“রিফাত হত্যা: আইনজীবীর জিম্মায় মিন্নি, রায় ৩০ সেপ্টেম্বর”

প্রকাশিত: ৪:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

জহিরুল হক, বরগুনা প্রতিনিধি:

রিফাত হত্যা: আইনজীবীর জিম্মায় মিন্নি, রায় ৩০ সেপ্টেম্বর।

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায়
নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে তার আইনজীবীর জিম্মায় জামিন দিয়েছেন আদালত।
জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিজের জিম্মায় নেয়ার জন্য করা জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মিন্নিকে তার মনোনীত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলামের জিম্মায় দেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আছাদুজ্জামান।
বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিন্নির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি খন্ডন শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। যুক্তি খন্ডন শেষে উচ্চ আদালতের দেয়া মিন্নির জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মিন্নিকে নিজের জিম্মায় জামিনের আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম। তার আবেদন মঞ্জুর করে আদালত রায়ের আগ পর্যন্ত মিন্নিকে আইনজীবীর জিম্মায় দেন।। একই সাথে ১০ আসামির পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।
এ বিষয়ে মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, “এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সাথে সাথে উচ্চ আদালতের দেয়া মিন্নির জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর মিন্নিকে আমার জিম্মায় জামিনে মুক্ত রাখার জন্য আবেদন করি। পরে আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করে রায়ের আগ পর্যন্ত মিন্নিকে আমার জিম্মায় জামিন দেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার দিন মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু জানান, প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামীর বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৭৬ জন সাক্ষীর প্রত্যেকেই সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর ২৬ আগষ্ট থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি তুলে ধরেন । আদালতে আজ আসামীপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি খন্ডন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এরপরই মামলার রায়ের দিন ধার্য্য করেন বিচারক। এদিকে সাক্ষীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারী মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। দফায় দফায় সময় চায় মিন্নির আইনজীবী। আদালত সময় বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করায় পিছিয়ে যায় জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানি। আজ মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানি শেষে আদালত মিন্নিকে তার আইনজীবীর জিম্মায় জামিন দিয়েছে।
গতবছরের ২৬ জুন রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। হত্যাকাণ্ডের একদিন পর ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রিফাতের বাবা। এ মামলায় মিন্নিকে প্রধাণ সাক্ষী করেন নিহত রিফাতর বাবা দুলাল শরীফ।
হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর গতবছরের ১৬ জুলাই মিন্নিকে তার বাবার বাসা থেকে বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন রাতেই মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
এরপর টানা ৪৯ দিন কারাভোগের পর গতবছরের তিন সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সাথে কথা না বলার শর্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বরগুনার কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন মিন্নি। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই বাবা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় বাবার বাড়িতেই অবস্থান করেন মিন্নি।
গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মামলায়।
রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন। তবে মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক।

Categories