লাদাখ সীমান্তে সংঘাত উত্তেজনা কমাতে একমত চীন-ভারত

পূর্ব লাদাখের সব সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা পেছাতে ফলপ্রসূ আলোচনা সীমান্তে নির্মাণ কাজ আপাতত স্থগিত রাখবে দুই পক্ষ

প্রকাশিত: ২:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০
কাশ্মীর অঞ্চলের লাদাখের গালওয়ান উপত্যকার বিতর্কিত সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে পারস্পারিক ঐকমত্যে পৌঁছেছেন ভারত ও চীনের সামরিক কমান্ডাররা। সোমবার দুই পক্ষের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকে এ সমঝোতা হয় বলে মঙ্গলবার ভারতের সরকারি সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, এনডিটিভি, এবিপি নিউজ

ভারতের সরকারি সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে, ‘পূর্ব লাদাখের সবগুলো সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা পেছানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং উভয়পক্ষই তা বাস্তবায়ন করতে সম্মত হয়েছে।’

গত সপ্তাহে হিমালয় পর্বতের পশ্চিমাংশে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতার গালওয়ান উপত্যকায় দুই পক্ষের সেনাদের হাতাহাতি লড়াইয়ে ভারতের ২০ সেনা নিহত ও অন্তত ৭৬ জন আহত হয়। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ‘গেস্নাবাল টাইমস’ চীনের দিকেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে উলেস্নখ করলেও বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এরপর থেকে লাদাখ সীমান্তের বেশ কয়েকটি এলাকায় দুই পক্ষের সেনারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে ছিল। বিরাজমান উত্তেজনা কমিয়ে আনতে উভয়পক্ষের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্তের বিতর্কিত অংশে উত্তেজনা লাঘবে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে চীন ও ভারত একমত হয়েছে।

গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে চীনের ৪৩ জন সেনা নিহত হওয়ার যে খবর সম্প্রতি গণমাধ্যমে এসেছে, সেগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান। রোববার ভারতের একজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই সংঘর্ষে চীন অন্তত ৪৩ জন সেনা হারিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।

ওই সংঘাতের জন্য দিলিস্নকে দোষারোপ করে আসছে বেইজিং। সীমান্তে দুই পক্ষের প্রাণঘাতী সংঘর্ষ নিয়ে প্রথম সরকারি প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃত উসকানির’ অভিযোগও তোলে চীন।

সোমবারের বৈঠকে লেহ্‌তে মোতায়েন ১৪ নম্বর কোরের লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরেন্দ্র সিং এবং চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির দক্ষিণ জিনজিয়াং মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের মেজর জেনারেল লিন লিউয়ের মধ্যে প্রায় ১১ ঘণ্টা বৈঠক হয়।

সেনা সূত্রের খবর, বৈঠকে গালওয়ান উপত্যকার ১৫ জুনের চীনের হামলা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান হরেন্দ্র। পাশাপাশি পিএলএর পক্ষ থেকে ৪ জুনের কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত মানা হয়নি বলেও তথ্যপ্রমাণ পেশ করেন তিনি। আলোচনায় স্থির হয়েছে, এলএসিতে উত্তেজনা কমাতে মুখোমুখি অবস্থান থেকে দুই পক্ষই কিছুটা পিছিয়ে আসবে। সেই সঙ্গে, সীমান্তে নির্মাণ কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হবে।

গত ৬ জুন হরেন্দ্র-লিন বৈঠকেও সেনা পেছনোর বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু গালওয়ানে তা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে চীন সেনাবাহিনীর হামলায় নিহত হন কর্নেল সন্তোষসহ ২০ ভারতীয় সেনা।

এদিকে, সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি এলএসি বরাবর স্থায়ী বাংকারসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার বিষয়টিতেও চীনা বাহিনীর কর্মকর্তারা নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছেন বলে ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর। গালওয়ান উপত্যকার পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ এবং ১৫-এর পাশাপাশি গোখরা উপত্যকার ‘হট স্প্রিং’ এলাকার পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৭ এবং প্যাংগং লেকের উত্তরাংশে ফিঙ্গার-ফোর থেকে ফিঙ্গার-এইট পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে চীন।

দুই সেনা নিহতের কথা স্বীকার চীনের, দাবি ভারতের

এদিকে, গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজেদের দুইজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে চীন। দেশটি জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে তাদের একজন কমান্ডিং অফিসার ও একজন সেনা নিহত হয়েছে। সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

পূর্ব লাদাখে চুসুল সেক্টরে সোমবার বৈঠকে বসে দুই দেশের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা। বৈঠকে তাদের দুইজন সেনা নিহতের বিষয়টি স্বীকার করে চীন। সূত্র বলছে, বৈঠকে অধিকৃত জমি না ফেরানোর প্রশ্নে অনড় থাকে চীন। জবাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) অস্ত্র ব্যবহারের নীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়টি চীনকে জানিয়ে দেয় ভারত।

অন্যদিকে, সীমান্তের পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর অবস্থান খতিয়ে দেখতে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে মঙ্গলবার সফর করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান এমএম নারাবাণে। দুইদিন ধরে সেখানকার সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলে জানা গেছে।


Categories