শিক্ষায় সরকারি বেসরকারি বৈষাম্য : অনুপাত প্রথা বাতিলের দাবি

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যক্তিকে সুন্দর সামাজিক জীবনে উপযোগি করে তৈরি করা। আর ব্যক্তিকে সুন্দর সামাজিক জীবনের জন্য উপযোগি করে তৈরি করতে হলে চাই জীবন ঘনিষ্ট কর্মমূখী ও যুগোপোযোগি শিক্ষা ব্যবস্থা। যা সমাজ তথা দেশের জন্য কাঙ্খিত জনশক্তি তৈরি করবে। আর কাঙ্খিত জনশক্তি তৈরি করতে হলে শিক্ষাকে হতে হবে কর্মমূখী ও স্বসংসম্পূর্ণ। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে অক্ষম করে রাখা হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষার সকল স্তরে শিক্ষর্থীদের টেকসই ও গুনগত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

জীবন ঘনিষ্ট কর্মমূখী ও যুগোপযোগী শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা।
এ জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য কমিয়ে আনা। শিক্ষায় ৯৭% বেসরকারি আর ৩% সরকারি। ৯৭% ভাগ শিক্ষার কর্মকান্ড পরিচালনা করছে ৩% সরকারিরা। প্রাজ্ঞ অভিজ্ঞ দক্ষ একজন শিক্ষক নেতার মন্তব্য ৯৭% বাগ বেসকারি শিক্ষাকে ৩% সরকারিরা গলা চিপে ধরছে।
বেসরকারি শিক্ষায় অর্নাস মাস্টাস পাঠ দানকারী শিক্ষকদের এমপিও নেই। পূর্নাঙ্গ ঈঁদ বোনাস নেই, পূর্নাঙ্গ পূনাঙ্গ চিকিৎসা ভাতা নেই, জীবনে কারো কারো একটিও প্রমোশন নেই, বিনোদন ভাতা নেই, পূর্নাঙ্গ পেনশন নেই, পূর্নাঙ্গ ভবিষ্যত তহবিল নেই, শিক্ষা সহায়ক ভাতা নেই, পাহাড়ি ভাতা নেই, শুধু নেই আর নেই এর একমাত্র সমাধান সরকারি -বেসরকারি বৈষম্য কমিয়ে আনা।

আবার বেসকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহযোগি অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ নেই, যা আছে জীবনে একটি সহকারি অধ্যাপক তাও আবার অনুপাত প্রথা। অনুপাত প্রথার কারনে একজন কলেজ শিক্ষককে ৩০-৩৫ বছর চাকুরী করে প্রভাষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করতে হয়। দেখা যায় তাঁর ছাত্র অন্য প্রতিষ্ঠানে ৮-১০ চাকুরী করে প্রভাষক থেকে সহকারি অধ্যাপক হয়ে যায়।

বেসরকারি কলেজ ও মাদরাসায় সহযোগি অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃজন করা জরুরী। স্কেল পরিবর্তনে রয়েছে এক মহা হয়রানী সকল কাগজপত্র যোগদান অথবা প্রথম এমপিওর সময় জমা দেওয়া থাকলেও পুনরায় বার বার সকল কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যা মহা হয়রানী। আর তার জন্য গুণতে হয় ধাপে ধাপে কারী কারী টাকা। শিক্ষা অধিদপ্তরে পূর্বের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে সময় হলে প্রভাষক থেকে সহকারি অধ্যাপক পদে, সহকারি অধ্যাপক থেকে সহযোগি অধ্যাপক পদে অটো প্রমোশন দিলে এ মহা হয়রানীতে পরতে হয় না। আর গুণতে হয় না কারী কারী টাকা।
বছরে ২টি ঈদে বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য রয়েছে ২৫% ঈদ বোনাস-যা দিয়ে গরুর ভাগা তো দূরের কথা খাসির ভাগাও দেয়া যায় না। বেসরকারি শিক্ষকদের ঈদ বোনাসের হার/টাকার পরিমান কত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন কি ? শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষাভবন ও ৩% সরকারি শিক্ষকরা ঠিকই ১০০% বোনাস নিচ্ছেন আর বেসরকারিদের দিচ্ছেন-২৫% বোনাস। বিষটি বিবেচনা করা প্রয়োজন। বেসরকারি শিক্ষকদের স্বতন্ত্র ব্যাংক নেই। অভিলম্বে বেসরকারি শিক্ষকদের স্বতন্ত্র ব্যাংক চালু করা প্রয়োজন। মাদ্রাসায় আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স নেই। অবিলম্বে আরবি ভাষা কোর্স চালু করা জরুরী। জেলা সদরে কামিল মাদারাসা গুলোকে আরবি ভাষা কোর্স চালু করা যেতে পারে। প্রত্যেক উপজেলা সদরে একটি স্কুল ও কলেজ জাতীয়করন করা হয়েছে। দুঃখের বিষয় একটি মাদারাসাও জাতীয়করন করা হয়নি। এ ব্যপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করছি। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক পদ আছে। কিন্তু স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে না হলেও ৫-১০টি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে একজন স্বাস্থ্য সেবা/ডাক্তার পদ সৃষ্টি করে ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈষম্য কমিয়ে শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা দান করা হলে সেটা তাদের পাঠদানকে আরো বেগবান ও ফলপ্রসূ করবে। ফলে উপকৃত হবে শিক্ষার্থীরা।

লেখক
মোঃ আবদুর রহমান
উপাধ্যক্ষ,রোকনউদ্দিন মোল্লা গালর্স ডিগ্রী কলেজ,আড়াইহাজার,নারায়ণগঞ্জ


Categories