শিক্ষক সমাজের প্রতিবাদ আর নীতিমালা প্রণয়ণ কমিটির অলস ভাব

প্রকাশিত: ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০

এদেশের মানুষকে সুশিক্ষা দিয়ে মানব সম্পদে রূপান্তরিত করার জন্য যুগের পর যুগ কাজ করে আসছেন শিক্ষক সমাজ।শিক্ষক সমাজ শিক্ষাদান করার কারনে দেশের সকল কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে নিয়ম মেনে।শিক্ষার প্রায় ৯৭% কার্যক্রম পরিচালনা হয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। সরকারি ও বেসরকারি পেশায় শতভাগ সফলতার চাবিকাঠি শিক্ষক সমাজ।
সরকারি এবং বেসরকারি সকল পেশার জীবন মান উন্নতির পথে গমন করলেও, আধি/ প্রাচীন নিয়মে স্তব্ধ /দণ্ডায়মান রয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সমাজের জীবন মান! প্রত্যেক পেশাজীবী মান মতো অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটলেও, পরিবর্তনের হাওয়া কেউ লাগেনি বেসরকারি শিক্ষক সমাজের।

বেসরকারি শিক্ষক সমাজের জীবন মানের পরিবর্তনের কথা, সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা করলেই সেখানে সমস্যা দেখা দেয়, যারা দেশের শিক্ষা বিভাগ চালান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাগণের।যারা বেসরকারি শিক্ষক সমাজের জীবন মান পরিবর্তনে, সরকারকে হাত বাড়িয়ে সহযোগিতা করার কতা ছিলো, তারাই সেই উন্নতিকে কিভাবে বাধাগ্রস্ত করবেন,সেই চিন্তায় প্রশাসনের চেয়ারে বসে মহা ব্যাকুল থাকেন!
যদি তাই না হয় তাহলে বেসরকারি শিক্ষক সমাজের এতো হাহাকার শোনা যায় কেনো?

বেসরকারি শিক্ষক সমাজের জীবন মান বাধাগ্রস্ত করার জন্য, কাল্পনিক রকেটের মাধ্যেমে স্হায়ী করা হয় নানান অযৌক্তিক আইনের মহাসাগর। আর এসব অযৌক্তিক আইনের মহাসাগরের সাঁতার মনের মহা আনন্দে, মহা সানন্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাগণ উপভোগ করে থাকেন ময়ূর সিংহাসনে বসে।

১/ যুগ যুগ ধরে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক বেসরকারি কলেজ সমমান শিক্ষকের, সহকারি অধ্যাপক পদোন্নতিতে, অনুপাত প্রথা নামক একটি অযৌক্তিক / অবিবেচ্য আইন করে রাখা হয়েছে।এ অযৌক্তিক আইনটি মোটেও যুক্তিগত নয়, সে বিষয়টি জেনেও না জানার অভিনয় কি দোষের নয়? সে অযৌক্তিক আইন কি সংশোধন যোগ্য নয়? কেনো কলেজ শিক্ষকদের এ অযৌক্তিক আইনের প্রতিবাদ সমাধান হয় না? দ্রুত অনুপাত প্রথা বাতিল করে সমাধান করুণ।

২/ ১৮% কলেজ শিক্ষকরা ৮ বছরে পায় পদোন্নতি, আর অবশিষ্ট ৮২% কলেজ শিক্ষক ১০ বছরে পদোন্নতি পেয়ে,মাত্র এক হাজার টাকার স্কেল পরিবর্তন! গ্রেড পায় ৮ ম!
যে সার্বিসের জন্য ৭ম/৬ ষষ্ঠ গ্রেড পাবার কথা, সেখানে অযৌক্তিক আইন করে দাবায়ে রাখা কি সঠিক বিচার মনেহয়? এসব দেখে মনেহয় এদেশ থেকে সভ্যতা বিদায় নিয়েছে।

৩/ সরকারি ও বেসরকারি পেশায় ধাপে ধাপে পদোন্নতি রয়েছে।শুধু বেসরকারি কলেজ সমমান শিক্ষকের জন্য একটি পদোন্নতির ধাপ সহকারি অধ্যাপক !
সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদটি সৃষ্টি করলে দেশের সাংবিধানিক কোন সমস্যা কি আছে? থাকার তো কথা নয়।মূলত স্বদিচ্ছার অভাব।আশা রাখি দ্রুত এ যৌক্তিক আইনটি বাস্তবায়ন করে,সুচিন্তার প্রসার ঘটাবেন।

৪/ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা – কর্মচারীগণ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ১০০% ঈদ বোনাস গ্রহণ করেন।বেসরকারি শিক্ষকরা পান ২৫%( সিকি) ঈদ বোনাস! শিক্ষকরা ১০০% ঈদ বোনাস নিলে মহাপাপ? পাবার যোগ্য নয়? এ আইন করা যায় না? এ আইন করা কি অযৌক্তিক? শিক্ষক সমাজকে ১০০% ঈদ বোনাস দেওয়া হলো যৌক্তিক।দয়া করে যৌক্তিক কাজ করুণ। তাতে দেশ এবং জাতির সম্মান বাড়বে।

৫/জনগণের টাকায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ তৈরি হয়।আমলাগণ জনগণের টাকায় তৈরি হওয়া ইট, পাথর,বালি,সিমেন্ট ও রড দ্বারা তৈরিকৃত বাড়িতে চাকুরি কাল বসবাস করেন।জনগণের সন্তানকে যে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ মানব সম্পদে রূপান্তরিত করেন, তাদেরকে দেওয়া হয়না কোন সরকারি বাড়ি কিংবা আবাসিক পর্যাপ্ত খরচ!সব কিছুতে নিজেরা খাই খাই! বেসরকারি শিক্ষকদের নামে মাত্র দেয়া হয় একহাজার টাকা বাড়ি/ আবাসিক ভাতা। ন্যায্য অধিকারের পাবার জন্য প্রতিবাদ করলেও শোনেও না শোনার এতো কাহিনী কেনো? আশা রাখি এবার আপনাদের বিবেক জাগ্রত হবে।বেসরকারি শিক্ষকদের পর্যাপ্ত বাড়ি ভাড়া/ আবাসিক ভাতা দেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৬/ শিক্ষা আমলাগণ চিকিৎসার জন্য জনগণের টাকা খরচ করে, বিদেশে কিংবা দেশের আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেন।নেন তাতে কোন সমস্যা নেই।
যে বেসরকারি শিক্ষকরা জনগণের সন্তানকে শিক্ষা দেবার কারনে অসুস্থ হোন, তাদেরকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ভাতা দিলে আপনাদের কিসের এমন ক্ষতি?বেসরকারি শিক্ষকদের চিকিৎসার জন্য নামে মাত্র ৫০০ শত টাকা দেয়া কি পর্যাপ্ত?

৭/ কর্মজীবন সমাপ্ত করে সকল পেশাজীবীরা এক বছরের ভিতরে অবসর উত্তলন করেন।দুঃখের বিষয় অভাগা বেসরকারি শিক্ষক সমাজ, অবসর গ্রহণ করার কত বছর পর অবসর ভাতা পান, তার কোন হিসেব নেই। যে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ দেশের জন্য সারা জীবন কাজ করলেন, এই বিরহ/ ট্র্যাজেডি কি বেসরকারি শিক্ষক সমাজের প্রাপ্য?আশাকরি এসব অসংগতি আগামি প্রজন্ম জানবেনা এসবের সমাধান দ্রুত করা হবে।

বেসরকারি শিক্ষকরা এসব অসংগতির জন্য প্রতিবাদ জানালে আপনাদের এতো অলস ভাব আসাতো সঠিক নয়।সরকার দিতে চায়।আপনারা আনেন। বেসরকারি শিক্ষক সমাজ মনে করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাগণের স্বদিচ্ছার অভাবে, বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার বাস্তবায়ন হচ্ছেনা।

পবিত্র শিক্ষা বিভাগে কাজ করে যাদের হৃদয় পবিত্র হয়না,তাদের দেহে জমজম কিংবা গঙ্গাজল ঢেলেও কোন দিন পবিত্র হবেনা।

আপনাদের জীবন মানের দিকে একটু দৃষ্টি দিয়ে, বেসরকারি শিক্ষক সমাজের দিকে বিবেচনা করুণ। তখন উত্তরটি পেয়ে যাবেন।বেসরকারি শিক্ষকদের অপূর্ণতা পরিপূর্ণ করার সহযোগিতা করুণ। তখন দেখবেন বেসরকারি শিক্ষক সমাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে, রাজপথে অধিকার আদায়ের জন্য আসবেনা,শিক্ষা ব্যবস্থা বহুদূর এগিয়ে যাবে।

লেখকঃ
প্রভাষক মোহাম্মদ আলী শামীম
সমন্বয়ক,
পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজ ।


Categories