শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবী শুধু শিক্ষকদের নয়, সার্বজনীন

নিউজ নিউজ

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২১

গত এক যুগ ধরে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকেরা দেশের সকল এমপিওভুক্ত কাম্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের দাবীতে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছে৷ বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক গতিশীলতায় সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ করা সরকারের তেমন কোনো কঠিন কাজ নয় এবং অক্ষমও নয়৷ নীতি নির্ধারক ও পরিকল্পণাকারীদের কাছ থেকে সরকারের উচ্চ মহলে জাতীয়করণের যৌক্তিকতা এবং শিক্ষার ভবিষ্যত সুফলতা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে সরকারের পক্ষ থেকে সেটি সহজেই বিবেচিত হবে বলে শিক্ষক সমাজসহ সকল মহল সেটা আশা ও বিশ্বাস করে৷
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলে এ থেকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বেশি উপকৃত হবে৷ শিক্ষা সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্র সকল নাগরিকের শিক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যিক কর্তব্য৷ দেশের যত উন্নয়ন হয় সকল উন্নয়ন থেকে সকলে সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে না এবং সকলে সে সুযোগ নেয়ার প্রয়োজনও হয় না৷ কিন্তু শিক্ষা সকল নাগরিক গ্রহণ করে এবং সরকারি এ প্রকল্প থেকে সকলে সমান সুবিধা অর্জন করতে পারে৷
রাষ্ট্র চলে রাষ্ট্রের সকল জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ টেক্সের টাকায়৷ জনগণ যেমন রাষ্ট্রকে যোগান দেয় তেমনি রাষ্ট্রও জনগণকে সুযোগ সুবিধা প্রদান করে থাকে৷ সকল জনগণের সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশীদারিত্ব থাকলেও সকল উন্নয়ন থেকে সকল জনগণ সুবিধা গ্রহণের প্রয়োজন হয় না৷ শিক্ষা এমন একটি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পণা যা থেকে সকল জনগণ সমান সুযোগ পাবে এবং শিক্ষায় বৈষম্যের অবসান হবে৷ একই দেশে বাস করে একজনের সন্তান ২০টাকা মাসিক বেতন ব্যয়ে স্কুলে পড়বে কিন্তু অন্যজনের সন্তান ২০০টাকা মাসিক বেতনে পড়বে তা হতে পারে না৷ রাষ্ট্র সবাইকে যেকোনো সুবিধা সমান দিতে হবে৷
এ দেশের কত শতাংশ লোক সরকারি চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকে? কত শতাংশ বৃদ্ধ বয়স্ক ভাতা পেয়ে থাকে? কোনো শিশু কি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সরকারি কোনো ভাতা পেয়ে থাকে? তাহলে সকল শিশু অন্তত পক্ষে শিক্ষার সুযোগটা সরকারিভাবে পাবে না কেন?
অন্যদিকে একই কর্ম ঘণ্টা, একই কাজ, একই সিলেবাস থেকে পড়িয়ে কেউ সরকারি শিক্ষক আবার কেউ বেসরকারি শিক্ষক! কেউ বাড়ি ভাড়া পায় মুল স্কেলের ৪৫-৬০% কেউ আবার নির্ধারীত এক হাজার টাকা৷ সরকারি শিক্ষক হলে সন্তানের জন্য শিক্ষা ভাতা পাবে, বেসরকারি শিক্ষক হলে পাবে না! এ সকল বৈষম্য দূরীকরণের এক মাত্র উপায় সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক যোগে জাতীয়করণ করা৷ এতে শিক্ষার মান বাড়বে, প্রতিষ্ঠান থেকে পেশী শক্তি প্রভাব দূর হবে, প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি দূর হবে, অধিক মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতায় আসবে এবং টাকার অভাবে কোনো শিশু শিক্ষা গ্রহণ থেকে সরে গিয়ে শিশু শ্রমিক হবে না৷

লেখক- মোহাম্মদ মহসিন মিয়া
শিক্ষক ও লেখক৷


Categories