শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে সব শিক্ষককে এক প্লার্টফর্মে এসে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান।

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২১

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে সব শিক্ষককে এক প্লার্টফর্মে এসে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (বাবেশিকফো) এর আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২১ উপলক্ষে “বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন ও মুজিববর্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ”  শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। তিনি আরো বলেন ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ একটি যৌক্তিক দাবি। এমপিওভুক্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা যে অর্থ পান, তা দিয়ে তাদের পরিবার চালাতে কষ্ট হয়। সেটি নজরে এসেছে, এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এতে কত টাকার প্রয়োজন, তা হিসাব-নিকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। তিনি শিক্ষকদের বিষয়ে অনেক আন্তরিক।’

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সব স্থানে যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সময়ের প্রয়োজনে এটা করা হয়েছে। বর্তমানে সময় এসেছে সেগুলো গুছিয়ে নেওয়ার।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করা সরকারকে সরিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি দেশের ক্ষমতায় বসতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সবার চেষ্টায় তাদের হটাতে হবে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২১ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (বাবেশিকফো) আজ ৫ অক্টোবর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে “বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন ও মুজিববর্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ”  শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফোরাম সভাপতি জনাব সাইদুল হাসান সেলিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংরক্ষিত নারী আসন-১৭ এর মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব হাবিবা রহমান খান এবং সাবেক শিক্ষা সচিব এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের সম্মানিত কিউরেটর জনাব নজরুল ইসলাম খান (এন আই খান)।

বিশেষ অতিথি সম্মানিত সংসদ সদস্য জনাব আ.কা.ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি আমার দায়বদ্ধতা থেকেই মহান জাতীয় সংসদে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের কথা বলেছি। ভবিষ্যতেও তিনি একই দাবী আবারো জাতীয় সংসদে করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ সরকার শিক্ষকদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হতে কোন আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের আয় সমূহ রাষ্ট্রীয় কোসাগারে নিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলে সরকার লাভবান হবে।তিনি বছেণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি জাতীয়করণের জন্য অবশ্যই অনুরোধ করবেন। ।

বিশেষ অতিথি জনাব এই আই খান বলেন, সরকার জাতীয়করণের বিষয়ে আগ্রহী, তবে সরকারকে জাতীয়করনের সুবিধাসমূহ বুঝাতে হবে। জাতীয়করণ করতে কী পরিমান খরচ হবে, এবং দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয়ের একটি হিসেব তৈরি করতে পরামর্শ দেন। তিনি শিক্ষকদেও আশ্বাস দেন যে, উক্ত আয়-ব্যয়ের হিসেব তৈরি হলে তিনি এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন।

বিশেষ অতিথি জনাব ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এব হাবিবা রহমানও জাতীয়করণের পক্ষে তাদের মনোভাব ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম (বাবেশিকফো) এর সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল ইসলাম মাসুদেও সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সম্মানিত মহাসচিব জনাব মোঃ আব্দুল খালেক। জনাব আব্দুল খালেক তাঁর লিখিত বক্তব্যে শিক্ষকদের ঐচ্ছিক ছুটিসহ রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের দাবী জানান। তিনি তার বক্তব্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং জাতীয়করণের জোর দাবী জানান।

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরামের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ এর পবিত্র কুরআন হতে তেলায়াত এবং যুগ্ম মহাসচিব জ্যোতিষ মজুমদারের গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন  সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-সভাপতি ওয়ালী আজাদ, সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি কাজী আনোয়ার হোসেন,সহ-সভাপতি এবিএম গোলাম নুর, যুগ্ম মহাসচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আব্দুল হালিম, রেহান উদ্দিন, অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির কামাল, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ গোলাম সাদেক, প্রদীপ কুমার সাহা, আরিঢুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা আবু তাহের, নুরুল ইসলাম,শাহজাহান আলম প্রমূখ।

এর আগে দুপুরে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরামের উদ্যোগে একটি র‌্যালী বের হয়।প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষক এই র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালিটি সেগুন বাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি হতে বের হতে জাতীয় প্রেসক্লাব ঘুরে আবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এস শেষ হয়।

 


Categories