শিক্ষায় সরকারি বেসরকারি বৈষম্য নিরসনের পদক্ষেপ জরুরী

প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

শিক্ষা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর অবস্থা ভাল হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে এর অবস্থা খুবই নাজুক। এখানে শিক্ষা অনেকটা লাগামহীন ঘোড়ার মত। পেছন থেকে টেনে ধরার চেষ্টা হলেও প্রকৃত পক্ষে অনেকটা নিয়ন্ত্রনহীন।
মহামারী করোনায় এর প্রকৃত চিত্রটা অনেকটা আয়নার মত পরিস্কার হয়ে গেছে। করোনার সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সরকার আমার ঘর আমার স্কুল শিক্ষা কার্যক্রম চালু করলেও এখানে তিনটি শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উচ্চবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্যাটেলাইট টিভি, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ বা স্মার্ট ফোন নিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হচ্ছে আর মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা টিভি বা স্মার্টফোনের সহায়তায় শিক্ষা চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু নিম্ন ও প্রান্তিক শ্রেণীর পরিবারের সন্তানেরা পড়াশোনা চালিয়ে নেয়া অতিদূরহ হয়ে পড়েছে কারন তাদের ভরণপোষণের চেষ্টা এখানে মুখ্য পড়াশোনা তাদের বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ কার্যকর প্রতীয়মান হচ্ছে না।
শিক্ষার মূল কারিগর শিক্ষদের বেলায় এই একই বৈষম্যপূর্ণ দৃশ্য স্পষ্ট প্রতীয়মান। এখানে সরকারি বেসরকারী বৈষম্য পাহাড় সম।
বেসরকারি শিক্ষকরা শিক্ষার মূল দায়িত্ব পালন করলেও অবস্থা এমন যেন দায়ে পড়ে জাতির শিক্ষার দায় তাদের ঘাড়ে।
৯৭ ভাগ শিক্ষার দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা রাষ্ট্র থেকে পায় অনুদান যা দিয়ে পরের সন্তান মানুষ করলেও নিজের ভরণপোষণে অভাব যেন ছায়া সঙ্গী।
এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা অনুদান জাতীয় বেতন স্কেলে পেলেও বাড়ি ভাড়া চিকিৎসা ভাতা উল্লেখ করার মত নয়।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের মত মহান কাজের কারিগর শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য নেই শিক্ষা ভাতা,যা খুবই অমানবিক। উৎসব ভাতা পান ২৫% যা চরম বঞ্চনাকর।

এই সব বৈষম্য নিরসনের একমাত্র সমাধান হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করনে ও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন কল্পে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ ঘোষনা এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা।