“রাণীনগরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই লক্ষাধিক টাকার আম গাছের ডালপালা কাটার অভিযোগ; গ্রামবাসির বাধা!”

প্রকাশিত: ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২০
অহিদুল ইসলাম-স্টাফ রিপোর্টারঃ
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা গৌড়দিঘী গ্রামের রাস্তার প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের আম গাছের মূল ডাল টেন্ডার ছাড়াই কেটে গাছ নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডলের বিরুদ্ধে। গাছের ডালগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসিরা বাধা দেওয়ার পর খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে গাছের ডাল জব্দ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওয়াতায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘের গৌড়দিঘী গ্রামে রাস্তা দুই পাশ দিয়ে ইউপি থেকে প্রায় ২০ বছর আগে কয়েকশ আম গাছ লাগানো হয়। গত রবিবার সকালে হটাৎ করে গ্রামের ১৫/২০ জন ব্যক্তি এসে প্রায় ৫০টি আমের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মূল ডাল-ফেনা কেটে ফেলে সেগুলো নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় গ্রামবাসিরা বাধা দিলে তারা গাছের ডালগুলো কাটা বন্ধ করে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে উপজেলা প্রশাসনকে স্থানীয়রা অবগতি করলে প্রশাসনের নির্দেশে গাছের ডাল-ফেনা জব্দ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশের অনুচ্ছিক গ্রামবাসীদের মধ্যে অনেকেই জানান, দীর্ঘ দিন থেকে এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র রয়েছে যারা এইভাবে রাস্তার লক্ষলক্ষ টাকার গাছ চুরি করে কেটে নিয়ে যায়। এই গাছগুলো লাগানোর আগেও শিশু, গামা, ইউক্লালেক্টটর গাছসহ লক্ষ লক্ষ টাকার বড় বড় গাছ ছিল। সেই গাছগুলো একই ভাবে কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রামবাসিরা জানান, গত কয়েক বছর থেকে এই গাছগুলোতে প্রচুর আম ধরে। প্রখর রৌদ্রে পথচারিসহ গ্রামবাসি গাছের ছায়া বসে থাকেন। গ্রামের লোকজন বাধা না দিলে সবগাছগুলো কেটে ফেলা হয়তো। গ্রামবাসি বাধা দেওয়ায় সেই গাছগুলো ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় শ্রমিকরা। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইউপি’র স্থানীয় সদস্য এবাদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংবাদ পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গাছ কাটা হবে এমন তথ্য আমি স্থানীয় সদস্য হিসেবে জানি না; এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
কালীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল বলেন, রাস্তাটি বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নাকি ইউনিয়ন পরিষদ তা জানা নেই। ওই সব গাছ ইউনিয়ন পরিষদের। গাছের ডাল-ফেনা অতিরিক্ত হওয়ায় বিভিন্ন সময় রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে। পর প্রশ্নে তিনি বলেন, টেন্ডার ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ডালগুলো কাটা হয়েছে। পরে রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হবে।
রাণীনগর ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা ইয়াসিন আলী গাছের মূল ডালগুলো কাটার সত্য স্বীকার করে জানান, রাস্তাটি কোন বিভাগের তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইউএনও’র নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে ডালগুলো জব্দ করা হয়েছে। এখন উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, টেন্ডার ছাড়া সরকারি কোন গাছ বা ডাল কাটার নিয়ম নেই। ডালগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহুরুল হক জানান, এ ঘটনায় বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নাম বিহীন সহকারি প্রকৌশলী রাস্তার গাছ কেটে কে বা কাহার ক্ষতিসাধন করেছেন বলে থানায় সাধারণ ডায়রি দায়ের করেছেন। তবে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করেননি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Categories