শতবর্ষে শতদুঃখে চলছে ১১০ বছর বয়সী রহিমার জীবন

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছবি ও তথ্য শেখ সাদী চোখের কোণে পানি ১১০ বছর বয়সী রহিমা খাতুনের। আঁচলে তা মোছেন, আবার জমাট বাঁধে। বেঁচে থেকেও আজ মৃতের শামিল তিনি। স্বামী আব্দুল কাদেরকে হারিয়েছেন প্রায় ৪০ বছর আগে। মায়ের কোনো খোঁজ-খবর নেয় না এক মাত্র ছেলে আয়নাল। রহিমার চোখের পানি দেখার কেউ নেই। না সন্তান, না জনপ্রতিনিধি। বয়সের ভারে এখন তিনি কানে কম শোনেন, ভালো ভাবে চোখেও দেখেন না। কথা বলার মতো শক্তিও তার নেই। যমুনা নদীতে সব কিছু বিলীন হয়েছে ১৯৯২ সালে। নিজের কবর দেয়ার তিন হাত জমি নেই। যমুনায় সব হারিয়ে সেই থেকে এখন পর্যন্ত ওয়াবদা বাধঁই তাদের আশ্রয়। তবুও এ বয়সে এসে জোটেনি বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার মতো সরকারি কোনো অনুদান। বয়স্ক ভাতার জন্য বার বার চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে গেলেও কোনো আশ্বাস নয়, ফিরিয়ে দিয়েছেন শূন্য হাতে। এমনি শতবর্ষী এক অভাগা বৃদ্ধার বাস সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের ঝুনকাইল খাসপাড়া গ্রামে। স্বামী হারানো মেয়ে ছরভানু খাতুন দিন চলে বয়স্ক ভাতার টাকা দিয়ে। নিজের সন্তান নেই। অথচ তার মায়ের নামে জোটেনি বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার মতো সরকারি কোনো অনুদান। ছরভানু খাতুন বলেন, আমার স্বামী সন্তান নেই। অনেক কষ্টে নিজের নামে একটা বয়স্ক ভাতার কাগজ করেছি। ওখান থেকে যে টাকা পাই তা দিয়ে নিজের চলে না। কিন্তু তাই বলে মাকে তো ফেলে দিতে পারিনা। কোন ভাবে জীবন চলে। আল্লাহ আমাদের কপালে এই লিখে রেখেছে।


Categories