**শতবর্ষী এক মায়ের সুখ- দুঃখের গল্প** মিঞা মোঃ এলাহি

প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

আমার নয় মাসের গর্ভজাত সন্তান

আমার শত বছরের প্রসব বেদনার

মুক্তি এনে দিতে গিয়েছিল নয় মাসের এক মহারণে

পূরণ হয়েছিল আমার হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন।

আমি দেখেছিলাম আমার স্বপ্নের স্বাধীনতার মুখ।

শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে আজ পুরোদস্তোর

যৌবনে পা রেখেছে আমার স্বপ্নের স্বাধীনতা

অর্ধশত বৎসর পূর্ণ হতে চলেছে তার।

আর আমি শতবর্ষ ছোঁয়ে বয়সের ভারে ন্যুব্জ আজ।

প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বুকে ধারন করে যাচ্ছি

পাহাড়া দিচ্ছি আমার বুকের মানিক স্বাধীনতাকে।

আমার স্বাধীনতা যে আমারই বিনিময় সন্তান।

আমার রক্ত স্রোত বইছিল যার সারা অঙ্গে

সে যে আর ফিরে এল না!

আমার কিশোর খোকার বয়স

আটকা পড়ে গিয়েছিল সেই সতেরতে

ঊনিশ শ একাত্তরে ছিল সতের

আজ দুই হাজার বিশে এসেও পাড় হয়নি সতের।

কী হয়েছে তাতে?

আমার স্বাধীনতার পতাকায় বৃত্তের লাল রং

তার জমিনের গাঢ় সবুজ রং

আমার খোকার মতই

বদলায় না কোনদিন, বদলাবে না কোন কালে।

তবে-আমার খোকার বিনিময়ে

পেলাম আমি যে আরাধ্য খোকাকে

তার বয়স তো কেউ আটকাতে পারেনি

সে যে আমার হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা

বড় হয়ে উঠছে মাথা উঁচু করে,

উঠবেই চিরকাল-

সবুজ ঘাসের মায়ায়, উর্বর কাঁদা মাটির মায়ায়

বহমান নদীর শীতল জলের পরশে।

এক সময় আমার দু’চোখ ঝাপসা হয়ে আসতো

আমার খোকার প্রত্যাবর্তনের পথ চেয়ে চেয়ে

অবশ হয়ে আসতো আমার সারা তনু- মন

হঠাৎ হঠাৎ কানে বাজতো খোকার কন্ঠধ্বণি

ভর দুপরের খাঁ খাঁ রোদে

অথবা ক্লান্ত বিকেলের শেষে

জয় বাংলা, বাংলার জয়।

আজ  ‘জয় বাংলা’ যে আমার

স্বাধীন বাংলাদেশের  রাষ্ট্রীয় আদর্শেরই বুলি।

৮/৭/২০২০