থায় ২০১০ এমপিও নীতিমালা অনুসারে সহকারী শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক সমন্বয় প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা করলে একজন যোগ্য প্রশাসক নিয়োগ দেয়া সম্ভব।
গ্রেড বৈষম্য:শিক্ষক কর্মচারীদের ০৮ বছর চাকুরী অভিজ্ঞতা টাইম স্কেল বিলুপ্ত হয়ে ১০ বছর পর উচ্চতর গ্রেড নামকরণ করা হয়েছে। প্রভাষক ছিল ০৮ বছর পর ০৯ম গ্রেড ২২০০০/ স্কেল থেকে ০৭ম গ্রেড ২৯০০০/ স্কেল যা বর্তমানে সময় বেড়ে ১০ বছর হলেও ০৮ম গ্রেড ২৩০০০/ স্কেল। বিষয়টি অমানবিক নিষ্ঠুর ও লজ্জাজনক বটে।এরকম লজ্জাজনক ব্যবধান হয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষক বেতন স্কেল নির্ধারণ। সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরাও সেইম বৈষম্যের শিকার। তাই ০৮ গ্রেড বাতিল করে ০৭ গ্রেড নির্ধারণ হবে চুড়ান্ত সমাধান।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নামমাত্র ১০০০/ বাড়ি ভাড়া অপমানজনক। ১০০০ টাকায় দেশের কোথাও বাড়ি ভাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। তাই চলতি বাজেটে পুর্নাঙ্গ বাড়ি ভাড়া নিশ্চিত করতে সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
এমপিও নীতিমালা সংশোধন কমিটির আহবায়ক ও সকল সম্মানিত সদস্যদের প্রতি অনুরোধ নীতিমালা সংশোধনের পুর্বে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি, প্রভাষকদের অনুপাত প্রথা বাতিল, প্রভাষক সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল ৮ম গ্রেড বাতিল করে ৭ম গ্রেড উত্তীর্ণ নিশ্চিতকরণ, অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা, ২০১০ এমপিও নীতিমালা অনুসারে প্রভাষকদের ১২ বছর পরে অধ্যক্ষ ও সহকারী শিক্ষকদের ১২ বছর পর প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ নিতে হবে। চলতি বাজেটে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষা উপ-মন্ত্রী, মাননীয় অর্থমন্ত্রী, অর্থনীতিবীদ, শিক্ষাবিদ সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি।
ধন্যবাদান্তে,
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম,
সাধারণ সম্পাদক,
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি বাস্তবায়ন কমিটি।