যৌতুক প্রথা ও সামাজিক চেতনাবোধ

প্রকাশিত: ১:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

নূরুল ইসলাম, বগুড়:

আজকাল যৌতুক প্রথার বলি হচ্ছে নারী সমাজ।সমাজে নারী যত প্রকার নির্যাতিত হচ্ছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় যৌতুক প্রথার কারণে। আমাদের সমাজ জীবনে ভয়াবহ অভিশাপ হিসেবে বিরাজমান এই যৌতুক প্রথা। সত্যিই এক লজ্জাজনক অধ্যায় যৌতুক। মানুষের অর্থলিপস ও লালসা থেকে যৌতুক প্রথার সৃষ্টি। যুগযুগ ধরে ‘পণ’ ও ‘ যৌতুক’ আমাদের সমাজে প্রচলিত হয়ে আসছে যা বর্তমান সমাজে এক মস্তবড় ভাইরাস। আজকাল কন্যাকে পাত্রস্থ করার অভিপ্রায়ে পাত্র পক্ষের অভিভাবককে তুষ্ট করার জন্য সমাজে এই ‘পণ'” বা “যৌতুক” দিতে হয় এবং এভাবে এই “যৌতুক” প্রথা বা “পণ” প্রথা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। নারী নির্যাতনে যৌতুকের ভূমিকা অত্যন্ত বেশি ।এই যৌতুক প্রথা নারী সমাজকে নগণ্য প্রাণী ও পন্যেপরিণত করেছে।পন্যের মত নারীকে অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করার ঘৃণ্য প্রবণতাই যৌতুকের অভিশাপ হিসেবে সমাজে কাজ করছে ।সমাজে যৌতুক প্রথা অত্যন্ত অমানবিক ও জঘন্য প্রকৃতির সামাজিক কলঙ্কিত অনিয়ম ।যৌতুক নারীর মৌলিক ও সামাজিক অধিকার ক্ষুন্ন করেছে ।এতে করে মানুষ হিসেবে সমাজে নারীর মর্যাদা খর্ব করা হচ্ছে ।কাজেই এই মানবতা বিরোধী কুপ্রথার অবসান হওয়া অপরিহার্য। যৌতুক একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে শুধু তাই নয় এর কারনে কত তাজা প্রাণ অকালে ঝরে পড়ছে তা হিসেব করা দুরূহ ও দুঃসহ ব্যাপার। যৌতুক প্রথা সামাজিক নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতা ও নারী নির্যাতন আজ সর্বজন বিদিত। “পন” হিসেবে মোটা অংকের টাকা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী. রঙ্গিন টিভি .ফ্রিজ .স্টীল আলমারি ইত্যাদি সহ অনেক কিছু ।এই সমস্ত দিতে পারলেই বউ খুব ভালো লক্ষ্মী আর দিতে না পারলেই বউয়ের উপর চলে মানবিক যাঁতাকল বা নির্যাতন। কবির কথায় “বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর,অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।” কাজেই নারী সমাজ যাতে নিগৃহীত না হয় ,নিপীড়িত ও নির্যাতিত না হয় এজন্য হীন প্রথা সমাজ হতে বন্ধ করা অত্যাবশ্যক ।এজন্য দরকার সরকার ও জনসাধাগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা। সরকারের শুধু যৌতুক বিরোধী আইন প্রণয়ন করলে চলবেনা। তার জন্য প্রয়োজন সংবাদপত্র, রেডিও , টেলিভিশনে, যৌতুকবিরোধী বাস্তবসম্মত প্রতারণা চালিয়ে ও সামাজিক আত্ম চেতনা সৃষ্টি ।শিক্ষিত জনসাধারণ ও যুবককে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে । যাতে করে যৌতুকের অভিশাপ থেকে সমাজকে রক্ষা করা যায় ।এজন্য নারী সমাজে ব্যাপক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে “যৌতুক” ও ‘পণ” প্রথা বিরোধী মনোভাব ও সামাজিক চেতনাবোধ জাগ্রত করতঃ কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ জঘন্য প্রথাকে সমাজ থেকে চিরতরে বিদায় করা যায়।


Categories