শিক্ষকদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ

প্রকাশিত: ১১:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

নূরুল ইসলাম, বগুড়া :

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট। হঠাৎ একদিন বঙ্গবন্ধুর শিক্ষক বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে যান। বঙ্গবন্ধু স্যারকে দেখেই আসন ছেড়ে উঠে বললেন স্যার আপনি! তারপর বঙ্গবন্ধু তাঁর শিক্ষক সাইদুর রহমানকে জোর করে নিজের আসনে বসিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। অধ্যক্ষ সাইদুর রহমানের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদে। বঙ্গবন্ধু নিজের আসন ছেড়ে উঠে সাইদুর রহমান স্যারকে তাঁর আসনে বসিয়ে দিতেই স্যার খুব অস্বস্তিবোধ করে বললেন, তুমি বুঝতে পারছো না, আমি তোমার চেয়ারে বসে কি করে? তুমি হচ্ছ দেশের প্রেসিডেন্ট। বঙ্গবন্ধু তার স্বভাবসুলভ স্নিগ্ধ হাসি ছড়িয়ে বললেন, আপনি তো প্রেসিডেণ্টেরও স্যার। এ কথা বলেই তিনি তার পায়ের কাছে বসে পরলেন।বঙ্গবন্ধু কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়িয়ে জানতে চান , স্যার আমি আপনার কোন ভাবে কাজে আসতে পারেন কিনা-ঐ দিন অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান স্যার বঙ্গবন্ধুর নিকট কোন কিছুই বলতে পারেননি, চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারে ।পরে বঙ্গবন্ধু জানতে পারেন অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান স্যার উনার গ্রামে কিছু প্রতিষ্ঠান করতে চান। স্যারের আশা পুরণের জন্য একটি হাসপাতাল, স্কুল, সোনালী ব্যাংকেরশাখা,ফ্যামিলি প্লানিং , কৃষি অফিস প্রকল্পগুলো রসুল্লাবাদে স্থাপন করেন। তাঁর স্থাপিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অনেক উপকারে আসে ভেবে তিনি সুখ অনুভব করেন ।অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান এর এক সময়কার ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে কোনো মতামত তোয়াক্কা না করে রাসুল্লাবাদের এই প্রতিষ্ঠান গুলো জাতীয়করণ করে দেন। কাজটি করার পর বঙ্গবন্ধু বলেছিল -স্যার আপনি মারা গেলে এসব প্রতিষ্ঠান দেখবে কে? তাই এগুলো জাতীয়করণ করে দিলাম। এ হলো শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের কিছু ঝণ পরিশোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করে শিক্ষকদের সম্মানিত করেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে আসেন। ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর বেসরকারি শিক্ষকগণ জাতীয় স্কেল থেকে বঞ্চিত। এমনি এক মুহূর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রধান শিক্ষক কর্মচারীদের জাতীয় স্কেলের আওতায় নিয়ে এসে বেশিক পরিবারকে সম্মানিত করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের জাতীয় স্কেলের সুবিধা প্রদান করলেও এক শ্রেণীর কুচক্রী মহল ইনক্রিমেণ্ট ও বৈশাখী ভাতা থেকে বঞ্চিত করলেন শিক্ষকদের। পরবর্তীতে বেশিক পরিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলে,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবারও ইনক্রিমেণ্ট ও বৈশাখী ভাতা প্রাপ্তির ঘোষণা দিয়ে শিক্ষকদের সম্মানিত করলেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের হৃদয় গভীরে জায়গা করে নিলেন। এ পর্যন্ত মোট সাতটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে। এসকল কমিশনে শিক্ষাবিদগণ শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের পক্ষে মত দিয়েছেন। এদেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি। মাত্র ৩ শতাংশ সরকারি সুবিধার আওতাধীন। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী ২০ টাকা বেতন দেয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৩০-৬০০ টাকা। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জেলা বা উপজেলা সদরে হওয়ায় সেখানে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা লেখা পড়ার সুযোগ পান। অপর দিকে সমাজের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানেরা অধিক বেতন দিয়ে শিক্ষার মত মৌলিক বৈষম্যের শিকার। একই সিলেবাস, একই বই, একই শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন হয়েও প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী সীমাহীন বৈষম্যের শিকার। বেসরকারি শিক্ষকদের নেই পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বদলি হওয়ার সুযোগ এবং চিকিৎসা ভাতা। পেনশনের কথা বা নাই বললাম। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের বর্তমান সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে ধারণ করে একটি উন্নত সমৃদ্ধ সুখী দেশ গড়ার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।বিচ্ছিন্ন ভাবে নয়, এক সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবী। এতে শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে। সর্বোপরি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।


Categories