শিক্ষকদের আবেগকে পুজি করে মিথ্যাচার জাতীয়করণ আন্দোলনের অন্তরায়

প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

শিক্ষকদের আবেগকে পুজি করে মিথ্যাচার জাতীয়করণ আন্দোলনের অন্তরায়

বেসরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এটি বেসরকারী এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের একমাত্র দাবী ।

২০১৭ সালের পূর্বে বেসরকারী্ এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রয়োজন সেই উপলব্দি টুকু শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে ছিল না । ৪% অতিরিক্ত কর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সৃষ্টি হলে জাতীয়করণের দাবী উঠে আসে । বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের মাথা বিক্রি করে টাকা কামানোর ধান্ধায় বেশ কিছু শিক্ষক সমিতি ছিল যাদের মুল কাজ ছিল ব্ই এর কমিশন ও প্রশ্ন বিক্রি । পরবর্তীতে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হলে কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন গড়ে উঠে অবসর ও কল্যানের সদস্য পদ লাভের আশায় , দূঃখ জনক হলেও সত্য শিক্ষকদের কল্যানে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হলও এগুলি মুলত সরকারী দলের শিক্ষক নেতাদের পুণবাসন কেন্দ্র ছিল। প্রশ্ন বিক্রি ও অবসর ও কল্যাণকে ঘিরে গঠিত শিক্ষক সমিতি বা শিক্ষক সংগঠনগুলি শিক্ষকদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় নি ।

বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম সৃষ্টির পর থেকেই জাতীয়করণ নিয়ে শিক্ষকদের সংগঠিত করতে শুরু করে । বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম এর নেতৃত্বে ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসুচী ঘোষনা করে কিন্তু সেখানে অনুমতি না পেয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয় । প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়ার প্রথম দিনে ছিল শুধু মাত্র বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম । একই সাথে বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের যোগ্য ও দক্ষ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে । অধিকাংশ শিক্ষক সংগঠন সমর্থন জানালেও কৌশলগত কারণে জোটে অংশ গ্রহন করে নাই । তবে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (নজরুল), বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন , কর্মচারী ফেডারেশন সহ ছয়টি সংগঠন মিলে একটি জোট গঠিত হয় ।এই জোটের আহবায়ক ছিলেন বাবেশিকফো মহাসচিব জনাব আব্দুল খালেক ও মুখপাত্র ছিলেন বাবেশিকফো সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব এনামুল ইসলাম মাসুদ। যদিও ছয়টি সংগঠন এর জোটে অবস্থান কর্মসুচী ছিল কিন্তু সেখানে অবসর ও কল্যানের পদধারী ছাড়া সকল শিক্ষক সংগঠনের সমর্থন ছিল । ১৯ দিন অবস্থানের পর ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি , বৈশাখী ভাতা ও জাতীয়করণ এর প্রতিশ্রুতি আদায় করে কর্মসুচী  স্থগিত করে । মনে রাখবেন প্রত্যাহার করে নাই।

এ সাফল্য বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম এর নয়, ইহা পাঁচ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারীদের। শিক্ষক কর্মচারীরা স্বতস্ফূর্ত ভাবে অংশ গ্রহণ না করলে বাবেশিকফোর পক্ষে একা করা সম্ভব হতো না । বাবেশিকফো কোনদিন এ প্রাপ্তি নিজেদের অর্জন বলে প্রচারও করে না। তবে বাবেশিকফোর দক্ষ  নেতৃত্ব ও কৌশলের গুণে এ প্রাপ্তি সকল শিক্ষক কর্মচারী তা স্বীকার করে ।  কিছুদিন পর নজরুল ইসলাম রনি লিয়াজো ফোরাম থেকে বের হয়ে তিনি  পৃথক লিয়াজো ফোরাম করেন । কেন বের হয়ে গেলেন তা আজও অজানা । ফোরাম নাম ব্যবহার করায় বাবেশিকফোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও করা হয় । তিনি কথা দিয়েছিলেন ফোরাম নাম ব্যবহার কববেন না । সম্প্রতি দেখা যায়  তিনি আবারও ফোরাম নাম ব্যবহার করছেন । ৫ই অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মহাসমাবেশের ঘোষনা দিযেছেন । শত শত শিক্ষক বাহাবা দিচ্ছেন , বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের এর পক্ষ থেকেও স্বাগত জানাই ।তবে রনি স্যার ভাল করেই জানেন প্রেস ক্লাবের সামনে মেট্রো রেলের কাজ চলছে সেখানে ১০০০ লোকের ও গেদরিং করানো যাবে না । তাছাড়া এই করোনা মহামারীতে যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ  , সকল কার্যক্রম ভার্চুয়ালে হচ্ছে  সেখানে সমাবেশের অনুমতি পাওযার আশা কত টুকু ।

অনুমুতির আবেদনকে অনুমতি বলে প্রচার করে শিক্ষকদের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা কতটুকু যৌক্তিক । মার্চ-২০২০ এর প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম এর নেতৃত্বে লিয়াজো ফোরাম ও কয়েকটি শিক্ষক সংগঠনকে সাথে নিয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে প্রধান অথিতি করে শিক্ষক সমাবেশ করার পরিকল্পনা করে ও এ নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। পরবর্তীতে করোণা পরিস্থিতিতির কারণে এ কার্ষক্রম স্থগিত হয় । করোণা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সকল শিক্ষক সংগঠনে কে সাথে নিয়ে সমাসমাবেশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে এ নিয়ে স্বাধনিতা শিক্ষক পরিষদ , বিটিএ সহ বিভিন্ন  শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হযেছে । সকলেই পজেটিভ মনোভাব পোষন করেছেন । বাংলদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম যখন পরিকল্পনা মাফিক এগুচ্ছিল তখনই নজরুল ইসলাম রনি স্যার শিক্ষকদের আবেগকে পুজি করে স্ট্যান্ডবাজী  শুরু করে দিলেন নিজে ও তার অনুসারীদের দিযে বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম ও নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যাচার করছেন । বাংলদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম কোনদিনই শিক্ষকদের আবেগকে পুজি করে কৌশল নির্ধারণ করে না। যদি সমাবেশের অনুমতি পান তাহলে আমরা সবাই সমাবেশে যাব । তবে করাণা পরিস্থিতি তে সমাবেশ কতটুকু যৌক্তিক , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের সমন্বয় কতটুকু করা যাবে তা বোধগম্য নয় ।

এরুপ অপরিপক্ষ সিদ্ধান্তের ফলে বাবেশিকফোর পরিকল্পনা ও কৌশল পরিবর্তন করতে হয়েছে সর্বোপরি শিক্ষকরা শিক্ষক সংগঠনগুলির প্রতি আস্থা হারাবে ও জাতীয়করণ আন্দোলনকেও একধাপ পিছিয়ে দিয়েছে ।

জহিরুল ইসলাম

যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক

বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম , কেন্দ্রিয় কমিটি।

 

 


Categories