র‌্যাবের হাতে ৫ জন আফিম উৎপাদনকারী আটক, বিপুল পরিমাণ পপি গাছ ও ফল উদ্ধার!

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টারঃ র‌্যাব-৫, সিপিসি-৩ জয়পুরহাট ক্যাম্পের অভিযানে বিপুলসংখ্যক আফিম উৎপাদনকারী পপি গাছ ও পপি ফলসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এবিষয়ে গত ৬ মার্চ জয়পুরহাট সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়াসহ জয়পুরহাট জেলার পুরানাপৈল বনখুর নামক স্থানে বিশাল এলাকা জুড়ে চাষকৃত অবৈধ আফিম উৎপাদনকারী পপি গাছের ক্ষেত পরিদর্শন করে দ্রুত এসব গাছ অপসারনের ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেন যা বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক আকারে প্রচার করা হয়। তারপরও কতিপয় ব্যক্তি পপি গাছগুলো অপসারণ না করলে র‍্যাব ক্যাম্পের আভিযানিক দল কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম. এম. মোহাইমেনুর রশিদ, পিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টায় জয়পুরহাট জেলার সদর থানাধীন পুরানাপৈল বনখুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে প্রায় ১১ বিঘা জমি হতে বিপুল পরিমাণ আফিম উৎপাদনকারী চার লক্ষ তেইশ হাজার পাঁচশটি পপি গাছ ও ষোল লক্ষ চুরানব্বই হাজার পিস পপির ফল উদ্ধার করা হয় এবং অবৈধভাবে আফিমের মূল উপাদান পপি গাছ উৎপাদনকারী ১। শ্রী রাজেন্দ্রনাথ দাস (৬০), পিতা- মৃত বিপুল চন্দ্র দাস, ২। মোঃ নইমুদ্দিন মন্ডল (৬০), পিতা- মৃত রুপচাঁন মন্ডল, উভয় সাং-বনখুর, ৩। মোঃ গোলাম মোস্তফা (৬৫), পিতা- মৃত ইয়াকুব আলী, সাং-বড়তাজপুর, সর্ব থানা- জয়পুরহাট সদর, ৪। মোঃ রিপন সর্দার (৩৭), পিতা- মোঃ আব্দুল রউফ, সাং-পুর্ব বালিঘাটা, ৫। শ্রী নেপাল চন্দ্র দাস (৫২), পিতা- মৃত কুমুন্ড বিহারী দাস, সাং-বালিঘাটা বাজার (১নং ওয়ার্ড), উভয় থানা-পাঁচবিবি, জেলা- জয়পুরহাট।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন যাবৎ ১নং ও ২নং আসামীদ্বয় ৩নং আসামীর নিকট হতে আফিমের মূল উপাদান পপি গাছের বীজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ফসলের আড়ালে পপি চাষ করছিল এবং অধিক লাভের আশায় আশপাশের কৃষকদের পপি গাছ চাষ করার জন্য উদ্ভুব্ধ করে আসছিল। এছাড়াও ৪নং আসামী ১নং ও ২নং আসামীদ্বয়ের নিকট হতে পপি ফল সংগ্রহ করে ৫নং আসামীর নিকট বিক্রয় করে আসছিল বলে স্বীকার করে। উক্ত ধৃত আসামীগণ একে অপরের সাথে যোগসাজশে আফিমের মূল উপাদান পপি গাছ চাষ করে পপি ফল অবৈধভাবে বাজারজাত করে আসছিল।

এবিষয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযানের বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) তথ্যগত সহায়তা প্রদান করে। পরবর্তীতে আইনগত কার্যক্রমের স্বার্থে পর্যাপ্ত সংখ্যক পপি গাছ ও ফলের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও মিডিয়ার উপস্থিতিতে উক্ত বিপুল পরিমাণ পপি গাছ এবং ফল ধ্বংস করা হয়।