শিক্ষার মানোন্নয়নে বদলির বিকল্প নাই

প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০
বদলি বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের দাবি। দেশের সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বদলি থাকলেও নেই শুধু বেসরকারি শিক্ষকদের। যুগের পর যুগ একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বেসরকারি শিক্ষকরা আজ ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। এটা এক ধরনের বন্দিদশা। যে কোন মূল্যে তারা এ বন্দিদশা থেকে মুক্তি চায়।
  নতুনত্বের প্রতি একটা বাড়তি আকর্ষণ সবার। একজন শিক্ষক বহু বছর একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে তার মধ্যে একঘেঁয়েমিতা সৃষ্টি হয়। নতুন কিছু দেখানোর মানসিকতা ধীরে ধীরে লোপ পায়। সেক্ষেত্রে কিছু কাল পরপর যদি বদলি করা হয় তাহলে নতুন প্রতিষ্ঠানে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার মানসিকতা সৃষ্টি হয়। নতুন কিছু করে দেখাতে চায়। সুনাম সৃষ্টির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। এতে ক্লাশে পাঠদানের মানও বৃদ্ধি পায়।
  কোন কোন স্থানে স্থানীয়দের দাপটে শিক্ষকরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। তারা স্বতস্ফূর্তভাবে ক্লাশে পাঠদান করতে পারেন না। আর যদি কোন শিক্ষকের বিরোধী দলীয় রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে তার ভোগান্তির আর শেষ থাকে না। পক্ষান্তরে কোন শিক্ষক যদি সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকেন, তাহলে সে শিক্ষক  ঐ প্রতিষ্ঠানের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। কারো কাছ তার জবাবদিহিতার কোন প্রশ্নই আসে না। এতে পাঠদান প্রক্রিয়া চরমভাবে বিঘ্নিত হয়।
    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোক সদস্য হিসেবে আসেন। দীর্ঘ দিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় অনেক সময় কোন কোন শিক্ষক কমিটির কঠিন চাপে থাকেন। এতে ঐ শিক্ষকের পাঠদান প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়।
  বর্তমানে সরকার প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আইন করেছেন। একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থাকার কারনে কিছু দূর্নীতিপরায়ন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছেন।
  দেশের শিক্ষার উন্নয়নে বতর্মান সরকার নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। নীতিমালা অনুযায়ী  বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের চিন্তা ভাবনাও তারা করছেন। যা বাস্তবায়নে সরকারের বাড়তি কিছু অর্থেরও প্রয়োজন আছে। তারপরও বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকার সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এমন কিছু বিষয় আছে যা বাস্তবায়ন করতে সরকারের বাড়তি কোন অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবেনা অথচ এর সুফল অনেক এবং সুদূর প্রসারি।  যা বাস্তবায়ন করতে সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। বদলি ঠিক তেমনই একটা বিষয়। এর বাস্তবায়নে শুধু একটা সুষ্ঠু নীতিমালা প্রয়োজন।
    বিভিন্ন সময়ের এমপিও নীতিমালায় বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও নীতি নির্ধারকদের সদিচ্ছার অভাবে এটি আজও সফলতার মুখ দেখতে পারেনি।
    এমপিও নীতি মালা ২০১৮ জারি হওয়ার পর বেসরকারি শিক্ষকদের মনে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকার যদি ইচ্ছা করেন তাহলে বদলি ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারবেন। এখন প্রয়োজন বদলি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতি মালা প্রনয়ন ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন।
    বেসরকারি শিক্ষকদের ব্যাপক দাবিদাওয়ার প্রেক্ষিতে সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন এমন একটি শোনা যাচ্ছিলো। যা ২০২০ সাল নাগাদ কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।
    বদলি কার্যকর হলে এতে যেমন অসংখ্য সমস্যার সমাধান হবে,  তেমনি বেসরকারি শিক্ষা ব্যাবস্থায় সঞ্চারিত হবে নতুন গতি – এমনটাই মনে করেন দেশের বেসরকারি শিক্ষক সমাজ।
লেখক :
মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন
প্রভাষক,
জিরাইল আজিজিয়া ফাজিল মাদরাসা
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।

Categories