শিক্ষার্থীদের প্রতি একজন শিক্ষকের অনুরোধ- বাসেদ আলী

প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২০

আমি মোঃ বাসেদ আলী প্রধান শিক্ষক, বাঁকরইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পত্নীতলা নওগাঁ। আমার প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি নিশ্চয় তোমরা তোমাদের নিজ বাড়িতে ভালো আছো। তোমরা জান চীনের উহান শহরে এক অদৃশ্য মহামারি ভাইরাস যার নাম কোভিড- ১৯। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ চীনের উহান প্রদেশে মারা যায়।২০১৯ সালে চীনের উহান প্রদেশে প্রথম এই ভাইরাস সনাক্ত ও আক্রান্ত হয়।এই ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয় কোভিড- ১৯ অর্থাৎ করোনা ভাইরাস ডিজিস-১৯।এর পর উহান প্রদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানূষ চলে এলে তাদের সাথে সাথে বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে।বাংলাদেশে ও মানুষের সাথে এই ভাইরাস প্রবেশ করে।বাংলাদেশে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রথম ধরা পড়ে বা সনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ।তারপর ঢাকাতে এইটা মহামারি রুপ ধারন করে।এই ভাইরাসের কারনে আমাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৭ মার্চ /২০২০ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়।তাই শ্রেণি কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সর্দি কাশি,জ্বর, গলা ব্যথা, সমস্ত শরীরে ব্যথা উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়। কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিন পর উক্ত উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়।তাই কোনব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বা আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকলে তাকে আইসোলশন বা ১৪ দিন হোম কোরাইন্টালে থাকতে হয়। উক্ত ১৪ দিন পর উপসর্গগুলো না দেখা দিলে সে ব্যক্তি নিরাপদ বলে ধরা হয়।এই ভাইরাসটি কোন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেই সেই ব্যক্তি ও আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে হাত নাক ও চোখের মাধ্যমে মুখের ভিতর গল বেশ কিছু অবস্থান করলে প্রথম দিকে বুঝা যায় না।এই অদৃশ্য ভাইরাস অজান্তেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ১৪ দিন ধরে পুষ্টতা লাভ ও বংশ বিস্তার করে। তারপর বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয় এবং শ্বাস নালীও ফুসফুস কে আক্রান্ত করে।ফুসফুস শক্ত ও শ্বাস নালী বন্ধ হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যায়।তাই আমাদের এই ভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা পেতে মুখে মাস্ক, হাতে গ্লোবস চোখে চশমা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাজে বাড়ির বাইরে যেতে হবে এবং সামাজিক দুরত্ব অর্থাৎ কোন ব্যক্তি থেকে কম্পক্ষে ৬ ফুট দুরে দুরে অবস্থান করতে হবে।এই ভাইরাস এর শরীর লপিড প্রোটিন দিয়ে গঠিত।তাই ক্ষার দব্য যেমন সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্যাভলন,ডিটল ইত্যাদির সংস্পর্শে মাত্র ২০ সেকেন্ডে মারা যায়। তাই আমাদের সকলকে সতর্ক ও সাবধানে চলাফেরা করতে হবে।আমাদের মধ্যে অনেক আছে যারা অন্যের দোষ ধরবে কিন্তু নিজে দোষ করে যাবে। নিজেই যেটা করবে অন্যকে সেটা করতে নিষেধ করবে।শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা দেখেছি আমাদের দেশের অধিকাংশ মানূষ নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণির। জীবন জীবিকার জন্য তারা অসচেতন পড়ি। স্বাস্থ্যবিধির কথা তারা মনেই রাখতে পারেনা বা রাখেন না।বন্ধুরা তোমাদের স্বাস্থ্য ঝুকির কথা মাথায় রেখে গত ১৭ মার্চ /২০২০ থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করেছেন।এখন আগামী ৩১ আগষ্ট/২০২০ পর্যন্ত আবার ছুটি ঘোষনা করেছেন।বন্ধুরা তোমাদের লেখাপড়ার তেমন ক্ষতি না হয় সেই জন্য সরকার সংসদ টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছেন।পাঠদানের রুটীনএর মাধ্যমে দেশের সংসদ টিভির মাধ্যমে যথারীতি পাঠদান চলছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন লাইন ক্লাশ চালু করেছেন।আমার ঘর আমার স্কুল। শিক্ষার্থীবন্ধুরা তোমরা তোমাদের নিজ নিজ ঘরে বসেই রীতিমত লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে আমার বাড়িতে আমার পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাতে বাড়ি কাজ দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্ধুরা নিজের জ্ঞান নিজে অর্জনে সবচেষ্ট থাকতে হবে।নিজ বাড়িতেই নিয়মিত লেখাপড়া করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে।শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা এতোমধ্যে বুঝতে পেরেছি কোভিড – ১৯ আমাদের শিক্ষা দিয়েছে

(১)স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

(২) সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

(৩) সামাজিক দুরত্ব বা নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে হবে।

(৪)নিজের কাজ নিজেই করতে হবে।

(৫)জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।

(৬) কোন আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

(৭)নিজ উদ্যোগে বা আগ্রহে নিজ বাড়িতে রুটীন অনুযায়ী নিয়মিত লেখা পড়া করে সিলেবাস শেষ করতে হবে।

(৮) নিজে প্রশ্নপত্র তৈরী করে নিজেই বাড়িতে পরীক্ষা দিতে হবে।

(৯) বিদ্যা অর্জন একান্ত নিজস্ব সম্পদ সর্বদা মনে রাখতে হবে।কাজেই নিজের বিদ্যা বা জ্ঞান অর্জনের জন্য নিজেই সচেতন আগ্রহী হয়ে ভালো ভাবে লেখাপড়া করতে হবে। মনে রাখতে হবে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে নিজেকেই স্বচেষ্ট হতে হবে বেশি।

(১০) নিজে পরিশ্রম না করলে কখনো একটা ভালো পজিশনে যাওয়া যাবে না কেননা আমরা জানি পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবি।


Categories